Wednesday -
  • 0
  • 0
জাহাঙ্গীর আলম কবীর
Posted at 14/01/2021 12:07:pm

২০২০ সালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল সন্তোষজনক

২০২০ সালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল সন্তোষজনক

গত বছর সাতক্ষীরা জেলার মানুষ শান্তিতেই ছিল। অন্যান্য বছরের তুলনায় ২০২০ সালে অপরাধের সংখ্যা ছিল খুবু কম। সবার নজর কাড়ার মতো। সবই সম্ভব হয়েছিল পুলিশের আন্তরিকতায়। পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও নেতৃত্বে এই সফলতা অর্জিত হয়। জেলার ৭টি থানার অফিসার ইন চার্জরা অপরাধ দমনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

পুলিশের একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সমগ্র জেলায় গৃহ ডাকাতি হয়েছে ২টি। রাস্তায় দস্যুতা হয়েছে ১২টি। অরাজনৈতিক খুন হয়েছে ৩৮টি। আইন শৃঙ্খলা অপরাধ দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এর অধীনে ছিনতাই হয়েছে ৩টি। আইন-শৃংখলার ক্ষেত্রে মোট অপরাধের সংখ্যা ৫৫টি। পুলিশ আক্রান্ত হয় একজন। সিঁধেল চুরি হয় ৩৯টি। গবাদিপশু চুরি হয় ২০টি, গাড়ি চুরি হয় ২৬টি, অন্যান্য চুরি হয় ৫৪টি। মোট চুরি হয় মাত্র ১০০টি।

আরও জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে ২টি। সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা হয় ১৫টি। বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালান ব্যতীত ১০টি মুদ্রা ও স্টাম্প সংক্রান্ত মামলা ২টি, অন্যান্য মামলা হয় ১২৭২টি। অস্ত্র আইনে মামলাটি বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় ২টি, মাদকদ্রব্য মামলা ৬৮৭টি, চোরাচালান ১৬৫টি। মোট ৮৬৩ মামলা হয়। রজুকৃত সর্বমোট মামলা ২৭০০টি। ২১টি এসব মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির সংখ্যা ৩৩৫৭টি। সকল তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০১৮ ও ২০১৯ সালের চেয়ে জেলায় অপরাধ কম সংঘটিত  হয়েছে।

২০২০ সালে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে এসিড নিক্ষেপ ও গুরুতর আহত ঘটেনি। তবে অন্যান্যভাবে ৩০০ জন নির্যাতিত হয়। আর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৫৬টি। শিশু নির্যাতন হয়নি একটিও। অপহরণের ক্ষেত্রে পণবন্দী হয় ১জন। অন্যান্যভাবে অপহৃত হয় মোট ৬জন। পাচারের জন্য অপহরণের কোনও ঘটনা ঘটেনি।

২০২০ সালে জেলায় রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দাঙ্গাও হয়নি। বাস-ট্রাক ডাকাতি, মিল ডাকাতি, খুনসহ ডাকাতি, এ ধরনের কোন অপরাধ সংঘটিত হয়নি। বাড়িতে ডাকাতি, রাজনৈতিক খুন ও দাঙ্গায় কেউ মারা যায়নি। চাঁদাবাজি, যান চলাচলে বাধা, যানবাহনের ক্ষতিসাধন, সম্পত্তি বিনষ্ট, ত্রাস সৃষ্টি, দরপত্রে বাধা প্রদান, দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি এ ধরনের কোন অপরাধের দেখাও মেলেনি।

এছাড়া সাতক্ষীরা জেলায় ২০২০ সালে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে ৩২১টি। এরমধ্যে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে ১৪৩ জন। বিষপানে আত্মহত্যা করে ৮০ জন। গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ১জন। পানিতে ডুবে মারা যায় ৩৯ জন। সাপে কেটে মারা যায় ১ জন।

বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যায় ৩৫ জন। বজ্রপাতে মারা যায় ১ জন এবং বিভিন্ন কারণে মারা যায় ২০ জন। আবার এরমধ্যে ১৫৭ জনই পুরুষ এবং বাকি ১৬৪ জন মহিলা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ