Thursday -
  • 0
  • 0
sk deen mahmud
Posted at 14/01/2021 11:03:pm

কপিলমুনিতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স দখলমুক্ত

কপিলমুনিতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স দখলমুক্ত

কপিলমুনিতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কমপ্লেক্সের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধনের পর ফের কাটাতারের ঘেরা-বেড়া দিয়ে অবৈধ দখল হয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদের চরভরাটি সম্পত্তির দখলমুক্ত হয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আরাফাতুল আলমের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে কাটাতারের বেড়া অপসারণপূর্বক ঐ এলাকার সকল সরকারী সম্পত্তির অবৈধ দকলমুক্ত করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৯ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক কপিলমুনি মুক্ত দিবসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন উপস্থিত থেকে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক রণাঙ্গন কপিলমুনিতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আরাফাতুল আলম, স্থানীয় ইউএলও হাসমত, উপজেলা সার্ভেয়ার মো: কাওছার আলীসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে কমপ্লেক্সের স্থান নির্ধারণ ও জরিপকার্য সম্পন্ন করেন।

তবে আধুনিক কপিলমুনির রুপকার রায়সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর ভ্রাতা কুঞ্জ বিহারী সাধুর ওয়ারেশরা দীর্ঘ দিন যাবৎ ঐ জমি তাদের বলে দাবি করে জোরপূর্বক ঘেরা-বেড়া দিয়ে ভোগ-দখলের অপচেষ্টা করে আসছিল। এরআগে ঐ জমির বন্দোবস্ত নিয়ে জনৈকা ভূমিহীন বাস্তুহারা মালঞ্চ বিবির সাথে তাদের দখল-বেদখল নিয়ে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে মালঞ্চকে অন্যত্র পুণর্বাসন করা হলেও কুঞ্জ বিহারী সাধুর পৌত্র গংরা ফের ঐ সম্পত্তির দখল নেয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছিলো দক্ষিণ খুলনার অন্যতম প্রধান রাজাকার ঘাঁটির রাজাকাররা। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা আটক করেন ১৫৫ জন রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীকে। রাজাকার ঘাঁটি থেকে উদ্ধারকৃত বিভিন্ন কাগজপত্রের সাথে পাওয়া যায় রাজাকারদের হাতে লেখা এক হাজার ৬০১ জন শহীদের তালিকা। রাজাকারদের পরবর্তী টার্গেট হিসেবে এলাকার আরো ১ হাজার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের তালিকা পাওয়া যায়। ক্যাম্প থেকে এদিন দেয়ালে পেরেকবিদ্ধ সৈয়দ আলী গাজী নামে এক মুক্তিযোদ্ধার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আত্নসমর্পণের খবরে সহচরী বিদ্যা মন্দিরের মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের গণআদালতে এদিন  ১৫১ জন রাজাকারের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীণ গণআদালতের রায়ে এক সঙ্গে এত সংখ্যক রাজাকারের শাস্তির সম্ভবত এটাই একমাত্র ঘটনা। অথচ স্বাধীনতা যুদ্ধের এই ঐতিহাসিক ঘটনার যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি এতদিন।

এমনকি কপিলমুনির মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে নেয়া হয়নি দৃশ্যত কোন কার্যকরী উদ্যোগ। দীর্ঘ প্রতিক্ষারপর অবশেষে বর্তমান সরকার কপিলমুনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং গণআদালতে রাজাকারদের রায় কার্যকরের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সর্বশেষ ৯ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক মুক্তিযুদ্ধর স্মৃতি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। ভিত্তি প্রস্তরসহ চরভরাটি গোটা এলাকা ফের অবৈধ দখল করে নিলে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাদের গোটা কার্যক্রম। তবে ১৪ জানুয়ারি উপজেলা সহকারী কমিশনারের সাহসী পদক্ষেপে নির্ধারিত স্থানের দখলমুক্ত হওয়ায় জনপদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সাধারণ মানুষের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্নপূরণে স্বস্তি ফিরেছে। ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাধুবাদ জানিয়েছেন, উপজেলা সহকারী কমিশনারসহ উপজেলা প্রশাসনকে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) উপজেলা সহকারী কমিশনার স্থানীয় জনৈক মুন্সী মহব্বত আলীর দখলে থাকা সরকারী সম্পত্তির প্রাচীর অপসারণ ও অপর সাংবাদিক মহানন্দ অধিকারী মিন্টুদের একবিঘা সম্পত্তির অবৈধ দখল অভিযোগের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তার সাথে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সার্ভেয়ার মো: কওছার আলী, কপিলমুনি ভূমি অফিসের ইউএলও হাসমত আলী,স্থানীয় সাংবাদিক ও থানা পুলিশ।




শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ