Tuesday -
  • 0
  • 0
ashraful islam
Posted at 09/01/2021 08:25:pm

বাঁচানো গেলোনা বিরল প্রজাতির হনুমানটিকে!

বাঁচানো গেলোনা বিরল প্রজাতির হনুমানটিকে!

গত কয়েক দিন যাবৎ লোকালয়ে এসে মানব শরীরধারী হিংস্র প্রানীর আক্রোমনে অতিষ্ট একটি বন্যপ্রানী যে রক্তে মাংসে গড়া মানুষের হিংস্রতায় হারালো অবশেষে নিজের প্রান। গাইবান্ধায় বেধরক পিটুনীতে মারা গেলো বিরল প্রজাতির একটি হনুমান।

৯ জানুয়ারী শনিবার  গাইবান্ধা সদর উপজেলার মৌজা মালীবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।     

হনুমানটিকে খাবার খাইয়ে দেওয়া প্রত্যক্ষসাক্ষি মিজানুর রহমান বলেন, লোক চক্ষুর দেখা দেওয়ার পর নানা ভাবে উৎসকু জনতা হুনুমানটিকে ভয় দেখানোর কারণে সে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে হাফিয়ে উঠিছিলো।  আমার বাসার প্রাচী পেরিয়ে আসে নিরাপদ মনে করে পিছন দিয়ে এসে আমার শরীরে হাত বুলায় আমি তাকে কলা খাবার দেই ও পানি খেতে দেই এরপর সে আমার বাড়ীর প্রাচী পেরিয়ে আমার বাড়ীর পিছনে পুকুর পাড়ে একটি গাছে উঠে বসে থাকে । 

সন্ধ্যার পর তাকে আর সেখানে দেখা যায়নি ।   সে খুব শান্ত সৃষ্ট ছিলো তবে উৎসক জনতার তাকে দেখে চিল্লাচাটি ও তাকে লক্ষ করে ঢিলছোড়ায় সে অনেকটা ভয় ছোটাছোটি করলে উৎসক মানুষ তাকে দেখতে তার পিছে ধাওয়া করায় সে আসলে কোন স্থানেই নিরাপত্তা পাইনি। 

হনুমানটিকে পিটিয়ে মারা ঘটনাটি দুংখ জনক মানুষ একটি অবলা পশুকে এভাবে মারতে পারলো ,ভাবতে পারি না আমরা কেমন মানুষ যে আমাদের নিকট একটি বন্যপ্রানীও আজ নিরাপদ নয়।     

এলাকাবাসী জানান, বিরল প্রজাতির একটি হনুমান গতকাল ৭ জানুয়ারী শুক্রবার প্রথম  গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান মাস্টারের বাড়ির পাশে গাছে, কখনও মাটিতে অবস্থান করে। উৎসুক জনতা তার উপর আক্রমণ চালায়।

জীবনের ভয়ে গাছের ডালে ডালে ঘোরাঘোরি করে।  হনুমানটিকে উদ্ধারে  প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা এগিয়ে আসবেন এমনটি মনে করেছিলেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাসহ সচেতন মহল। এসময় হতে সে লোক চক্ষু দৃষ্ট হওয়ার পর হতে শিশু কিশোরদের ধাওয়ায় হনুমানটি সন্ধ্যা পর্যন্ত বারবার স্থান পরিবর্তন করতে থাকে। এরপর শনিবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী লক্ষিপুর ইউনিয়নের মৌজা মালীবাড়ী গ্রামের একটি বেগুন ক্ষেতে হনুমানটি আশ্রয় নেয়। এসময় গ্রামের শিশু কিশোরদের পিটুনীতে মারাত্বক আহত হয় হনুমানটি।

পরে গ্রামবাসী পশু চিকিৎসক ডেকে এনে আহত হনুমানটির চিকিৎসা দিলেও বাঁচানো যায়নি বিরল প্রজাতির হনুমানটিকে। ধারনা করা হচ্ছে সীমান্তবর্তী জেলা থেকে হনুমানটি পন্যবাহী ট্রাকে করে এ জেলায় এসেছিল। 

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক এবং হতাশার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি আমাদেরকে জানালে হনুমানটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া যেত এবং হনুমানটিকে বনবিভাগের মাধ্যমে দিনাজপুরের সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা যেত।   

উল্লেখ্য, বিরল প্রজাতির একটি হনুমান গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান মাস্টারের বাড়ির পাশে গাছে, কখনও মাটিতে অবস্থান করে। উৎসুক জনতা তার উপর আক্রমণ চালায়।জীবনের ভয়ে গাছের ডালে ডালে ঘোরাঘোরি করে।  হনুমানটিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসবেন প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা এমনটি মনে করেছিলেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাসহ সচেতন মহল। কিন্তু আজ সকালে হনুমানটিকে পিটিয়ে মারা খবর পাওয়া গেছে।   

এর আগে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থান থেকে বিরল প্রজাতির শকুন উদ্ধার করে বন বিভাগের মাধ্যমে দিনাজপুর শকুন লালন পালন উদ্যানে হস্তান্তর করার নজিরও রয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ