Wednesday -
  • 0
  • 0
M. R. Sumon
Posted at 11/01/2021 04:18:pm

গফরগাঁওয়ের বহুল আলোচিত গ্রন্থ- 'গফরগাঁওয়ের কথা ও কাহিনী'

গফরগাঁওয়ের বহুল আলোচিত গ্রন্থ- 'গফরগাঁওয়ের কথা ও কাহিনী'

গফরগাঁওয়ের কথা ও কাহিনী গ্রন্থের অন্যতম রচিয়তা জনাব সাজেদুল হক। সাজেদুল হক ১৯৩৯ সালের ৩১ জানুয়ারি তাড়াইল উপজেলার জাওয়ার গ্রামে তাঁর মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পৈত্রিক নিবাস গফরগাঁও উপজেলার চরমছলন্দ গ্রামে। পিতাঃ মো. আব্দুস সালাম (এম. এ) প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক ও সমাজস সেবক ছিলেন।মাতাঃ মোছাঃ ফাছিহা খানম।

জনাব সাজেদুল হক গফরগাঁও ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তিনি গুরুদয়াল কলেজ থেকে আই.এ এবং বি.এ পাশ করেন তারপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে এল.এল.বি ডিগ্রিও সম্পন্ন  করেন।

শিক্ষাজীবন শেষ করে গফরগাঁও ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন এবং এখানে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তিনি গফরগাঁও মহিলা কলেজেও বেশ কিছু দিন প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সাথে তিনি ১৯৬৬-৭০ সালে বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে সাংবাদিকতা করেন। বিশেষ করে তৎকালীন মর্নিং নিউজ ও পূর্বদেশ পত্রিকার নাম উল্লেখযোগ্য।

তিনি গফরগাঁও সাহিত্য সম্মেলন -১৯৮৩ সালে স্মরণিকা প্রকাশের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি গফরগাঁওয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন।

তিনি 'সখিনা মদিনা মহুয়া মলুয়ার দেশ';

'বরণী সূতি ফুলেশ্বরীর দেশ তাড়াইল' প্রভূতি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। অন্যতম রচয়িতা 'গফরগাঁওয়ের কথা ও কাহিনী(১৯৭৭),গফরগাঁওয়ের প্রাচীন ইতিহাস(১৯৯৯) (৮ম শতাব্দী থেকে ১৮৫০ খৃঃ ইস্ট ইণ্ডিয়া যুগ পর্যন্ত) তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ' এ কোন আলো লাগলো চোখে'তিনি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য, কিশোরগঞ্জ সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

তিনি গফরগাঁও অব.প্রাপ্ত সর. কর্মচারী সমিতির সভাপতি ছিলেন। কৃতি এই মানুষটি ২০০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পরলোক গমন করেন।

১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হওয়া গফরগাঁওয়ের কথা ও কাহিনী' গ্রন্থটি গফরগাঁওয়ের অনেক গুণীজনের সম্মিলিত সৃষ্টি। বইটির সম্পাদনা পরিষদে ছিলেন এম,এ, মোমেন; শামসুল হক, সাজেদুল হক, আব্দুর গফুর, আব্বাস আলী খাঁন, তপন পাল। বইটি প্রকাশে উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন মোঃ চাঁদ খান; এস,এম,ইব্রাহীম খলিল ও শামসুর রহমান সেলিম। বইটিতে তথ্য দিয়েছেন পল্লী কবি খ্যাত হাবিবুর রহমান, জনাব আবুল হাশেম খাঁ- পাঁচুয়া, ডাঃ আব্দুল গফুর, যশরা, ডাঃ সাহাজ উদ্দিন-চর আলগী, ফারুক আহমেদ নিগুয়ারী, সিদ্দিক হোসেন-জালেশ্বর, আঃ রাজ্জাক-পাকাটি; এস,এম,আঃ সামাদ আল আকন্দ-কান্দি, মোঃ মুশিদ উদ্দিন(মুরশেদ)-টাঙ্গাব, মোঃ আনোয়ার কাদির-পাকাটি, তূষার কান্তি সরকার-তারাটিয়া; এম, এফ, মতিন-কালাইর পার; আঃ ফাঃ সালেহীন পারভেজ-গলাকাটা; এ,বি,এম নূরুল্লাহ, মোঃ জুবেদ আলী-কান্দি, মোঃ মহসীন-গোবরী, মোঃ আঃ ছামাদ-বিরই উত্তর পাড়া, মোঃ সোহরাব উদ্দিন-গোলাবাড়ী, মোঃ অহিদুল ইসলাম-দৌলতপুর, মোঃ আনিছুর রহমান-চর মছলন্দ , মোঃ আঃ জলিল-নিগুয়ারী নগরপাড়া, মোঃ নাজমুল হক-চারিপাড়া, মোঃ আশারাফুল আলম নাজিম-শহীদ নগর, বিজন রঞ্জন বল-বড়বাড়ী, আলতাফ হোসেন-নাটক ঘর, মৃত্যুঞ্জয় ভক্ত-শিবগঞ্জ ।

গফরগাঁওয়ের বহুল আলোচিত এই বইটিতে আছে গফরগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পটভূমি, গফরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষা, লোক সাহিত্য ও লোক সংস্কৃতি, গফরগাঁওয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার অতীত ও বর্তমান; কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থা, ক্রীড়া ক্ষেত্রে গফরগাঁও, সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতায় গফরগাঁও, রাজনীতি ক্ষেত্রে গফরগাঁও, গফরগাঁওয়ের সামাজিক ব্যবস্থা, গফরগাঁওয়ের বীর পুরুষদের বীরত্ব গাঁথাসহ গফরগাঁওয়ের আরো অনেক কথা।

ধন্যবাদসহ
→এম. আর. সুমন
কৃষিবিদ, লেখক ও সমাজকর্মী।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ