Thursday -
  • 0
  • 0
Md. Emdadul Haque
Posted at 13/01/2021 06:38:pm

বগুড়া ব্যবসায়ী হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন: পরিবারের ৫ জন আটক

বগুড়া ব্যবসায়ী হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন: পরিবারের ৫ জন আটক

বগুড়ার শেরপুরের চাঞ্চল্যকর ফরিদুল হত্যা মামলায় ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জমি-জমা বিরোধ এবং টাকা পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত দেনা পাওনার কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

আসামীরা হলেন, নিহতের সৎ শ্যালক ওমর ফারুক (৩৫), চাচা আব্দুর রাজ্জাক (৫৮), ভাতিজা ফারুক আহম্মেদ (৩০), আপন ছোট ভাই জিয়াউর রহমান জিয়া (৪০) ও তার স্ত্রী শাপলা খাতুন (৩৫)। 

জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা তার কার্যালয়ে বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।   

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার দিন ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টায় নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হন রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম (৪৮)। সে স্থানীয় ছোনকা বাজারে ব্যবসা চালাতেন।   

নিহত ফরিদুলের মায়ের জমি-জমা নিয়ে তার অন্যান ভাইদের সাথে বিরোধ ছিল। সে কৌশলে মা ও বোনদের থেকে মূল্যবান জায়গা রেজিস্ট্রি করে নেয়। ফলে তার ভাইয়েরা তার প্রতি চরম ক্ষীপ্ত হয়।

অন্যদিকে সৎ শ্যালক ওমর ফারুকের কাছ থেকে সে ৩ লক্ষ টাকার জমি বন্ধক নেয় পাওনা বাবদ। এসব বিষয় নিয়েই তার ছোট ভাই ও সৎ শ্যালক মিলে হত্যার পরিকল্পনা নেয়। নিহতের স্ত্রী চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে গেলে সে বাড়িতে একাই ছিল। এই সময়টাকে ঘাতকেরা উপযুক্ত সময় হিসবে বেছে নেয়। 

হত্যার আগের দিন নিহতের চাচা আসামী জিয়ার বাসায় বৈঠক ডেকে সব পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ৫ তারিখ সন্ধ্যায় আসামীরা ধারালো চাকু সহ ল্যাট্রিনের উপর দিয়ে ভিকটিনের বাসায় প্রবেশ করেন৷   

নিহত ফরিদুল তার কৃষি জমিতে কাজ শেষে বাড়ি প্রবেশ করলেই আসামীরা ধারালো চাকু ও বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ও মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পরে নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।   

দুলাভাইকে হত্যার পর মানষিক ভাবে ভেঙে পরে সৎ শ্যালক ওমর। এরপর সে নিজে বাড়ি থেকে পালিয়ে মানিকগঞ্জ চলে যায়। 

এবং স্ত্রীকে ফোন করে অপহরণ নাটক সাজায়। পরে শেরপুর থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মানকিগঞ্জ জেলা থেকে তাকে উদ্ধার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হত্যাকান্ডের সাথে তাদের সম্পৃক্তা স্বীকার করে। পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শেরপুর থানা পুলিশ  ইটালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাকি ৪ আসামীকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।   

সাংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামী সৎ শ্যালক ওমর ফারুক ও ভাতিজা ফারুক আহম্মেদ ঘটনায় জড়িত স্বীকার করায় জবানবন্দি নিতে আজ আদালতে প্রেরণ করা হবে ও বাকি ৩ আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।   

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যথাক্রমে- (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী, (অপরাধ) আব্দুর রশিদ, (ডিএসবি) মোতাহার হোসেন, শেরপুর সার্কেল গাজীউর রহমান, মিডিয়া ও সদর সার্কেল ফয়সাল মাহমুদ, শেরপুর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম, সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর ও ডিবির ওসি আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।   


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ