• 0
  • 0
Hasan Ahmed
Posted at 14/01/2021 10:54:am

যেভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন দিহানের বাবা

যেভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন দিহানের বাবা

রাজধানীর কলাবাগানে স্কুলছাত্রী নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ফারদিন ইফতেখার দিহানের বাবা আব্দুর রৌউফ সরকার ছিলেন জেলা রেজিস্ট্রার। আর মা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ঘনিষ্ঠতা ছিল তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে।

অনেক অর্থ ও সম্পদের মালিক তারা। এমন তথ্য জানান দিহানের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর দু’র্গাপুর উপজেলার রাতুগ্রামের বাসিন্দারা। তাদের মতে, বাবার বিপুল অবৈধ অর্থবিত্ত তার উচ্ছন্নে যাওয়ার বড় কারণ।

রাতুগ্রামের বাসিন্দারা জানান, দিহানের বাবা আব্দুর রৌউফ পৈতৃক জমি সম্পত্তি বাদেই বিভিন্ন স্থানে কিনেছেন শতাধিক বিঘার বেশি জমি। আছে আরও সম্পত্তি। রাজশাহী শহরে রয়েছে দুটি বাড়ি, ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট।

বিপুল ধনসম্পদের মালিক হওয়ায় গ্রামেও রয়েছে দিহানের পরিবারের ব্যাপক প্রভাব। এ কারণে নিজের নাম-পরিচয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন গ্রামের মানুষ। পরে তাদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও আছে।

দিহানের বাবা আব্দুর রৌউফ বিভিন্ন স্থানে সাব-রেজিস্ট্রার ও রাজশাহী এবং ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা রেজিস্ট্রার ছিলেন। ২০০৯ সালে অবসর নেন। চাকরি জীবনে বিপুল সম্পদ গড়েন তিনি।

শুধু নিজ গ্রামেই কিনেছেন ৮০ বিঘা ফসলি জমি ও আমবাগান। রাজশাহীর অভিজাত এলাকা পদ্মা আবাসিক ও নগরীর সাগরপাড়ায় দুটি বহুতল বাড়ি আছে। পার্শ্ববর্তী এলাকা নওগাঁর আত্রাইতেও জমি কিনেছেন।

এদিকে দিহানকে ঢাকায় রেখে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ানো হলেও তার বড় ভাই সুপ্ত মাদকাসক্ত। তাদের বাবা গ্রামে থাকেন সুপ্তকে নিয়ে। মা দিহানকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। গ্রামের মানুষদের রউফ পরিবারের সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক নেই বলে গ্রামের মানুষ জানিয়েছেন।

ছোটখাটো কোনো ঘটনা হলেই মা’মলা-মোকদ্দমা দিয়ে গ্রামের মানুষকে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে। বাবার বিপুল অবৈধ সম্পদের কারণে স্বভাব ও আচরণে দিহান কিংবা তার ভাই সুপ্তর জীবনও উশৃঙ্খল হয়েছে-এমন দাবি গ্রামবাসীর।

যা মনে চায় তাই হাতের কাছে পাওয়ার সুযোগ থাকায় দুই ভাই বেশ উশৃঙ্খল। দিহান কদাচিৎ গ্রামে আসত। তার মা শিল্পী বেগম দিহানের সঙ্গে ঢাকাতেই থাকেন।

দিহানের ঘটনার পর তাদের দুর্গাপুরের বাড়িটি বাহির থেকে তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। দিহানের বাবা কোথায় আছেন সেটাও গ্রামের মানুষের জানা নেই। তবে ফোনে দিহানের বাবা বলেন, তার ছেলের বিষয়ে আইন তার নিজের গতিতে চলবে। বিপুল সম্পদের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে আনুশকার মা শাহানুরী বলেন, ঘটনার সময় দিহানসহ চারজন ছিল। ঘটনা শুনে হাসপাতালে যাওয়ার পর দিহানের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, চার বন্ধু তার বাসায় ছিল। দিহানকে আগে থেকে চিনতাম না। ওই দিন ফোন করে সে তার পরিচয় দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বন্ধুদের অপরাধ আড়াল করতে একাই দায় মাথায় নিয়েছে দিহান। হয়তো ওরা জোর করেই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালায়। কিছু খাইয়ে ওকে অচেতন করা হতে পারে।

ঘটনার পর আমার মেয়ের পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। প্রভাবশালী হওয়ায় তিন বন্ধু পার পাচ্ছে বলে অভিযোগ তার। স্কুলশিক্ষার্থীর মা আরও বলেন, ঘটনা শুনে হাসপাতালে যাওয়ার পরই দিহান আমার পা জড়িয়ে ধরে।

সে বলতে থাকে- আমাকে বাঁচান। তিনি বলেন, পুলিশের পরামর্শে তারা মামলায় একজনকে আসামি করেছেন। এখন দিহানের আরও তিন বন্ধুকে আসামি করতে চান। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। তার মেয়েকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। এখন উল্টো অনেকে তার চরিত্র হননের চেষ্টা করছে।

এদিকে দিহানের বাসার দারোয়ান দুলাল আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দুলাল আমাদের বলেন, দিহান ওই ছাত্রীকে বাসায় নিয়ে যান। প্রবেশের বিষয়ে তিনি রেজিস্ট্রার বইয়ে কোনো তথ্য লেখেননি।

দিহান নিয়ে যাচ্ছে বলে দারোয়ান তাকে কিছু বলেননি। এর এক ঘণ্টা পর দিহান ইন্টারকমে যোগাযোগ করে দারোয়ানকে উপরে উঠতে বলেন। উপরে উঠে দারোয়ান দেখেন, মেয়েটিকে সোফায় শুইয়ে রাখা হয়েছে। ওই সময় সোফায় রক্ত লেগে ছিল।

দুপুর ১টা অথবা সোয়া ১টার দিকে দিহান ওই মেয়েটিকে পাঁজাকোলা করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিংয়ে থাকা গাড়ির পিছনের সিটে তুলে দেন দুলাল। তারপর তিনি ওই বাসায় প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে ঘটনা বোঝার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি বাসা থেকে পালিয়ে যান।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাসাটিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ছিল মেয়েটি। এ সময় রহস্যজনক গতিবিধি ছিল তিন ব্যক্তির। পুলিশ প্রধানের ধারণা, সর্বগ্রাসী মাদকের পরিণতিতেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

গত ৭ জানুয়ারি দুপুর ১২.১২ মিনিট। কলাবাগানে দিহানের বাসার সিড়িঘরের দিকে যাচ্ছেন ওই স্কুলছাত্রী। দুপুর একটার দিকে বাসার সামনে রহস্যজনক গতিবিধির দেখা মেলে তিন ব্যক্তির।

তবে তাদের পরিচয় বোঝার উপায় নেই। প্রায় দেড় ঘন্টা পর দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় দিহানের গাড়ি। এ সময়ের মধ্যেই বাসায় যা ঘটার ঘটে গিয়েছিল।

আনুশকার সঙ্গে তার দৈহিক স’ম্পর্কের পরিকল্পনা আগে থেকেই করে রেখেছিলো দিহান। কিন্তু আনুশকা জানতো তারা বাসায় গিয়ে কিছুক্ষণ গল্প করে পরবর্তীতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ফারদিনের ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে যাবে। কিন্তু বাসায় যাওয়ার পরে কথা বলার এক পর্যায়ে দিহান আনুশকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে।

এদিকে আনুশকার রেক্টাম ও যৌনাঙ্গে মিলেছে অস্বাভাবিক ফরেন বডির আঘাত। কি ছিল সেই ফরেন বডি? সেই রহস্যকে কেন্দ্র করে চলছে গভীর অনুসন্ধান।

আনুশকার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যেই মেডিকেল ফরেনসিক টিম ময়নাত দন্তের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে কাজ করে যাচ্ছে সিআইডিসহ আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

এরই মধ্য থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র প্রত্যক্ষ আলামত ও চিহ্নের ভিত্তিতে ধারণা করছে যে- দেশীয় আকৃতির পুরুষাঙ্গ নয়, বরং ফরেন বা বিদেশি বড় পুরুষাঙ্গ আকৃতির কিছু একটা ভিক্টিমের রেক্টামে পুশ করানো হয়েছে।

যে কারণে যৌনাঙ্গ ও রেক্টাম ফেটে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনুশকার সুরুতহাল হয়। সেখানকার ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্বাভাবিক পেনিস দ্বারা রেক্টাম ও যৌনাঙ্গ ব্যবহার করলে এতটা ভয়াবহ পরিণতি হওয়ার কথা নয়।

শরীরের নিম্নাঙ্গে কোন ফরেন বডি সাইজ বা সেক্স টয় কিছু একটা ব্যবহার করা হয়েছে। এক কথায় সেখানে বিকৃত যৌনাচার করা হয়েছে। যার কারনে পরিস্থিতি এতো ভয়াবহ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার পোস্টমর্টেম জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, পেনিস (পুরুষাঙ্গ) দ্বারা এই ইনজুরি মোটেও সম্ভব না। ওটা পেনিসের বাইরে অন্য কিছু ছিল।

যোনিপথ ও পায়ুপথ থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা এই চিকিৎসকের। তিনি বলেন, প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় সে হাইপো ভোলেমিক শকে মারা গেছে।

মানুষের মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা দেহ থেকে অতিরিক্ত তরল বের হয়ে গেলে হৃদপিণ্ড স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়। এ কারণে হৃদযন্ত্র শরীরে রক্ত সরবরাহ করতে পারে না, মানুষ মারা যেতে পারে।

দিহানের ভাই বলেন, হঠাৎ দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে দিহান আমাকে ফোন দিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে কথা বলে। জীবনে ওকে আমি কখনও কান্না করতে দেখিনি।

ফোন দিয়ে বলে, ভাইয়া বাসায় বান্ধবীকে নিয়ে এসেছিলাম। অজ্ঞান হয়ে গেছে। হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। তুমি আসো, তুমি ছাড়া আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।

দিহানের ভাই আরও বলেন, আমি ভয় পেয়ে যাই। তখনই আমার কর্মস্থল থেকে বের হয়ে এসেছি। দিহান বারবার ফোন দিচ্ছে ভাইয়া তুমি দ্রুত আসো। পরে দুপুর ১টা ৫০-এর দিকে আবার ফোন করে।

তখন বলে, ভাইয়া ও তো মারা গেছে। তখন আমি বলি, কে মারা গেল ঠিকঠাক মতো বলো। দিহান বলে, তুমি হাসপাতালে চলে আসো দ্রুত।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ