Tuesday -
  • 0
  • 0
Tofael Islam
Posted at 10/01/2021 02:29:pm

হু হু করে বেড়েই চলেছে ভোজ্যতেলের দাম

হু হু করে বেড়েই চলেছে ভোজ্যতেলের দাম

বাজারে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। দোকানে থরে থরে সাজানো একাধিক কোম্পানির ভোজ্যতেলের বোতল। পাশাপাশি খোলা তেলেরও সরবরাহ পর্যপ্ত। এরপরও বিক্রেতারা প্রতি সপ্তাহে বাড়তি দরে তেল বিক্রি করছেন। 

কয়েক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। হু হু করে বেড়েই চলেছে এ নিত্য পণ্যের দাম। সাধারণ ক্রেতারা বেকায়দায়। 

জানা গেছে, গত চার মাসে বাংলাদেশের বাজরে গড়ে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ৫৬.২৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা, এখন এই তেল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। একই অবস্থা পাম তেলের ক্ষেত্রেও। সেপ্টেম্বরে যেখানে প্রতি কেজি সুপার পাম তেল বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা দরে। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা দরে। 

নয়াবাজারের এক মুদি বিক্রেতা বলেন, পাইকারি খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় বাড়াচ্ছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে বেশি দরেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া বোতলজাত তেল কোম্পানিগুলোও প্রতি সপ্তাহে নতুন রেট দিচ্ছে। ফলে বোতলজাত সয়াবিনের দামও বেড়েছে। 

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের তেল ব্যবসায়ীরা। তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে লিটারপ্রতি দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করাসহ ভোজ্য তেলে তিন স্তরের ভ্যাটের পরিবর্তে এক স্তরের ভ্যাট নির্ধারণের জন্য চিঠি দিয়েছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে। চলতি মাসের শেষে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। 

গত সেপ্টেম্বর মাসেও প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই তেল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। অর্থাৎ গত চার মাসে প্রতি কেজি সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ টাকা।   

অন্যদিকে, খোলা পাম তেলের অবস্থাও একই রকম। গত সেপ্টেম্বরে খোলা সুপার পাম তেলে বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। সেই হিসাবে গত চার মাসে সুপার পামের দাম বেড়েছে ৪৫ টাকা। আর গত চার মাসে সব ধরনের তেলের দাম বেড়েছে ৫৬ দশিমক ২৫ শতাংশ।   

বর্তমানে পাইকারিতে মৌলভীবাজারে প্রতি মণ (৩৭.৩২কেজি) সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৪০০ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ১১৮ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল চার হাজার ২০০ টাকা মণ বা প্রতি কেজি ১১২ টাকা। সয়াবিনের মতো পাম তেলের দামও বেড়েছে।

পাইকারিতে পাম সুপার বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৯০০ টাকা মণ, প্রতি কেজি ১০৪ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৮০০ টাকা মণ, প্রতি কেজি ১০১ টাকা।  আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহের আমদানিমূল্যের সঙ্গে সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স, পরিশোধন ও বিপণন খরচ যোগ করলে বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন বোতলজাতকরণ পর্যন্ত খরচ পড়ে ১৩২ টাকা। বাজারে এখন যে দামে ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম) বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহের আমদানিমূল্য ধরে বিক্রি করলে খুচরা মূল্য আরও বেশি হওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক বাজারের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোয় ভোজ্য তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা পরিশোধনকারীদের। এজন্য আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী ধারা বিবেচনা করে সম্প্রতি প্রতি লিটার ভোজ্য তেলের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণসহ তিন স্তরের ভ্যাট থেকে এক স্তরে নামিয়ে আনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু ওই চিঠির পর আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কয়েক দফা বেড়েছে পণ্যটির দাম। 

এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারেও দাম বেড়েছে। তবে এর সঙ্গে শুধু আন্তর্জাতিক বাজার নয়, আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় একটু সমস্যা রয়েছে। যেমন মিলগেট থেকে খোলা তেল খুচরা বাজারে আসতে অনেকগুলো হাত বদল হয়। এতে করে দামে কিছুটা বাড়ে। এ বিষয়ে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসবো। 

তিনি বলেন, তেলটা সম্পূর্ণ আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আমরা ভ্যাটের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে বলেছি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

তারা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে। আমাদের রাজস্বও লাগবে, আবার ভোক্তাদের কম দামেও পণ্য দিতে হবে। আশা করছি তেলের দাম কমে যাবে। 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এফএওর সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত দুই মাসে ব্যাপকভাবে বেড়েছে ভোজ্য তেলের দাম, ফলে সার্বিকভাবে খাদ্যপণ্যের এই বাজার ঊর্ধ্বমুখী। তিন কারণে বিশ্ববাজারে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। 

সরবরাহ ঘাটতি, রপ্তানি কর বৃদ্ধি ও চীনের বিপুল ক্রয়ের কারণে বিশ্ববাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়ছে। সয়াবিনের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ আর্জেন্টিনায় সরকারের সঙ্গে কৃষকদের দ্বন্দ্বে ধর্মঘট চলছে। 

এতে বন্দরের লজিস্টিকস সেবা বন্ধ হয়ে পড়ায় সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ রয়েছে। এমনকি এই ধর্মঘট ফেব্রুয়ারি পর্যন্তও চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সয়াবিন রপ্তানিতে কর বাড়িয়ে ৩৩ শতাংশ করেছে আর্জেন্টিনা। এতে গত মঙ্গলবারও বিশ্ববাজারে সয়াবিনের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে হয় প্রতি বুশেল ১৩.৫৭ ডলার। এমনকি ওই দিন সর্বোচ্চ দাম ১৩.৭৩ ডলার পর্যন্তও ওঠে, যা ২০১৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ দাম।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ