Wednesday -
  • 0
  • 0
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
Posted at 11/01/2021 02:13:pm

পরিবারকে জানতে হবে ছেলেমেয়ে কোথায়, কার সাথে মিশে: আইজিপি

পরিবারকে জানতে হবে ছেলেমেয়ে কোথায়, কার সাথে মিশে: আইজিপি

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, আমাদের দেশে বড় সমস্যা হচ্ছে এখন কিশোর গ্যাং। এই কিশোর গ্যাং কে মোকাবেলা করতে হবে। সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এই কিশোর-কিশোরীরাই কিন্তু আগামী দিনের বাংলাদেশ তথা, ২০৪১ সালের ধনী দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। সেই শিশুরা ড্রাগ নিয়ে কিংবা কিশোর গ্যাং এর সদস্য হয়ে ধ্বংস হয়ে যাক সেটা আমাদের কোন মতেই বরদাশত করা যাবে না সেজন্য আমাদের সমাজকে পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে।

আজ সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে র‍্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত "র‍্যাব সেবা সপ্তাহ" পালন করছে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ উপলক্ষ্যে সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় র‍্যাব সদর দফতরের শহীদ লে. কর্নেল আজাদ মেমোরিয়াল হলে 'দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সহায়তা, বই বিতরণ এবং সনদপত্র প্রদান' অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ মহাপরিদর্শক(আইজিপি) বলেন, পরিবারকে জানতে হবে তার ছেলে বা মেয়ে কোথায়, কার সাথে মিশে, কি করে, কখন যায়, এটা প্যারেন্টাল কন্ট্রোল। এটি অবশ্যই সন্তানের পিতা মাতাকে নিতে হবে। পরিবারকে জানতে হবে, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল।

সন্তান জন্ম দিলে দায়-দায়িত্ব পিতামাতাকে নিতে হবে। দায়িত্ব নেবেন না তবে জন্ম দিয়েছেন কেন? এটি পিতা-মাতা সামাজিক, নৈতিক দায়িত্ব, ধর্মীয় দায়িত্বও বটে।

আইজিপি আরও বলেন, সন্তান ছেলে-মেয়ের ভেতর নৈতিকতা, মূল্যবোধের বিষয়গুলো আমাকে ঢুকানো দায়িত্ব পিতা মাতার। নতুন প্রজন্ম সামাজিকভাবে বিলুপ্ত বা বিনাশ হবে তা হতে দেয়া যাবে না। এটা সুস্থ জাতি সত্ত্বার কাজ হতে পারে না।

পুলিশ প্রধান বলেন, আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে বয়সী সবাই শিশু। মানবাধিকার কর্মীরা এনজিওকর্মীরা অনেক হইচই করে অনেক আইন কিন্তু পরিবর্তন সংশোধন করেছেন। কিন্তু কলাবাগানে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা কিন্তু সুস্পষ্ট ক্রাইম। এখানে ধর্ষণের পাশাপাশি মৃত্যু ঘটানো হয়েছে।

অথচ আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী উভয় কিন্তু শিশু। অথচ আমরা এই আইন গুলো করেছি। অবশ্যই আমাদের আধুনিকায়ন দরকার আইজিপি হিসেবে আমি দ্বিমত পোষণ করি না। তবে অত্যাধুনিক আইন করতে গিয়ে আমরা দেশের মধ্যে কোন সমস্যা তৈরি করতেছি কিনা সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

আমরা শুধু করোনা মোকাবেলায় এগিয়ে আছি, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও আমরা এগিয়ে গিয়েছি। যেকারণে জিডিপির দিক দিয়ে সাম্প্রতি আমরা ভারতে টপকে গেছি। এই অগ্রযাত্রাকে সবাই মিলে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশ আমাদের, গনতন্ত্র আমাদের। আমরা একটি নবিন জাতি। আমাদের দেশের মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট হচ্ছে, আমাদের ভাষা এক, আমরা দেখতে এক, গায়ের রঙ এক, সংস্কৃতি এক, মূল্যবোধ এক। যার কারনে আমরা জাতিগত শক্তিতে পরিনত হয়েছি।

র‍্যাবের সেবা সপ্তাহ শুধু সপ্তাহে সিমাবধ্য থাকবে না। আমাদের প্রতিটি সপ্তাহই হবে সেবার সপ্তাহ, আমাদের প্রতিটি মাসই হবে সেবার মাস, প্রতিটি বছর হবে সেবার বছর। বাংলাদেশে দুস্থ দরিদ্র শব্দগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আমাদের অর্থনৈতিক সম্রিদ্ধির যে গতি আছে এটা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি ও বেগবান করতে পারি তাহলে দরিদ্র দুস্থ শব্দ বাংলাদেশে থাকবে না।

এই দারিদ্র দূর করার জন্য আমরা ঐক্য ভাবে কাজ করছি। তবে আমাদের আরও বেগবান হতে হবে। আমরা খুধা ও দারিদ্রকে পরাজিত করার দার প্রান্তে পৌঁছে গেছি প্রায়। আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোন খুধা ও দরিদ্র মুক্ত পরিবারে নতুন শিশুর জন্ম হোক।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ