Feedback

জাতীয়, আরও...

৬৮ বছর বয়সী করোনা জয়ী কাশেম মৃধা

৬৮ বছর বয়সী করোনা জয়ী কাশেম মৃধা
May 03
12:52pm
2020

আই নিউজ বিডি ডেস্ক Verify Icon
Eye News BD App PlayStore
আই নিউজ বিডি ডেস্ক: কাসেম মৃধা। বয়স ৬৮ বছর। করোনা ভাইরাস শুরুর আগেই গিয়েছিলেন তাবলীগ জামায়াতের তিন চিল্লায়। চিল্লা শেষে বাড়িতে আসেন কাশেম মৃধা। করোনার কোনো উপসর্গই ছিলনা তার দেহে। তবুও প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনার টেস্ট করা হয় তার। পরের দিন ঢাকা থেকে টেস্টের রিপোর্ট আসে কাসেম মৃধা করোনা পজিটিভ। চিকিৎসা নেন কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে। ১৫-১৬ দিন চিকিৎসা নেয়া পর সুস্থ হয়ে ওঠেন কাসেম মৃধা। করোনা জয়ী এই কাসেম মৃধার বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের তাশুল্লা বাংলাবাজার গ্রামে। সুস্থ হয়ে ওঠা কাশেম মৃধা জানান, কেউ করোনা আক্রান্ত হলেও যেন সাহস না হারান। আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখেন। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। তবে যেকোনো বয়সের ব্যক্তিই সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমিতো পড়ালেখা জানি না। তবে মানুষের কাছে শুনেছি। বয়স্ক রোগীরা করোনা আক্রান্ত হলে বাঁচার সম্ভাবনা কম। একথা জানার পরও আমি সাহস হারায়নি। আল্লাহকে ডেকেছি। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়িতে এসেছি। তিনি জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই যেনো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে।। প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হলেও একজন আরেকজন থেকে যেন ৩ ফুট দূরত্বে অবস্থান করেন। এ ব্যাপারে কথা হয় নবাবগঞ্জ করোনা ফোকাল পার্সন ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপের সঙ্গে। তিনি জানান, কাসেম মৃধা এখন পুরোপুরি সুস্থ। খুব অল্প সময়ে সে করোনা জয় করতে সক্ষম হয়েছে। তাকে আরও ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। হোমকোয়ারেন্টিন শেষ হলেও তিনি যেন তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থেই অযথা বাসার বাইরে না যান। কেননা করোণা আক্রান্ত ব্যক্তি একবার সুস্থ হয়ে ওঠার পর দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার চতুর্থবারও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে কাসেম মৃধা পুরোপুরি সুস্থ ব্যক্তি। অন্যরা যেমন সাবধানতা অবলম্বন করে প্রয়োজনে বাসার বাইরে যেতে পারবেন। তিনিও তেমনি সাবধানতা অবলম্বন করে বাসার বাইরে যেতে পারবেন। তার সাথে কেউ যেন খারাপ ব্যবহার না করে। এলাকাবাসী কেউ যেন তাকে ডিস্টার্ব না করেন। মোবাইল ফোনে কথা হয় করোনা জয়ী কাসেম মৃধার সঙ্গে। কুশল বিনিময় শেষে মহামারী করোনা জয় করলেন কিভাবে জানতে চাই। জবাবে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার আগেই আমি আল্লাহর রাস্তায় তাবলীগ জামাতের তিন চিল্লায় যাই। ঢাকা থেকে বাগেরহাট, নরসিংদী হয়ে ঢাকার কাকরাইল তাবলীগ জামাতের হেড অফিসে আসি। আসার পর হালকা ঠান্ডা দেখা দেয়। তবে এতে আমার কিছু মনে হয়নি। কেননা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার পর একটু আধটু এমন হতেই পারে। এরপর আমার গ্রামের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের তাশুল্যা বাংলাবাজার বাড়িতে আসি। আসার পরেও আমার জ্বর ঠান্ডা হাঁচি কাশি ছিল না। এমনকি গলা ব্যথাসহ সরনার কোনো উপসর্গই ছিল না। যে কারণে নিত্য প্রয়োজনে বাজারে যাই। বাজারে যাওয়ার পর এলাকাবাসী আমাকে বাসা থেকে বের হতে বারণ করেন। এরপর আমি বাড়িতে চলে আসি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাসায় এসে আমাকে ও আমার পরিবারের সবাইকে বাসা থেকে বের হতে মানা করেন। পরদিন চিকিৎসক আমার নমুনা সংগ্রহ করতে বাড়িতে আসেন। ইচ্ছা না থাকা সত্বেও নমুনা সংগ্রহ করলো। পরদিন খবর এলো আমার করোনা পজিটিভ। এম্বুলেন্সে করে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে। ১৪-১৫ দিন হাসপাতালে থাকার অনুভূতি ব্যক্ত করে কাসেম মৃধা আই নিউজ বিডিকে বলেন, হাসপাতালে যাওয়ার পর নয়দিন আমাকে কোনো ওষুধ দেয়া হয়নি। একদিন চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাইলাম, আমি না অসুস্থ, আমাকে ওষুধ দেয়া হচ্ছে না কেন? তিনি জানালেন, আপনাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সময় মতো আপনাকে সব ঔষধ দেয়া হবে। এরপর আমাকে দশ দিনের মাথায় কিছু ওষুধ দেয়া হলো। আমি যে কেবিনে ছিলাম, ওই কেবিনে আরো চারজন রোগী ছিল। রুমটি নোংরা থাকায়, সব সুন্দর করে পরিষ্কার করি। আর সবাইকে বলি, হায়াত মউত আল্লাহর উপর। তোমরা সবাই আল্লাহকে ডাকো। আল্লাহর উপর ভরসা রাখো। একদিন হায়াত থাকতে কোন মানুষের মৃত্যু হবে না। এরই মধ্যে একদিন আমার টেস্ট করা হয়। টেস্টে করানো নেগেটিভ এসেছে বলে জানানো হয় আমাকে। একথা শুনে আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। এভাবে আরো একবার টেস্ট করা হয়, তখনো আমার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। সর্বশেষ আমার জন্য খুশির খবর আসে। আমাকে জানানো হয়, কাল আপনি চলে যেতে পারবেন বাসায়। আপনি এখন পুরো সুস্থ। তবে বাসায় গিয়ে আরও ১৪ দিন একা থাকবেন। পরিবারের কারো সাথে মিশবেন না।

All News Report

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

বরগুনার রিফাত হত্যাঃ স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

বরগুনার রিফাত হত্যাঃ স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

সীমান্তে নিখোঁজ হওয়ার ১১ দিন পর মৃতদেহ উদ্ধার

সীমান্তে নিখোঁজ হওয়ার ১১ দিন পর মৃতদেহ উদ্ধার

যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ তাদের বিষয়ে কিছু করার নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ তাদের বিষয়ে কিছু করার নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মাধ্যমিকে ফেল করা মাহাবুব এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

মাধ্যমিকে ফেল করা মাহাবুব এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

মিন্নিসহ সব আসামীদের সাজা চাইলেন রিফাতের বোন

মিন্নিসহ সব আসামীদের সাজা চাইলেন রিফাতের বোন

রিফাত হত্যার মাস্টারমাইন্ড মিন্নি: রাষ্ট্রপক্ষ

রিফাত হত্যার মাস্টারমাইন্ড মিন্নি: রাষ্ট্রপক্ষ

ইউএনও ওয়াহিদা খানম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন

ইউএনও ওয়াহিদা খানম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন

মাজহারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন শাওন

মাজহারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন শাওন

হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয়া যুবক ফিরলেন ৬ বছর পর!

হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয়া যুবক ফিরলেন ৬ বছর পর!

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বৃদ্ধি নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বৃদ্ধি নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী

৩০ দিনের মধ্যে জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

৩০ দিনের মধ্যে জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

মিনিকেট চালের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়

মিনিকেট চালের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়

খাদ্যনালী কেটে ফেললেন নার্স, সংকটাপন্ন রুগি

খাদ্যনালী কেটে ফেললেন নার্স, সংকটাপন্ন রুগি

স্পর্শকাতর স্থানে হাত ডান্স গুরুর, যা বললেন নোরা

স্পর্শকাতর স্থানে হাত ডান্স গুরুর, যা বললেন নোরা

বিএনপির সাবেক সভাপতি লৎফর রহমান মিন্টুর ইন্তিকাল

বিএনপির সাবেক সভাপতি লৎফর রহমান মিন্টুর ইন্তিকাল

সর্বশেষ

রাশিয়ার মধ্যস্থতা মানছে না আর্মেনিয়া-আজারবাইজান

রাশিয়ার মধ্যস্থতা মানছে না আর্মেনিয়া-আজারবাইজান

কন্যাশিশু দিবসের ভাবনা

কন্যাশিশু দিবসের ভাবনা

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও হাসছিলেন রিফাত ফরাজী

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও হাসছিলেন রিফাত ফরাজী

নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মুখোমুখি ডোনাল্ড  ট্রাম্প ও বিডেন

নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মুখোমুখি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিডেন

শিশুর জন্ম মুসলিম হিসেবেই, আমি কেবল নিজ ধর্মে ফিরেছি: নারী নব মুসলিম

শিশুর জন্ম মুসলিম হিসেবেই, আমি কেবল নিজ ধর্মে ফিরেছি: নারী নব মুসলিম

হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয়া যুবক ফিরলেন ৬ বছর পর!

হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয়া যুবক ফিরলেন ৬ বছর পর!

কুষ্টিয়ায় হোটেল মালিকগন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেও সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব

কুষ্টিয়ায় হোটেল মালিকগন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেও সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব

বাউফলে জোড়া খুনের বিচারের দাবীতে ঝাড়ু মিছিল

বাউফলে জোড়া খুনের বিচারের দাবীতে ঝাড়ু মিছিল

গল্প

গল্প

ভারতের স্থলবন্দর খুলে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতের স্থলবন্দর খুলে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টপেজ

স্টপেজ

দেশের মানুষ ধর্ষণ, দূর্নীতি ও টাকা পাচারের ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেঃ ভিপি নুর

দেশের মানুষ ধর্ষণ, দূর্নীতি ও টাকা পাচারের ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেঃ ভিপি নুর

মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগ: ৬পদে ৪জন চেয়ারম্যান পরিবারের লোক!

মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগ: ৬পদে ৪জন চেয়ারম্যান পরিবারের লোক!

ফুসফুস ভালো রেখে জীবনযাপন করার জন্য এই ৭টি খাবার খাওয়া উচিৎ

ফুসফুস ভালো রেখে জীবনযাপন করার জন্য এই ৭টি খাবার খাওয়া উচিৎ

সজিনা পাতার গুণাগুণ

সজিনা পাতার গুণাগুণ