Thursday -
  • 0
  • 0
Abu Bakar Siddique
Posted at 13/01/2021 04:17:pm

ভাস্কর্য নিয়ে ইসলাম কী বলে?

ভাস্কর্য নিয়ে ইসলাম কী বলে?

কিভাবে আরবে মুর্তিপুজার সূচনা হয়েছিল?  এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠতেছে। বর্তমানে ভাস্কর্য নিয়ে অনেকেই সৌদিআরবের রেফারেন্স দিয়ে কথা বলে। 

চলুন আজকে আমি এর কিছু সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব। 

প্রাচীন আরববাসী যখন তাদের ধর্ম ভুলে গেছিল তখন তারা নানা রকম বিদাআত করত এবং সঠিক ধর্ম থেকে তারা অনেক দুরে চলে গেছে।

সেসময় একজন ধর্মপ্রচারক ছিলেন যিনি আরববাসীদের মাঝে তাদের ধর্মকে স্মরন করিয়ে দিতেন। 

সেসময়ের মানুষেরা ওই ধার্মিক ব্যাক্তিকে অনেক সন্মান করত। এবং তার কথাকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করত। এভাবেই চলতে থাকল তাদের ধর্মীয় জীবন যাপন।   

কিন্তু কোন এক সময় সেই ধার্মিক ব্যাক্তি শাম রাজ্যে ভ্রমন করলেন। সে সময় শাম রাজ্য ছিল একটি পবিত্র স্থান তাদের মতে। সেখানে অনেক আল্লাহর পয়গম্বর এর জন্মস্থান।   

ওই ধার্মিক ব্যাক্তির নাম ছিল “ওমর ইবনে লুহাই”। তিনি শাম রেজ্য গিয়ে দেখে যে সেখানকার মানুষ নানা রকম মুর্তি পুজায় লিপ্ত হয়ে আছে।

তার পর তিনি মনে মনে ভাবে যেহেতু শাম রাজ্য অনেক ওলি আউলিয়ার জন্মস্থান তাহলে তাদের ধর্ম বিশ্বাস টাই মনে হয় সঠিক। তারপর তিনি শাম রাজ্য থেকে একটি মুর্তি (হাবল) নিয়ে এসে মক্কার কাবা গৃহে স্থাপন করেন। কিন্তু সেই মুর্তিটির ডান হাত ছিল ভাঙ্গা। 

তারপর মক্কাবাসীরা মুর্তিটির ডান হাত স্বর্ণ দিয়ে তৈরি করে। এভাবে তারা ধীরে ধীরে নানা রকম মুর্তি তৈরি করতে থাকে। এবং যারাই মক্কায় হজ্জ পালন করতে আসে তাদেরকে সেই নতুন মুর্তিপুজার জন্য আহ্বান করা হয়। এভাবেই শুরু হয় আরবে মুর্তিপুজার উথান।   

হাদিসে বর্নিত আছে, ইবনে আব্বাস রা. বলেন:“প্রথম যে ব্যক্তি এই বিপদ- প্রতিমা বিপদ, শিরকের বিপদ মক্কায় নিয়ে এসেছিল সে হচ্ছে খুযা‘ গোত্রের ‘আমর বিন লুহাই আল-খুযায়ী’ রসূল সা. তাকে মিরাজের রাত্রে দেখেছেন, তাকে তার বেরিয়ে আসা নাড়ী-ভুঁড়ি নিয়ে জাহান্নামের আগুনে চলাফেরা করতে।

কেননা, তিনিই সেই ব্যক্তি যে প্রথম ইব্রাহীম (আ:)-এর ধর্ম পরিবর্তন করে মূর্তিপুজার প্রথা চালু করে। (‘উমদাতুল কারী শরহে সহীহ বুখারী)। 

সুতরাং ভাস্কর্য সমস্যা সমাধানে সৌদিআরব, মিশর ইত্যাদি দেশকে রেফারেন্স না দিয়ে কুরাআন সুন্নাহ এর আলোকে ব্যাখ্যা করা উত্তম হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ