Nurul hasan Anowar
প্রকাশ ২০/০১/২০২১ ০৯:১৪এ এম

আনুশকার মৃত্যু কেন?

আনুশকার মৃত্যু কেন? Ad Banner

আনুশকার সাথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি ধর্ষণ ছিল না উভয়ের সম্মতিক্রমে সেক্স করতে গিয়ে একসিডেন্ট হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। প্রকৃত ঘটনা জানতে ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

আনুশকার পরিবার বলছে এটি ধর্ষণ। আর দিহানের পরিবারের বলছে তারা রিলেশনশীপে ছিল। তদন্তের পর হয়তো বোঝা যাবে কোন পরিবার কতটুকু সত্য-মিথ্যা বলছে।

কেন নৃশংসতায় জীবন গেল আনুশকার? 

এই প্রশ্নের অনেক রকম উত্তর আসছে। যেই পরিবেশ-পরিস্থিতির ফলে এই মৃত্যু সেই পরিবেশ-পরিস্থিতিকে কি স্বাভাবিক ভাবা যাবে? বিবাহ বহির্ভূত সেক্স বা এর পরিবেশ তৈরীতে পরিবারের বাধা না দেওয়া কি অপরাধ বলে বিবেচিত হবে?

এসবের উত্তর খুজতে গিয়ে মোটাদাগে কতিপয় নারীবাদী ও আপামর জনতা দুই পক্ষে অবস্থান করছে।

কতিপয় নারীবাদীদের বক্তব্যঃ

ধর্ষণের প্রতিটা ঘটনার পরই নারীবাদীরা ধর্ষিতার মা এর ভূমিকায় অভিনয় করতে চান এবং বড় গলায় কিছু মুখস্থ ডায়লগ ডেলিভারি দিয়ে থাকেন। তারা বারবার শুধু পোশাক ও দেহের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য ইনসিস্ট করতে থাকেন। যেমন সে রাতে যদি আনুশকার সম্মতিতে সেক্স হয়ে থাকে তাহলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবেনা। এসব অধিকার প্রতিষ্ঠা হলেই ধর্ষণরোধ সম্ভব। এক নারীবাদী তো ফ্রি সেক্সকে বৈধতা দিতে গিয়ে একধাপ এগিয়ে নিজের মেয়েকে পর্যন্ত ধর্ষকের খাদ্য বানিয়ে ফেললো। 

আনুশকার ঘটনায় সে নারীবাদীর বক্তব্য হচ্ছে, 

আনুশকা একান্তে গিয়ে দিহানকে ধর্ষক হয়ে ওঠার পরিস্থিতি তৈরী করে দিয়ে দোষের কিছু করেনি। একটা মেয়ে রাতে তার ছেলে বন্ধুর বাসায় যেতেই পারে। গ্রুপ স্টাডির জন্য হোক আর সুন্দর সময় কাটানোর জন্য হোক। তাদের মতে, বিয়ের আগে এমন সুন্দর সময় কাটানোটা দোষের কিছুনা।

কিন্তু একান্তে সুযোগ পেয়ে দিহান যখন ধর্ষক হয়ে উঠবে আনুষকা তখন কি করবে, এ ব্যাপারে কোন সমাধান সো কল্ড নারীবাদীদের তত্ত্বে খুজে পাওয়া যায়নি।

আনুশকার মৃত্যু নিয়ে নারীবাদীদের বক্তব্য কি দাড়ালো? দিহান যে একান্তে আনুশকাকে বাসায় ডেকেছিল এই ডাকে সাড়া দেওয়াটি জায়েজ, এ পর্যন্তই। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে এসব মনগড়া নারীবাদ দিয়ে আরেকটি আনুশকার জীবন বাচানো দূরের কথা বরং আরো অনেক দিহান তৈরীর পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

আপামর জনতার রিয়েকশনঃ

নারীবাদের নামে কুযুক্তিপূর্ণ মতবাদ আপামর জনতা খাচ্ছেনা। যার বড় প্রমাণ ঘটনা পরবর্তী আনুশকা ও দিহানের পরিবারের আচরণ। ভিক্টিমের পরিবার বলছে, যৌনমিলনে মেয়ের সম্মতি ছিল না ৷ অতএব এটি ধর্ষণ।

অর্থাৎ তদন্তের পরও যদি প্রমাণিত হয় যে মেয়ের সম্মতি ছিল তাহলে মানে দাড়াচ্ছে, মেয়ের পরিবার সম্মতিটাকে মেয়ের দোষ ভেবেই সেটাকে ঢাকতে চাইছে। অতএব তারাও বিশ্বাস করে, সম্মতির ভিত্তিতে হলেও বিবাহ বহির্ভূত সেক্স অবৈধ। এইটুকু ধর্মবোধ আনুশকার পরিবারের আছে।

দিহানের পরিবারও এই পরিস্থিতিকে বৈধ ভাবছেনা। তারা বুঝতে পারছে ফ্রি সেক্সের নামে ছেলেকে মেয়েদের সাথে অবাধ মেলামেশায় লিপ্ত হতে দিয়ে তাকে ধর্ষক বানানো হয়েছে। এই অপরাধবোধ তাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। লজ্জায় তারা নিজ ছেলের জন্য আইনজীবী পর্যন্ত নিয়োগ করেনি। 

থিউর‍্যাটিকলি, নারীবাদের মূলভিত্তি হবার ছিল সেসব মতবাদ যা নারীর কল্যাণচর্চা করে। কিন্তু আমাদের সো কল্ড নারীবাদীরা নারীকে স্বাধীন বানানোর নাম করে তাদের সম্ভ্রমকে অরক্ষিত করার যাবতীয় তত্ত্ব নিয়মিত আওড়ে বেড়ায়। সেক্স উইদাউট ম্যারেজকে বৈধতা দেওয়া যে প্রস্টিটিউশন ও নারীকে ভোগের পণ্য বানানোর প্রাথমিক ধাপ এসব মানুষ এখন খুব ভাল করেই বোঝে।

মুসলিম হিসেবে আমাদের দেশের আপামর জনতা যতটুকুই প্রাক্টিসিং হোক, একটি হারাম কাজকে হালাল মনে করা যে কুফুরি এই বেসিক ধর্মীয় জ্ঞানটুকু তাদের আছে। নামাজ হয়তো পাচ ওয়াক্ত অনেকে পড়তে পারেনা। কিন্তু নামাজ না পড়লে গুনাহ হবেনা, এই রকম কুফুরি ধারণা আমাদের দেশের মুসলমানরা রাখেনা।

সে কারণেই পাবলিক রিয়েকশন প্রকাশের ক্ষেত্রগুলোতে এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতা জনতার মধ্যে দেখা গেছে। ফ্রি মিক্সিং থেকে ফ্রি সেক্স আর ফ্রি সেক্স থেকে লজ্জার বাধ ভেঙে পার্ভার্ট হয়ে ওঠার দৃষ্টান্ত দিহানরা। এ দৃষ্টান্ত থেকেই অনুমেয় দেহের স্বাধীনতার নামে নারীবাদীদের যিনাকে বৈধ ও স্বাভাবিক মনে করার তত্ত্ব কতটা অন্তসারশূন্য । আর সে কারণেই আমাদের সমাজে কোন নারীবাদী যখন ধর্ষক তৈরীর পরিবেশ নিশ্চিত করতে উঠেপড়ে লাগে তখন জনতার পক্ষ থেকে সেসব নগ্নতার সম্মিলিত  প্রতিবাদ দেখা যায়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ