• 0
  • 0
Gowtom Buddha Paul
Posted at 13/01/2021 03:51:pm

ট্রাম্পের অভিশংসনের রাজি নন পেন্স

ট্রাম্পের অভিশংসনের রাজি নন পেন্স

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা ক্যাপিটল ভবনে উগ্র ট্রাম্প-সমর্থকদের হামলার পর বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে নির্ধারিত সময়ের আগেই পদ থেকে সরাতে ডেমোক্র্যাটরা যে অভিশংসন প্রস্তাব এনেছে, তাতে তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেকেই সমর্থন জানাতে যাচ্ছেন।

তবে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ২৫-তম সংশোধনী উত্থাপন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এরইমধ্যে হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। 

সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার দায়ে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করতে বুধবার (১৩ জানুয়ারি) প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটির কথা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েই ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলা চালিয়েছে তার সমর্থরা। বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতাও ডেমোক্র্যাটদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

তারা ঘোষণা দিয়েছে, ট্রাম্পকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেবে তারা। ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ২৫ তম সংশোধনী উত্থাপনের জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সের প্রতিও আহ্বান জানানো হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে ২২৩-২০৫ ভোটে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও পাস হয়েছে।   

সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির মেয়ে ও প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্য লিজ চেনিসহ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেবেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট টুমি ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বলেছেন, ‘আমার মনে হয় দেশের জন্য এখন সবচেয়ে ভালো হবে যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প পদত্যাগ করে দ্রুত বিদায় নেন।

আমি জানি তা হয়ত হবে না। তবে এটা হলেই ভাল হতো।’  হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভের তৃতীয় সিনিয়র রিপাবলিকান লিজ চেনি বলেছেন, ‘পার্লামেন্ট ভবনে হামলার পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ট্রাম্পের অভিসংশনের পক্ষে ভোট দেবো।’আরেক রিপাবলিকান সদস্য পিটার মেইজার বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প শাসন করার যোগ্যতা হারিয়েছেন।  ২৫ তম সংশোধনী হলো এমন এক প্রক্রিয়া যার মধ্য দিয়ে ট্রাম্পকে তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম বলে ঘোষণা করা যাবে।

এরপর তার মেয়াদের বাকি সময়টুকু ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স। তবে তা করতে রাজি নন তিনি।  মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে উদ্দেশ্য করে পেন্স লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আর আটদিন বাকি আছে। ডেমোক্র্যাটিক ককাস এবং আপনি চাইছেন মন্ত্রিপরিষদসহ আমি যেন ২৫তম সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করি।

আমি মনে করি না এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদের দেশের মানুষের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তা আমাদের সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।’  পেন্স আরও লিখেছেন, ‘আমাদের সংবিধানে সাজা প্রদান কিংবা অন্যায়ভাবে অধিগ্রহণের জন্য ২৫তম সংশোধনী রাখা হয়নি। এভাবে ২৫তম সংশোধনী উত্থাপন করা হলে তা হবে ভয়াবহরকমের নজিরবিহীন ঘটনা।’  ২৫তম সংশোধনী উত্থাপনে পেন্সের অস্বীকৃতির মানে হলো ডেমোক্র্যাটরা এখন প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন ভোটের প্রক্রিয়া চালাবে।

নিম্ন কক্ষে যদি ট্রাম্প অভিশংসিত হন, তবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে সিনেটে ট্রায়াল শুরু হবে। ট্রাম্পকে অভিশংসন করতে হলে আর্টিকেলটি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাসের পর তা সিনেটেও দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস করাতে হবে। অবশ্য, সিনেটেও শিগগিরই সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে ট্রাম্প যেন কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও দায়িত্ব পালন না করতে পারেন তা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হবে।  ৪৩৫ সদস্যের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়ে গেলে অভিসংশন প্রস্তাব যাবে সিনেটে।

সেখানে দুই তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হতে হবে। তা হলেই ট্রাম্পকে সরানো যাবে।  এই সংখ্যা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে জোগাড় করা শক্ত। কারণ, রিপাবলিকান সিটেনরদের একটা অংশ অভিশংসনের পক্ষে ভোট না দিলে সেটা সম্ভব নয়। যদি ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হয়, তা হলে তিনি আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ