মোঃমাসুদ করিম
প্রকাশ ২৪/০১/২০২১ ০৬:৪৬পি এম

বৈষম্যপূর্ণ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি

বৈষম্যপূর্ণ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি Ad Banner

একটি বিদ্যালয় সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে শিক্ষকদের সাথে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করে। যে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি যত বেশী সক্রিয় সে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ততবেশী শিক্ষার্থীবান্ধব হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসাবে সম্প্রতি স্নাতক নির্ধারণ করা হয়েছে যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক কারন একজন শিক্ষিত মানুষই শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্তকরন যা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় অনেক বিদ্যালয়ের অবিভাবক স্নাতক যোগ্যতাসম্পন্ন পাওয়া যায় না যে কারনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকই সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত করতে হয়।

এতে যেমন ব্যাবস্থাপনা কমিটিতে উচ্চ শিক্ষিত ব্যাক্তি নিশ্চিত করা গেছে তেমন বিদ্যালয়ের পরিবেশে একজন মানসম্পন্ন সভাপতি পাবার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে যা প্রাথমিকের মানসম্পন্ন শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যাবস্থাপনা কমিটিতে একজন বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করে যেমন সম্মান দেখানো হয়েছে তেমন স্নাতক   বা স্নাতকোত্তর যোগ্যতাসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষকদের বেসরকারি স্কুল বা কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্ত করে সম্মান দেখানো যেত না? কেন এই বৈষম্য?

চাকুরী অর্জনের ক্ষেত্রে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে প্রাথমিক শিক্ষকদের কারণ তাদের চাকুরী  সরকারি কিন্তু রাষ্ট্রীয় পদ পদবীর ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে তুলনামূলক কম মেধাসম্পন্ন বেসরকারি শিক্ষকদের! এটা কি প্রাথমিক শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন নয়? 

প্রাথমিক শিক্ষকরা বেসরকারি স্কুল বা কলেজ শিক্ষকদের হিংসা করে না বরং যে কোন পর্যায়ের শিক্ষকদের রাষ্ট্র  সম্মানিত করলে তারা গর্ববোধ করে। সমস্যা হচ্ছে তারা প্রতিবাদ করে তখন, যখন তাদের অবমূল্যায়ন করা হয় অথবা তাদের নায্য পাওনাটুকু কেড়ে নেওয়া হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থানীয়  একজন  শিক্ষককে প্রত্যেক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করলে স্কুল পাবে একজন উচ্চ শিক্ষিত প্রতিনিধি আর শিক্ষার্থীরা পাবে এক প্রানখোলা পুরানো শিক্ষককে।আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাবে রাষ্ট্রের মূল্যায়ন। 

 প্রাথমিক হোক আর মাধ্যমিক হোক শিক্ষকদেরকে যতবেশি সামাজিক কাজগুলোতে যুক্ত করা যাবে সমাজ তত বেশি স্বচ্ছ ও মানবিক হবে। ব্যাক্তি পর্যায়ে অনেক শিক্ষকই বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত কিন্তু সেগুলো যদি রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তি থাকে তাহলে সেটা হবে সার্বজনীন যার সুবিধা পেতে পারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

শিক্ষকদের শুধুমাত্র বেতন বা গ্রেড বৃদ্ধি করে সমাজে সম্মানিত করা যাবে না এর জন্য সামাজিক মর্যদাও প্রয়োজন হবে। সরকার  অর্থ খরচ না করেও কিভাবে শিক্ষকদের সামাজিক ভাবে মূল্যায়িত করতে পারে এ সম্পর্কে আর ভাবনা আগামীতে শেয়ার করব।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ