Tuesday -
  • 0
  • 0
Samium Bashir Meraz
Posted at 08/01/2021 02:23:pm

কলাবাগানে ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ

কলাবাগানে ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ

কলাবাগানে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে ও নয় দফা দাবিতে রাজধানীর প্রেসক্লাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে কয়েকটি বামপন্থী ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকালে ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, গতকাল কলাবাগানে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ জানাই আমরা। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় দাবি করে প্রিন্স বলেন, আমাদের সমাজে নারীদের প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি তার ফলাফল এই ঘটনা। গত ১০ বছরে এক শতাংশ ধর্ষণের ঘটনার বিচার আমরা করতে পারিনি। ধারাবাহিকভাবে এইগুলো আমাদের ঘটেই চলেছে।

প্রসাশনের ব্যর্থতার দাবি করে তারা অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ দাবি জানিয়েছে এই তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশে। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ফয়েজউল্লাহ, নারী মুক্তি কেন্দ্রের নাইমা খালেদ মনিকা, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সুস্মিতা মরিয়ম, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সুস্মিতা রায় সুপ্তি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের আশিকুর রহমান জুয়েলসহ বাম সংগঠনের আরও নেতা-কর্মী। 

এর আগে ধর্ষণের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সচেতনতা তৈরিতে ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যানারে গত বছরের ১৬ ও ১৭ অক্টোবর ঢাকা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে লংমার্চ করে বেশ কয়েকটি বামপন্থী ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা ধর্ষণের প্রতিবাদে নয় দফা দাবির কথা বলেছিল। সেইটির কথা আজকের এই তাৎক্ষণিক সমাবেশেও উঠে এসেছে। 

আন্দোলনকারীদের ৯ দাবি:

১. ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরষ্ট্রমন্ত্রীকে অপসারণ করতে হবে।

২.পাহাড়ে সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

৩. সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

৪. ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞানে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিযন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

৫. তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তার আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত শেষ করতে হবে।

৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭৯-১৫৫ (৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।

৮. পাঠ্যবইয়ে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দচয়ন বাদ দিতে হবে।

৯. গ্রামীণ সালিশে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ