Nurul hasan Anowar
প্রকাশ ২০/০১/২০২১ ০৯:২০এ এম

দিহান-আনুশকা, বিকৃত যৌনাচারের প্রকৃত রুপ!

দিহান-আনুশকা, বিকৃত যৌনাচারের প্রকৃত রুপ! Ad Banner

কলাবাগানে যেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে তা এককথায়- বিকৃত যৌনতার চূড়ান্ত রূপ। ডাক্তার বলেন, আনুশকার সাথে স্বাভাবিক কোনো যৌনাচার করা হয়নি। স্বাভাবিক যৌনতার কারণে মৃত্যু ঘটা অসম্ভব। বরং বিকৃত যৌনাচারের চূড়ান্ত রূপটিই তার ওপর প্রয়োগ করেছে লম্পট দিহান। ডাক্তারকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, আনুশকার শরীরে আপনারা কী ধরনের ক্ষত বা আঘাত পেয়েছেন? ডাক্তার বলন, তার শরীরের অন্যস্থানে আমরা কোনো ক্ষত বা আঘাত পাইনি, তবে তার সামনের-পেছনের গোপনাঙ্গগুলোতে আমরা ক্ষতের চিহ্ন পেয়েছি। সেই ক্ষতের কারণেই মূলত আনুশকার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এবং সে মৃত্যুবরণ করেছে। 

গোপনাঙ্গগুলোতে ক্ষতের কারণ কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডাক্তার যেই তথ্য দিয়েছেন তা বিবেকসম্পন্ন কোনো মানুষই কেবল নয়, কোনো জন্তু-জানোয়ারও নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারবে না। ডাক্তার বলেছেন, আনুশকার গোপনাঙ্গে ফরেন বডি তথা সেক্স টয় ব্যবহার করা হয়েছে। সেজন্যই মূলত সে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ফরেন বডি বা সেক্স টয় হলো, কৃত্রিমভাবে তৈরি এমন যৌনপণ্য যা দ্বারা অসৎ উপায়ে একাকী বা সম্মিলিতভাবে যৌনতা চরিতার্থ করা হয়।

বাজারে বিপজ্জনক যৌনপণ্য ফরেন বডি ও অন্যান্য উপাদানের ছড়াছড়ি: খবর আরটিভির। কলাবাগানের ঘটনার দু'দিন পরেই বাজারে অনুসন্ধান চালিয়ে তারা এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। প্রতিবেদনটি পড়ার পূর্ব পর্যন্ত আমিও জানতাম না যে, বাংলাদেশের মতো একটি ধর্মবান্ধব রাষ্ট্রেও পাশ্চাত্যের এসব অবৈধ যৌনপণ্যের কালোবাজার গড়ে উঠেছে। কালোবাজারই শুধু নয়, গড়ে উঠেছে রীতিমতো বিশাল অভয়ারণ্যও।

এসব যৌনপণ্যের ব্যবহার প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে অবাধ এবং সুলভ হলেও বাংলাদেশে এর বিস্তার ঘটেছে সরাসরি ব্লু-ফিল্ম থেকেই। কারণ, এদেশের পশ্চিমা-প্রেমী মানুষেরা পশ্চিমাদের বাস্তবিক জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসে এবং প্রাধান্য দেয় তাদের কৃত্রিম জীবকে। এবং তারই পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ ও অনুকরণ করার মিথ্যা কসরত করে। সেই কৃত্রিমতারই অন্যতম হলো ব্লু-ফিল্ম। বাঙালি পশ্চিমা-প্রেমীরা ব্লু-ফিল্মকে মনে করে সম্পূর্ণ বাস্তব এবং পরম আনন্দদায়ক ও সুখকর। ফলে এসব কৃত্রিম যৌনতা দেখে দেখে তারাও চেষ্টা করে তাদের বাস্তব জীবনে এগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে। এবং কৃত্রিমতাকে বাস্তবতায় রূপ দিতে। কিন্তু এটি সম্ভব নয় কস্মিনকালেও। যেমন সম্ভব নয় গরুকে ছাগল বানানো।

ঠিক এমনটাই করতে চেয়েছিল অপদার্থ দিহান। আনুশকার শরীরে ফরেন বডি ব্যবহার করে ব্লু-ফিল্মের কৃত্রিমতাকে সে চেয়েছিল বাস্তবতার রূপ দিতে এবং পশ্চিমাদের মতোই কুৎসিত উল্লাসে মেতে উঠতে। কিন্তু পরিণাম কেবলই ডেকে এনেছে আনুশকার মৃত্যু এবং তার অসহনীয় লাঞ্ছনা। বস্তুত এটাই হলো পশ্চিমাদের কৃত্রিম জীবনের বাস্তবতা এবং এটাই হলো তাদের অনুসরণ ও অনুকরণের চূড়ান্ত রূপ। এরপরও কি আমাদের বোধোদয় হবে? হবে আশাকরি।

নির্দয়ভাবে আনুশকার মৃত্যুর পর বাঙালি পশ্চিমা-প্রেমীরা ফের আওয়াজ তুলেছে সেক্স এডুকেশনের। তাদের ভাষ্য হলো, স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের সেক্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না থাকার কারণেই মূলত তারা ধর্ষণ বা এধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। এবং তারা এর মোকাবেলা করতে সক্ষম হচ্ছে না। সেক্স সম্পর্কে যদি তাদের ভালোভাবে জ্ঞান এবং জানাশোনা থাকে তাহলে অবশ্যই এধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মোকাবেলা করতে তারা সক্ষম হবে। সুতরাং স্কুল-কলেজগুলোতে সেক্স এডুকেশন বাধ্যতামূলক করা হোক। 

এখানে কিছু কথা বলা দরকার। 

প্রথমত - সেক্স এডুকেশনে'র ধারণা আমরা কোত্থেকে পেয়েছি? সহজ উত্তর - পশ্চিমাদের থেকে। সেক্স এডুকেশন পড়ানোর ফলে পাশ্চাত্যে কি ধর্ষণ কমে গেছে? স্পষ্ট উত্তর - না! বরং আরো বেড়েছে। বহুগুণে বেড়েছে। শতগুণে বেড়েছে। প্রমাণ চাইলে দিতে পারি। সেক্স এডুকেশনের যারা আবিস্কারক তাদের দেশেই যদি এর উল্লেখযোগ্য কোনো ফলাফল পরিলক্ষিত না হয়, বরং হিতে বিপরীত দেখতে পাই, সেক্ষেত্রে বাঙালির অবস্থা কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। সুতরাং, যেই পশ্চিমা-প্রেমীরা সেক্স এডুকেশন বাধ্যতামূলক করা হোক বলে আওয়াজ তুলছে, তারা কি আসলে ধর্ষণ কমাতে চায়? নাকি দেশটাকে ধর্ষণের অঙ্গরাজ্য বানাতে চায়? তা আপনারাই বিবেচনা করুন। 

দ্বিতীয়ত - দিহানের মতো যেই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেপেলেরা ফরেন বডি চিনে এবং এর ব্যবহারও জানে, আপনাদের কি মনে হয় তাদের সেক্স সম্পর্কে কোনো ধারণা বা জানাশোনা নাই? তাহলে হয়তো আপনি বেকুব, আর না হয় জ্ঞানপাপী। কারণ, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া যেই ছেলেমেয়েরা ফরেন বডি সম্পর্কে জানে এবং সেটা ব্যবহারও করে তাদেরকে আর যাইহোক অন্তত সেক্স সম্পর্কে জ্ঞান দিতে হবে না। সুতরাং, সেক্স এডুকেশন নয়, বরং বাধ্যতামূলকভাবে ব্লু-ফিল্ম নিষিদ্ধ করার আওয়াজ উঠুক। শুধু ব্লু-ফিল্ম নয়, চরিত্র নষ্ট হওয়ার আরো যত ধরন এবং রকমের চোরাই পথ ও গলি বয়েছে সবগুলো বন্ধ কারার এবং নিষিদ্ধ করার আওয়াজ উঠুক। তবেই ধর্ষণও যেমন কমবে, তেমনি ধীরে ধীরে পরিশুদ্ধ এবং পবিত্র হয়ে ওঠবে তরুণ প্রজন্মও।

পরিশেষে বলব, একটি সমাজ এবং সভ্যতা টিকে থাকে তরুণদের ওপর নির্ভর করে। তরুণরা হলো সমাজ এবং সভ্যতার শক্তি। তরুণরা যদি সুস্থ থাকে তাহলে সেই সমাজ এবং সভ্যতাও সুস্থ থাকে। তারা অসুস্থ হলে সমাজ এবং সভ্যতাও অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর যদি কোনো কারণে তরুণদের মৃত্যু ঘটে তাহলে সেই সমাজ এবং সভ্যতা পতিত হয় ধ্বংসের মুখে। তাই সমাজ এবং সভ্যতার স্বার্থেই তরুণ প্রজন্মকে আমাদের সুস্থ রাখতে হবে। তাদেরকে ধর্মীয় এবং নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। তাদের চরিত্রকে নিষ্কলুষ এবং পবিত্র রাখার চেষ্টা করতে হবে। চরিত্র নষ্ট হওয়ার সকল চোরাই পথ খুলে দিয়ে এভাবে যদি তরুণ প্রজন্মকে আমরা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেই, তাহলে তারা শুধু নয়, তাদের সাথে ধ্বংস হব আমরাও, ধ্বংস হবে সমাজও, ধ্বংস হবে সভ্যতাও এবং কবর রচিত হবে মাথা উঁচিয়ে হাজার বছর দাঁড়িয়ে থাকা বৃহৎ একটি জাতি-গোষ্ঠীরও। 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ