শামীম বখতিয়ার - (Dhaka)
প্রকাশ ২০/০২/২০২১ ০২:২১পি এম

আমি কে

আমি কে Ad Banner

আপনি কি অবাক হচ্ছেন ? 

আমি যদি নিজেকে প্রশ্ন করি   

আমি কে? 

আমি কোথায় ছিলাম? 

আর কোথায় থেকে এসেছি? 

আমার যাপিত জীবনের অধ্যায় শুরু এখানেই কি প্রথম?   

আমিকি কোনো মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া একজন সাধারণ মানুষ?   

যাঁর চারপাশ জুড়ে অন্ধকার? 

যাঁর চারপাশ জুড়ে এমন অনুসরণীয় কেউ নেই!   

কিছু নেই?   

আমি কি অতীত থেকে আসা কোনো সম্ভ্রান্ত মানুষ?   

নাকি ভবিষ্যৎ থেকে আসা একজন ফেঁসে যাওয়া মানুষ যে কীনা সময়ের ইন্দ্রজালে বন্দীত্বের ঘানি টানছেন?     

যাঁর বর্তমানে এসে ভবিষ্যতের পিছুটান দুর্দমনীয় ভাবে হতাশ করছে নিজেকে?   

নাকি আমি কোনো অতীব সুপ্রাচীনতম বোবা পাথর?   

যাঁর কথা বলার শক্তি নেই! 

অধিকার নেই?   

সামর্থ্য নেই?   

আমি তাহলে কি কোনো মানব রূপি অন্যকোন প্রাণ?   

যে কীনা অভিশপ্ত ইন্দ্রজালে আটকা পড়া অভিশপ্ত- এক অধিকারহীন মানব?     

নাকি আমি অন্য কিছু?   

কিম্বা কোনো এক দেবদূতের বরপুত্র?   

যাঁর বিদ্যা বুদ্ধি বিবেক জ্ঞান নিঃসৃত রাতের গোলকধামে আটকে গিয়ে বয়ে বেড়ানো এক অতিমানব?   

যে শুধু বর্তমানকে দেখবে বোবা তোরণের মতোই? 

যে কীনা মরা বৃক্ষের মতোই স্থির থাকবে?   

যে কীনা যৌবনের বৃক্ষ হয়েও তাঁর শরীর ছেঁদ করবে, ছেঁটে দেবে, কিন্তু কিছু বলতে পারবেনা, চিৎকার করতে পারবেনা?     

তাহলে আমি কে? 

হে আমার পথব্রত অধিকারহীন মানব? আমিকি তাহলে এই জগতের মায়াময় ইন্দ্রজালে ফেঁসে যাওয়া কোনো অধিকার বঞ্চিতদের একজন?   

জগতের এই প্রাচীন সূর্য, চাঁদ, তারকাদের আনাগোনা যদি আমি স্বাধীন ভাবে দেখতে পারি- তাদের দিকে আমার দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে পারি,

অনুপ্রবেশ করাতে পারি,

তাহলে কেন এই বোবা শক্তির জগতে প্রবেশ করালে? 

তাহলে কেন থাকবে না কথা বলার অধিকার?   

তাহলে কেন থাকবেনা অন্যায়ের প্রতিবাদী মন? 

তাহলে কেন থাকবেনা স্বীয় স্বাধীনতার পূর্ণ সমর্থন? 

তাহলে কেন?   

পৃথিবী যদি একটি চাঁদের নীচে একটি সূর্যের নীচে ধাবিত হয় ঘূর্ণন করতে পারে তাহলে আমরা আমাদের পথ কেন বেছে নিতে পারবোনা? 

তাহলে আমি আমার সময়ে কেন ফিরে যেতে পারবোনা?   

সময়ের এই মহাবিবর্তনের পথধরে পৃথিবী যেভাবে তাঁর গতিপথ পাল্টেছে সেভাবেই কি আমার পথচলা উচিৎ নয়?   

কোথায় সেই আমার ফিরে যাওয়ার ভবিষ্যৎ প্রবেশদ্বার! যাঁর দ্বারা আমার জীবনের মুক্তি ঘটবে? 

পিছুটানের মুক্তি ঘটবে হৃদয়ের স্পন্দনের স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।   

আমি কি স্বাধীনতার প্রকৃত প্রবেশদ্বারে প্রবেশ করতে পারবোনা?   

আমি কি সেই সভ্যতার আলোকসম্পাত দেখতে পারবো না?   

আমি মুক্তির সেই দিনটিকে এক অনুসরণীয় দিন করে রাখতে চাই 

যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মোহময় ইন্দ্রজাল অপেক্ষমান।   

আমি সেখানে মুক্ত ইথারে প্রাণভরে শ্বাস নেবো।

যেখানে থাকবে অধিকার, স্বাধীনতা, নির্লোভ আত্মসম্মানবোধ আর নির্ভীক জীবনের সব নির্ভরযোগ্য এমনকি বিশ্বস্ত মানুষ। 

সংক্ষিপ্ত


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ