Saturday -
  • 0
  • 0
মো.সাইফুল ইসলাম
Posted at 14/01/2021 07:52:am

ছেলেদের ত্বকের যত্নে করণীয়

ছেলেদের ত্বকের যত্নে করণীয়

গতানুগতিক ধারায় বেশিরভাগ মানুষই ভেবে থাকেন ত্বকের যত্ন কেবল মেয়েদের জন্যই, তাই মেয়েরা বেশি মেকআপ নেয়। কিন্তু ছেলে, মেয়ে শ্রেণি ভেদাভেদ ভুলে বিচার করে দেখা যায় সব মানুষেরই ত্বকের যত্ন নেয়ার সমান প্রয়োজন আছে। বরং ছেলেদের ক্ষেত্রে একটু বেশিই লাগে, কারণ দিনের একটা বেশিরভাগ সময় ছেলেরা বাইরে থাকে।

নিজেকে সুস্থ রাখতে আর স্মার্ট আউটলুক ধরে রাখতে ত্বকের যত্নের কোন জুড়ি নেই।কিন্তু ত্বকের ব্যপারে ছেলেরা সবসময়ই একটু উদাসীন। যেহেতু ঋতু পরিবর্তনের সময় আমাদের ত্বকের সহনশীলতা কমে যায়। শীতের সময় ত্বকের জন্য একটু আলাদা যত্ন নিতেই হবে। 

ত্বক বিশেষজ্ঞদের বদৌলতে কীভাবে ছেলেদের ত্বকের যত্ন নিবেন, তার কিছু পরামর্শ এখানে দেয়া হলো - 

▪যেহেতু ছেলেরা বাইরে বেশি থাকে তাই সতর্ক হয়ে রোদে চলাচল করতে হবে। প্রয়োজনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

▪শীত মানেই গোসলে আলসেমি। অতিরিক্ত ঠান্ডায় গোসলে সমস্যা হলে গরম পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন কুসুম গরম হয়। ত্বকের মসৃণতা বজায় রাখতে গোসলের পর গায়ে লোশন মাখা যেতে পারে। এতে প্রায় সারাদিনই ত্বকের মসৃণতা রক্ষা করা যায়।  

▪চেহারায় অতিরিক্ত ময়লা জমা থেকে বাঁচতে হলে দিনে কয়েকবার মুখ ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সভ্যের পরিচায়ক, তা তো মানুষ মাত্রই জানি। 

▪ত্বকের কোমলতা ঠিক রাখতে মুখ ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ক্রীম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কেমন মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করছেন সেদিকে সতর্ক থাকবেন। 

▪ আপনার পছন্দের ফেসিয়াল ক্লিনজার ব্যবহার করে আপনার মুখ পরিষ্কার করুন। পছন্দের ফেসিয়াল ক্রিম ব্যবহার করে মুখকে ময়েশ্চারাইজ করুন।

▪ চোখের নীচে ত্বকে আইব্লাম লাগাতে পারেন।

▪ঠোঁটের রুক্ষতা থেকে রক্ষা পেতে ঠোঁটে লিপব্লাম ব্যবহার করা যেতে পারে।   

▪সন্ধ্যায় স্কিনকেয়ারে পছন্দের ফেসিয়াল ক্লিনজার ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করুন। সন্ধ্যায় কাঠকয়ল ক্লিনজার ব্যবহারেও ত্বকের গভীর পরিষ্কারে কাজে দেয়। দিনের তুলনায় সন্ধ্যায় লোশনের ঘ্রাণ শুষে নেয়ার আগেই কিছুটা ঘন ময়শ্চারাইজিং ফেসিয়াল ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের ময়েশ্চারাইজ ধরে রাখা যায়।

▪শেভ করলে ছেলেদের চামড়ায় এমনিতেই আলাদা একটা চাপ পড়ে। আর শীতকালে শেভ করলে তো ত্বক আরো খসখসে হয়ে যায়। যথাযথ শেভিং ক্রিম ব্যবহার না করলে ত্বকে নানারকম সমস্যা দিতে পারে। এজন্য ভালো মানের শেভিং ক্রীম ব্যবহার করা প্রয়োজন।এছাড়াও শেভ করার পর মুখে আফটার শেভ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বকের রুক্ষতা কাটিয়ে তোলা যায়।

▪ যারা তৈলাক্ত ত্বকদ্বারী, তাদের অয়েল ফ্রি ফেসওয়াশ ও সাবান ব্যবহার করা উচিত। কারণ, অতিরিক্ত তৈলাক্ততার কারণে চেহারায় ধুলো-ময়লা বেশি জমে। 

▪শীতে কম পানি খেলে ত্বকের রুক্ষতা বেড়ে যায়।এজন্য বেশি বেশি পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাটা জরুরী। এতে ত্বকের রুক্ষতা কমে। 

▪শীতকালটা যেহেতু শাক সবজির মৌসুম,তাই যত বেশি পারা যায় শাকসবজি খাওয়া উচিত। এতে ত্বক সুস্থ থাকে আর মন মন থেকেও সুস্থ থাকা যায়। 

▪ত্বকের জন্য ফল খাওয়া সবসময়ই উপকারী। তাই মৌসুমি ফলমূল খাওয়ার প্রতি অনিহা থাকলে চলবেনা। প্রতিদিন কমপক্ষে যেকোন একটি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

▪ বেশিরভাগ ছেলেদের মুখে র‌্যাশ বেরোয় এবং অনেক দাগ দেখা যায়। এক্ষেত্রে সেরা মেকআপ পণ্য টোনার। রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে ত্বকে টোনার প্রয়োগ করা যেতে পারে। টোনার ত্বকের ময়লা হ্রাস করে পনেরো দিনেই দাগ দূর করতে কার্যকরী। 

▪ অগোছালো জীবনযাত্রা ছেলেদের ত্বকে বেশি প্রভাব ফেলে। ব্যস্ততার কারণে সুষম খাদ্যগ্রহণ এবং পানীয় পানের ক্ষেত্রে ঘাটতি লক্ষণীয়। অতিরিক্ত বাইরের খাবারও ত্বককে নিস্তেজ করে দেয় এবং মুখের উজ্জ্বলতা হারায়। অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাবও ত্বকে প্রভাব ফেলে। তাই জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরী, যেমন - সময়মতো ঘুমানো এবং স্বাস্থ্যকর ডায়েট অনুসরণ করা। এতে ত্বক তার সৌন্দর্য ফিরে পায়। 

এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে ত্বক সুস্থ থাকবে, ত্বক সুস্থ থাকলে আপনি সুস্থ থাকবেন। আর সুস্থ থাকা মানেই মন ভালো থাকা। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ