Tuesday -
  • 0
  • 0
Nesarul Islam
Posted at 13/01/2021 09:39:pm

যেরকম ছিলেন বঙ্গবন্ধু

যেরকম ছিলেন বঙ্গবন্ধু

মাদ্রাসার জন্য সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দেওয়া হলে বঙ্গবন্ধু ফাইল এর উপরে লিখেছিলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য যে বরাদ্দ এতদিন ছিল সেটাই থাকবে।তবে ভবিষ্যতে এ বরাদ্দ বাড়ানো যায় কিনা এবং কতটা বাড়ানো যায় তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

একদিন চানখারপুলের আওয়ামী লীগের যুব কর্মীরা আমাকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে গেল। তাদের আবেদন তিনি যে সুস্থভাবে পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছেন সেজন্য তারা একটি উৎসব করবে। উৎসবের জন্য কিছু টাকা প্রয়োজন।

তিনি তাদেরকে বলেন, পাবি টাকা ,আমি দেব ,তবে কি করবি? আমরা বাজি পোড়াবো ,গান বাজনা করব। তিনি তার ক্রোধের অনবদ্য ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করলেন ঐ, মুসলমানরা খুশি হইলে বাজি পোড়ায়, না মিলাদ পড়ায় ? যা মিলাদের ব্যবস্থা কর। আর সৈয়দ সাহেবকে দিয়া মিলাদ পরাইয়া দে।

আমি প্রতিবাদ করে উঠলাম, আমি মিলাদ পড়াতে জানিনা। তিনি একটি ছন্দ রাগ দেখে আমাকে বললেন, মিথ্যা কথা কন ক্যান ,আপনি পড়াবেন যান।

যাইহোক মিলাদের অনুষ্ঠান হয়েছিল এবং সেজন্য মৌলভী সাহেব আনা হয়েছিল। মিলাদের পর দেখা হয়েছিল এবং একেবারে শেষে  কিছু বাজি ও পোড়ানো হয়েছিল।

টেলিভিশনের তৎকালীন মহাপরিচালক জামিল চৌধুরী আমাকে দিয়ে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কথা রেকর্ড করে নিল।এগুলো ছিল জীবনযাপনের ন্যায় নীতি সংক্রান্ত কথা।সে আমাকে জানালো যে হতো বাংলাদেশ এখন ধর্মনিরপেক্ষ দেশ সুতরাং রেডিও-টেলিভিশনের অনুষ্ঠানের শুরুতে কোন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হবে না, তার পরিবর্তে কিছু আদর্শগত বাণী পাঠ করা হবে। এই বাণী বোধহয় একদিন কি দুইদিন টেলিভিশন থেকে পাঠ করা হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু এ বাণী শুনে ভয় অনেক দুষ্ট হয়ে জামিল চৌধুরী কে ডেকে পাঠান। সেখানে এম আর আখতার মুকুল এবং আরো কয়েকজন ছিলেন। সম্ভবত আওয়ামী লীগের নেতা টাঙ্গাইলের আব্দুল মান্নান সেখানে ছিলেন।সকালবেলায় কিসের শব্দ শোনা যায়,গানের না হরিবোলের? সবাই তখন তটস্থ হয়ে গেছে।তিনি তখন নিজেই উত্তর দিলেন মুসলমানের ঘরে কোরআন শরীফ এর আওয়াজ শোনা যায়। আজ থেকেই রেডিও-টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমি কোরআন শরীফ এর আওয়াজ শুনতে চাই।

তিনি অবশ্য অবিকল এ ভাষায় বলেননি। তার একটা দেশজ ভঙ্গি ছিল, সেটা সবাই জানেন। তার বলার ভঙ্গিতে একটা স্বাভাবিক বলিষ্ঠ প্রত্যয় ধরা পড়ত।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ