Thursday -
  • 0
  • 0
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
Posted at 13/01/2021 02:03:pm

হাসিনার আমলঃ সত্য কবরে, মিথ্যার চাষাবাদ

হাসিনার আমলঃ সত্য কবরে, মিথ্যার চাষাবাদ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখহাসিনার আমলে সত্য থাকতে পারেনা। সত্য গেছে কবরে। মিথ্যার চাষাবাদ হচ্ছে।

আজ বুধবার(১৩ ডিসেম্বর)জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহাগর বিএনপির উদ্দ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আমার একটাই কথা, প্রধানমন্ত্রীর এত প্রতি হিংসা কেন জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে? জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। উনার প্রতিহিংসা থামবে না। বাজপাখির মতো ঈগলের মত প্রতিহিংসার পাখা ওনারা ঝটপট ঝটপট করে সবসময়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এত গম, খুন, মামলা করলো তারপরেও বিএনপি নেতারা পিপড়ার মত গর্ত থেকে বের হয়ে আসছে।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন মামলা গলার মালা। আমি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি আধ্যাত্মিক মূলক গান ওটা দিয়েই বলতে চাই। উনি বলেছেন আল্লাহ আমার মাথার মুকুট রাসূল গলার হার। আমি এটা বলতে চাই হাসিনার আমলে বিএনপির মাথায় হচ্ছে গুম আর মামলা হচ্ছে গলার মালা।

রিজভী বলেন, হাসিনা ও তার আন্দোলনের ফসল মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন, সেনাবাহিনীর প্রধান সরকারি চাকরি করেন প্রেস কনফারেন্স করে বললেন তারেক রহমান হাওয়া ভবন বিদ্যুৎ খাত থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। পরে জানা গেল পাঁচ বছরে বাজেট ছিল ১৩ হাজার কোটি টাকা। একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে সেনাবাহিনীর প্রধান এত বড় মিথ্যা কথা বললেন।

উনি তো আওয়ামী লীগের চেতনায় রঞ্জিত ছিলেন। হাসিনার চেতনায় রঞ্জিত ছিলেন। হাসিনার বাবার আমলে একজন সাংবাদিক বলেছিলেন যে সত্য বাবা মারা গেছেন। তো হাসিনার আমলে তো সত্য থাকতে পারেনা। সত্য গেছে কবরে। মিথ্যার চাষাবাদ হচ্ছে।

বিএনপির এই মুখপাত্র প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হাসিনা আপনি বলেননি তারেক রহমানের মালয়েশিয়াতে কারখানা আছে? কই অবৈধভাবে ১২ বছর ক্ষমতায় আছেন। আপনার এত গুন্ডা বাহিনী এতকিছু তারেক রহমানের কারখানা মিল-কারখানা কই? আপনি তো সেই কারখানার কোন ছবি দেখাতে পারলেন না। আপনি এগুলো মিথ্যা কথা বলেছেন। কিন্তু এখন জনগণ জানে।

এমনকি আপনার মন্ত্রীরাও বলছে মালয়েশিয়ায় যারা ক্যাসিনিও করেছে। রাজকোষের অর্থ আত্মসাৎ করে মালয়েশিয়া সেকেন্ড হোম বানিয়েছে। এরা কারা? এরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী।

রিজভী বলেন, বিএনপির  আমলে হাসিনা এত বড় মিথ্যা কথা বলেছে। অথচ শেখ হাসিনার আমলে জয়ের বিরুদ্ধে একটি সত্তিকারের রিপোর্ট করেছিলেন একজন বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিকুর রেহমান। একটি রিপোর্টের জন্য তাকে জেল খাটতে হয়েছে। রিমান্ডের নামে অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে শেখ হাসিনা তারেক রহমানের নামে অহরহ মিথ্যা বলেছেন। বিএনপি কত সহনশীল গণতন্ত্রকামী শেখ হাসিনার নামে কোন মামলা করেনি।

আজ ১২বছর ক্ষমতায় তারপরেও তারেক রহমানের নামে এই মিথ্যার প্রমাণ করতে পারেননি। গোটা পৃথিবীতে যেমন পাহাড়-পর্বত আকাশ পরিষ্কার ভাবে দেখা যায় তেমনি তারেক রহমানের সততা দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন,'কেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেগম খালেদা জিয়া তারেক রহমানের নামে কুৎসা? তারেক রহমান লন্ডনে আছে তারপরেও  বাংলাদেশ থেকে তার নামে ওয়ারেন্ট জারি হয়।

তাদের (আওয়ামী লীগের) হৃদয়ের ভিতর খালি হিংসা। আমি কথাটা এই জন্য বলছি যে কথাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান জাতীয়তাবাদের প্রতীক। জাতীয়তাবাদ মানে কি আমি সহজ কথায় বলি। নিজের উপর অহংকার। যার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, পতাকা, মাটি, পাহাড়, পাখি নিয়ে অহংকার করে তারাই জাতীয়তাবাদী। আর এই অহংকার জাগিয়েছে আমার দেশের কবি সাহিত্যিকরা।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে কাজী নজরুল ইসলামকে বাদ দেয়া হয়েছে। আপনারা খবর নেবেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের যুদ্ধের প্রেরণা, আন্দোলনের প্রেরণা, গণতন্ত্র অধিকার এর প্রেরণা, সেই কাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। কেন? আধিপত্য শক্তিকে খুশি করার জন্য।

আজকে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও কাজী নজরুল ইসলামকে বাদ দেওয়া একই সূত্রে গাঁথা। আধিপত্য শক্তিকে এবং প্রভুদের কে খুশি করার জন্যই এই কাজ করা হয়েছে।

বিএনপর যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান,আব্দুস সালাম,যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম,স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফৎ আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামিম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু,স্বেচ্ছাসেবকদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, কৃষকদলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সস্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এছাড়াও মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন,বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, মৎস্যজীবি দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা: দেওয়ান সালাউদ্দীন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ