Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ১৩/০২/২০২১ ০২:০২পি এম

সেবা সংস্থার উপর কর্তৃত্ব চান চসিক মেয়র রেজাউল

সেবা সংস্থার উপর কর্তৃত্ব চান চসিক মেয়র রেজাউল Ad Banner

নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সেবা সংস্থাগুলোর উপর মেয়রের কর্তৃত্ব চান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম জার্নালিস্ট ফোরামের সংবার্ধনা ও মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।   

এ সময় রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সমন্বয়ের অভাবে আগেও অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায় নি। সিটি করপোরেশন উন্নয়নের জন্য যে সমন্বয় সভাগুলো করেন সেখানে দেখা যায় অনেক সময় সেবা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত থাকেন না। দায়িত্বশীল কেউ থাকেন না। তাদের প্রতিনিধি পাঠান, তারা কখনোই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।  ‘আর এ কারনে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপও নেয়া যায় না। এসব সেবা সংস্থার উপর মেয়রের কর্তৃত্ব থাকতে হবে। তাদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে। এটা না হলে কোনো টেকশই উন্নয়ন কখনোই বাস্তবায়ন করা যাবে না, বরং পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করবে।’ 

এ সময় উদাহরণ টেনে মেয়র বলেন, ‘একটি সড়ক হয়তো সিটি করপোরেশন তৈরি করেছে। দেখা যাবে, দুই মাস পর সেবা সংস্থাগুলো এখানে খোড়াখুড়ি শুরু করে দিলো। তাহলে এ সড়ক নগরবাসীর কোনো কাজে আসলো না বরং মানুষের ট্যাক্সের টাকা অপচয় হলো।’ 

দায়িত্বগ্রহনের পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরীর মশা সমস্যার সমাধান করবেন বলে জানান মেয়র রেজাউল। তিনি বলেন, ‘মশা নগরবাসীর জন্য একটি জটিল সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে। দায়িত্বগ্রহণের প্রথম একশ দিনে পুরোটা না পারি অন্ততত ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মশা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেবো।   

‘এছাড়াও নগরীর পরিবেশ রক্ষায় মনোযোগ দেবো। নগরীর সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এগুলোতে ছোটখাটো মেরামত করে যতটুকু পারা যায় নগরবাসীক স্বস্তি দেয়াই হবে আমার প্রথম কাজ।’ 

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনেও উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি। বলেন, ‘কেউ যদি বলে ছয় মাসের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করে দেন তা আমার জন্য সম্ভব না। সরকারের একটি প্রকল্প চলমান আছে, এটি শেষ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। 

‘এ সমস্যা থেকে পরিপূর্ণ মুক্তির জন্য নতুন খাল করতে হবে। এছাড়াও আমাদের অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছেন। তাদের কাছ থেকে খালগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা আমি করবো। এগুলোকে মুক্ত করে জল চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে আগামী ৫ বছরে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সমস্যা সমাধান হবে।’ 

মেয়র বলেন, ‘আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। ৫২ বছরের রাজনৈতিক জীবণে কখনোই কোনো অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত ছিলাম না। ভবিষ্যতেও শতভাগ সততার সাথে কাজ করে চট্টগ্রামকে পরিপূর্ন পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’ 

‘এ শহরে শিশুদের খেলার জায়গা কমে আসছে। আমার চেষ্টা থাকবে প্রতিটি ওয়ার্ডে না পারি যেখানেই জায়গা পাওয়া যাবে বিকেলে শিশুরা যেন একটু মুক্ত বাতাস নিতে পারে সে ব্যবস্থা আমি করবো। এছাড়াও মুক্তবুদ্ধির চর্চার জন্য শহরের কয়েকটি এলাকায় সাংস্কৃতিক জোন করে দেবো যাতে শিশু-কিশোরদের সংস্কৃতিক বিকাশ ঘটে।’  এছাড়াও পরিপূর্ণ নগর গড়ে তুলতে সকল শ্রেনী পেশার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেবেন বলেও জানান তিনি।

রেজাউল করিম বলেন, ‘ব্যক্তি চিন্তায় অনেক সময় ভুল থেকে যায়, সমষ্টিক চিন্তায় ভুল কম হয়।’   ভোটের অধিকার কেউ হরন করে নি  মিট দ্য প্রেসে চসিক মেয়রে কাছে নির্বাচনে কম ভোটার আসার বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার কেউ হরণ করে নি। যারা ভোট দিতে এসেছিলো তারা কিন্তু ভোট দিতে পেরেছে। কেউ বাধা দেয় নি।’   

নির্বাচনে জয় পাওয়া অন্তত ৫ হন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, তাদের সাথে সিটি করপোরেশন চালাবেন কিভাবে জানতে চাইলে মেয়র রেজাউল বলেন, ‘যারা নির্বাচিত হয়েছে তারা সবাই জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হয়েছে। কে সন্ত্রাসী কে না এটা কিভাবে প্রমাণ হবে।’ 

‘তারা অপরাধী কিনা তা প্রমাণ হবে আদালতে। অভিযোগ থাকলেই কাউকে সাইড করে ফেলবো এটা ঠিক না। তারাতো সাজা প্রাপ্ত হয়নি।’ 

করোনার কারণে গত বছরের মার্চে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২৭ জানুয়ারি। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, একজনের প্রাণহানি আর ভোটার খরার মধ্যেই এতে জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।   

নগরীর ৭৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩৩টির ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী পান তিন লাখ ৭৯ হাজার ২৪৮ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের ধানের শীষে ভোট পড়ে সাত ভাগের একভাগ মাত্র। তিনি পান ৫২ হাজার ৪৭৯ ভোট।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ