Md.Shagar Hasan
প্রকাশ ২০/০২/২০২১ ১২:২৫এ এম

দেশের উন্নয়ন হয়েছে; হয়নি বাঁশের তৈরী ব্রীজের উন্নয়ন

দেশের উন্নয়ন  হয়েছে; হয়নি বাঁশের তৈরী ব্রীজের উন্নয়ন Ad Banner

সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা উন্নয়নশীল সরকার হিসেবে অত্যন্ত প্রশংনীয়। উন্নয়নের জন্য মাদক-সন্ত্রাস ও দুর্নীতির তালিকা তৈরী হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এখনও সাধারন মানুষের কাছে উন্নয়নের তালিকায় আসেনি মেহেরপুরের গাড়াবাড়িয়া-হিতিমপাড়া খেয়াঘাট পারাপারে বাঁশের সেতু।

যা এখনও নজরে আসেনি কোন রাজনৈতিক নেতার, নজরে আসেনি কোন সরকারী কর্মকর্তার, ব্যবস্থা নেয়নি যথাযথ কর্তৃপক্ষ, নজের দিতে পারেনি সরকারের। যার ফলে অনেকের প্রশ্ন- দেশের সরকারী দল ও বিরোধী দল সব দলেরই লোকই এই সেতুর বুকে পা দিয়ে পারাপার হয়।

কিন্তু বিগত বিএনপির সরকার এবং বর্তমান উন্নয়নশীল আওয়ামীলীগ সরকারও উন্নয়ন করতে পারেনি হিতিমপাড়া খেয়াঘাট পারাপারে বাঁশের সেতু। এখনও পারেনি লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি কমাতে। এখনও দিতে পারেনি একটি পাকা সেতু। যা যথাযথ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা বলে মনে করেন অনেকেই। 

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উন্নয়নশীল সরকার। আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কৌশল ও সাংগঠনিক কাঠামো অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আঘাত, ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করে জনগনের রায় নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে।

যার ফলে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার বাংলাদেশের যে উন্নয়ন করেছে বিশ্বের মানচিত্রে তা রোলমডেল। দেশের আনাচে-কানাচে স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাটসহ সবক্ষেত্রেই ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু এখনও উন্নয়ন হয়নি হিতিমপাড়া খেয়াঘাটের ব্রীজ। দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হলেও হিতিমপাড়া খেয়াঘাটের ব্রীজ দেখে উন্নয়নের কথা থমকে দেয় অত্র এলাকার অল্পশিক্ষিত বা সামগ্রিক উন্নয়নের খোজ খবর রাখে না এমন অনেক সাধারন জনগণ। 

এ ধরনের অনেকেই জানাই মেহেরপুরের গাড়াবাড়িয়া-হিতিমপাড়া খেয়াঘাটে ব্রীজ না হওয়ায় ১৫টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ একটি বাঁশের সেতু দিয়ে মারাত্বক ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে। প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রাই বাঁশ খুটি দিয়ে সেতু তৈরী করে কোন রকমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে।

শত বছরের খেয়া ঘাটটি মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও আজও সুনজরে পড়েনি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের। ফলে দুটি উপজেলার (সদর ও গাংনী) মানুষের সেতু বন্ধন অধরাই রয়ে গেছে।  গাড়াবাড়িয়া-হিতিমপাড়া বাঁশের সেতটিু দিয়ে দুটি উপজেলার (সদর ও গাংনী) ১৫টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে থাকে।

সেতুটির পশ্চিম পাশের অন্তত ১০ টি গ্রামের মানুষকে নিত্যদিন তাদের কৃষি পণ্য বিপনন, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে যেতে হয় পূর্ব দিকের গাড়াবাড়িয়া গ্রামে। পূর্ব দিকেরও ৫টি গ্রামের মানুষকে নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় নদীর অপর দিকের গ্রামগুলোতে।

এ বছর ভারি বর্ষনে বাঁশের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। যার ফলে দীর্ঘ বাঁশের সেতুটি এখন দুর্বল কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে। তার পরেও মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতি প্রয়োজনে সেতুটি দিয়ে পারাপার হচ্ছে। সেতুটি ভেঙ্গে গিয়ে যে কোন সময় মারাত্বক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশংকা এলাকাবাসির। 

কুতুবপুর স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক আক্তারুজ্জামান লাভলু বলেন, মেহেরপুর শহর থেকে উত্তরাঞ্চলের সেতু গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সেতু হচ্ছে গাড়াবাড়িয়া- হিতিমপাড়া সেতু। ভৈরব নদী খননের পর ওই সেতুর আশ পাশে কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চারটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলেও গাড়াবাড়িয়া-হিতিমপাড়া সেতুটি আজও নির্মাণ করা হয়নি। এলজিইডি থেকে বার বার আশ্বাস দিলেও সেতুটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি কেউ । 

বাঁশের সেতু দিয়ে যাতায়াতকারীরা শিক্ষার্থীরা জানান, ব্রীজ না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষার সময় সাঁকো ডুবে গেলে অনেক দুরের রাস্তা কাথুলী ব্রীজ দিয়ে স্কুল কলেজে যেতে হয়। তাতে খরচ বেশি হওয়া সহ পড়াশুনা মারাত্বকভাবে বিঘ্নিত হয়। 

কুতুবপুর স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক রেজাউর রহমান বলেন, দুই উপজেলার দু’টি ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য এই ব্রীজ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। অথচ কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্রীজ হলেও এই ব্রীজ টি আজও হলোনা। 

মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও সমাজকল্যান সম্পাদক ও কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান রানা বলেন, শত বছরের পুরাতন এই খেয়া ঘাটটিতে আজও ব্রীজ নির্মাণ করা হয়নি। ব্রীজটি নির্মাণ হলে দুই উপজেলার ১৫ টি গ্রামের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।

ব্রীজটি দ্রুত নির্মাণের দাবি করে তিনি বলেন এঅঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রানের দাবি ব্রীজ নির্মানের। ব্রীজটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনেতিক উন্নয়ন হওয়ার পাশাপাশি জনগনের দূর্ভোগ কমবে। 

মেহেরপুরের এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, গাড়াবাড়িয়া-হিতিমপাড়া ব্রীজ নির্মাণে প্রপোজাল পাঠানো হয়েছিল। তবে ত্রুটিযুক্ত হওয়ায় তা ফিরে এসেছে। আমরা আবার সংশোধন করে প্রপোজালটি পাঠিয়ে দেব।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ