• 0
  • 0
কাওসার জামিল
Posted at 12/01/2021 07:51:pm

নারী-মাদকের পেছনে টাকা ‍উড়িয়ে ‘ডিজুজ বয়’ হয়ে ওঠে দিহান

নারী-মাদকের পেছনে টাকা ‍উড়িয়ে ‘ডিজুজ বয়’ হয়ে ওঠে দিহান

রাজধানীর কলাবাগানে অবস্থিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া ছাত্রী আনুশকাহ নূর আমিনকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনুশকাহর বয়ফ্রেন্ড দিহানসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে কলাবাগানের ডলফিন গলিতে দিহানের বাসায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ আনুশকাহকে ধানমন্ডির মডার্ণ আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিহানসহ চার বন্ধু। পরে বিকালে হাসপাতালে আনুশকাহ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। 

একাধিক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিল দিহানের। রাতভর আড্ডা দিতেন হোটেল কিংবা বাসায়। শুধু নারীই নয়, মাদকের নেশাও ছিল প্রবল। টয়োটা এক্সিও গাড়িটি নিয়ে কখনো কখনো ছুটে যেত ঢাকার অদূরে কোথাও। রাজধানীর কলাবাগানে ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত তানভীর ইফতেখার দিহান মা-বাবার শাসন-বারণে তোয়াক্কা করতো না। অর্থ ও বিত্তের জোরেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রতিমাসে খরচ করতো কাড়ি কাড়ি টাকা।

দিহানের ঘনিষ্ঠরা জানান, সময়-অসময়ে নিজেই গাড়ি নিয়ে বেরোতেন দিহান। গাড়ির গতি নিয়ে তার কোনো চিন্তা থাকতো না। গাড়ির সামনে থেকে সরে যেতে সময় ক্ষেপণ করার কারণে রিকশা, ভ্যানচালকরা তার মারধরের শিকার হতো প্রায়ই।

এছাড়া রাস্তায় উচ্চ ভলিয়মের গান বাজানো ছিল তার নেশা। ঘনঘন হর্ণ বাজানো অভ্যাসে পরিণত হয়।  দিহান অনেক সময় রাতে বাসায় ফিরতো না। রাতে বারবিকিউ পার্টির নামে বন্ধুরা মিলে বিভিন্নস্থানে আড্ডায় মজে থাকতো। গুলশান ও উত্তরার দু’টি তারকা হোটেলে দেখা যেত তাকে।

এসব কর্মকাণ্ডের কারণে কলাবাগানের লেক সার্কাস এলাকায় তার বেশ পরিচিতি রয়েছে। তরুণদের অনেকেই তাকে ‘ডিজুস বয়’ হিসেবে চেনেন। সূত্র মতে, পুলিশের কাছে দিহান স্বীকার করেছে একাধিক মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল তার। একেক সময় একেক জনকে নিয়ে সময় কাটাতো। বান্ধবীরা তার প্রতি বেশ সন্তুষ্ট থাকতো, কারণ সে নিয়মিত উপহার দিতো তাদের। ঘটনার কিছুদিন আগেও এক বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করেছিল।

থার্টিফাস্ট নাইটেও রাতভর হোটেলে কাটিয়েছে দিহান। এ নিয়ে প্রায়ই তার মা সানজিদা সরকারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হতো।  ডিএমপির নিউমার্কেট জোনের এসি আবুল হাসান বলেন, ঘটনার পর থেকেই নজরদারিতে ছিলেন ওই বাসার দারোয়ান দুলাল। ঘটনার যথার্থতা যাচাইয়ে তার প্রয়োজন বোধ করায় তাকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

তার দেয়া বর্ণনার সঙ্গে দিহানের দেয়া বর্ণনা মিলিয়ে দেখা হবে। এছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশের পুরো এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি।  ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমার মেয়ের এ বছর ও লেভেল পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার সাজেশন দেয়ার কথা বলে ওকে ডেকে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, ওরাই আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে আন্টি ও (ভূক্তভোগী) অসুস্থ। তখন আমি বলেছি ভালো মেয়ে গেল, অসুস্থ কীভাবে হয়েছে। বলেছে আমাদের সঙ্গেই ছিল তবে এখন সেন্সলেস হয়ে পড়েছে। পরে ওরাই আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল এ নিয়ে যায়।

আমি হাসপাতালে পৌঁছার আগেই আবার ফোন দিয়ে বলে ও (ভূক্তভোগী) মারা গেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি মেয়েটার প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ