• 0
  • 0
Nazrul
Posted at 10/01/2021 04:18:pm

কেনো মামলায় আনুশকার বয়স বাড়ানো হলো?

কেনো মামলায় আনুশকার বয়স বাড়ানো হলো?

রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিনের বয়স নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আনুশকার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, মেয়ের বয়স নিয়ে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিড়ম্বনায় ফেলেছে।

পাসপোর্ট ও জন্মসনদ অনুযায়ী আনুশকার বয়স ১৭। কিন্তু মামলা দুর্বল করতে বয়স ১৯ লেখা হয়েছে।

আনুশকারের বয়স জটিলতার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ রবিবার (১০ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের বলেন, বয়স নির্ধারণের জন্য আমরা এক্স-রে বিভাগে পাঠিয়েছি। শুক্রবার এই বিভাগ বন্ধ থাকায় পুলিশ জানিয়েছে সেটা করতে পারেনি। যেহেতু এক্স-রে হয়নি তাই তার বডির (শরীর) গঠন দেখে, দাঁত দেখে এবং তার যে ডকুমেন্ট আছে সেগুলো দেখে আমরা একটা বয়স নির্ধারণ করতে পারবো। এখানে একটা ক্যালকুলেশনের ব্যাপার আছে। এখনই আমরা এ বিষয়ে বলবো না।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাজ হলো তার প্রকৃত বয়সটা বের করা। যেহেতু আমরা এক্স-রে করতে পারিনি, তাই কিছু মাইলফলক আছে সেগুলো দেখে, তার ডকুমেন্টগুলো নিয়ে আমরা একটা বয়স বলতে পারবো।

আনুশকার সহপাঠী মাস্টারমাইন্ড স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী নেহা জামান জানান, পাসপোর্টসহ সব জায়গায় বয়স ১৭ বছর উল্লেখ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ১৯ বছর নির্ধারণ করা অনৈতিক। এছাড়া দিহানের বয়স ২১ হলেও মামলার কার্যক্রমে তার বয়স কম দেখানো হয়েছে। এতে করে তার ছাড় পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) আটক প্রধান অভিযুক্ত দিহান (১৮) আনুশকাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে পুলিশকে জানায়, ধর্ষণের পরিকল্পনা আগেই করা ছিলো। বন্ধু হলেও দু’জনের প্রেমের সম্পর্ক বেশিদিন হয়নি। মাত্র তিন মাস হলো তাদের মধ্যে সম্পর্ক বয়স। গ্রুপ স্টাডির নাম করে আনুশকাকে ফোন করে কলাবাগান লেক সার্কাসের একটি বাসায় ডেকে নেয় সে। দুপুর ১২টা থেকে একটার মধ্যে আনুশকাকে ধর্ষণ করে দিহান। দুপুর ১টার দিকে আনুশকার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর তাকে ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কলাবাগান থানা পুলিশ জানায়, দিহান জানিয়েছে সে একাই ধর্ষণ করেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে খবর পেয়ে বাকিরা এসেছে। ঘটনার দিন রাতেই রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি মামলা করেছেন আনুশকার বাবা আল আমিন আহমেদ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ২ ধারায় দায়েরকৃত মামলার একমাত্র আসামি দিহান। ৯ এর ১ ধারায় ভুক্তভোগীর বয়সের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও ২ ধারায় ভুক্তভোগীর বয়সের কোনো বিষয় উল্লেখ নেই।

কলাবাগান থানার ওসি/তদন্ত আ স ম আসাদুজ্জামান বলেন, মেয়েটাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন চিকিৎসকের রেজিস্ট্রারে ১৯ বছর লেখা ছিলো। সুরতহাল প্রতিবেদন লেখার সময় হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেট দেখেই বয়স ১৯ লেখা হয়েছে। এরপরেও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকৃত বয়স নির্ধারণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা দেয়নি পুলিশ। এটা প্রাথমিক বয়সের রিপোর্ট। মেডিকেল থেকে বয়স নির্ধারিত হওয়ার পর তদন্তে আমরা বয়স ঠিক করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবো।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের নিউ মার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল হাসান বলেন, বয়স নিয়ে কনফিউশানের কিছু নেই। এটা আমাদের সিনিয়র স্যাররা ক্লিয়ার করবেন। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় হাসপাতালের প্রাপ্ত তথ্য এবং ভিকটিমের নিকট আত্মীয়ের উপস্থিতি থেকে যে তথ্য পেয়েছি সেটাই সুরতহালে উপস্থাপন করেছি। মামলার ভিকটিমের পরিবার যে বয়সের (১৭) কথা বলেছে তা আমরা সন্নিবেশিত করেছি। এরপরেও প্রকৃত বয়স নির্ধারণের জন্য চিকিৎসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ