Belal Uddin
প্রকাশ ২৭/০১/২০২১ ০১:১৭পি এম

বংশবাদের পলিটিক্স

বংশবাদের পলিটিক্স Ad Banner

মুসলিম লীগের জারতন্ত্র অথবা ভূস্বামীবাদ ও অভিজাততন্ত্রের বিরুদ্ধে সাধারণ গণমানুষের রাজনীতির ধারা তৈরি করার জন্য আওয়ামী লীগের জন্ম। ভূস্বামী ও স্যুটেড-বুটেড ব্যারিস্টারদের হাত থেকে রাজনীতি কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী, স্কুল মাস্টার এবং আম জনতার হাতে নেওয়ার জন্যই আওয়ামী লীগের নাম দেওয়া হয়েছিল, আওয়ামী মুসলিম লীগ। 

অদ্ভুত নিয়তি হলো, সেই আওয়ামীলীগ এখন নানারকম বংশবাদ ও সামন্ততন্ত্র দ্বারা আক্রান্ত। বড়লোক অথবা বড় নেতার ছেলে-নাতিদের হাতে এখন এমপিত্ব- মন্ত্রিত্ব। ৪০ বছরের কর্মী কর্মীর কাতারেই পড়ে আছে।

নওফেল, নিক্সন, শামীম ওসমানদের মত শ'খানেক এমপি পাবেন, যাদের এলাকায় পোড়খাওয়া বহু রাজনৈতিক নেতা-কর্মী থাকা সত্ত্বেও এরা শুধুমাত্র বড় কোনো নেতার বংশধর হওয়ায় রাজনীতির চেয়ার দখলে রেখেছে। 

অনভিজ্ঞতা, দুরাচরণ, অহংকার, দুর্নীতি- লুটপাটের কথা থাকুক, আওয়ামী লীগের গণ রাজনীতির কোনো ছিটেফোঁটাও তাদের মধ্যে নেই। আওয়াজ শুরু হয়েছিল অভিজাততন্ত্রের বিরুদ্ধে আমতন্ত্রের। 

কিন্তু অর্ধশতাব্দী কালের মধ্যেই বাইসাইকেল চালানো নেতাদের বংশধরেরাই পাঁচ-দশটা ল্যান্ড ক্রুজার হাঁকিয়ে চলছে। জনতার দিকে না তাকিয়ে সানগ্লাসের ফাঁক দিয়ে চোখ চলে যাচ্ছে তাদের দূরের কোনো অসাধু স্বপ্নের দিকে।

মজলুমকে উদ্ধারের কথা বলে নতুন জালিমের ধারার অভিষেক কি এভাবেই হয়? ছাতা বদলায়, ছায়া বদলায় না? আমজনতা রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে আমজনতার সারিতে দাঁড়িয়ে থাকে! 

এক সময় হয় নতুন অভ্যুত্থান। আবার বিচ্ছিন্ন আভিজাত্যের হাত থেকে ময়দান সরে যায় নতুন আম জনতার হাতে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ