• 0
  • 0
Samium Bashir Meraz
Posted at 08/01/2021 11:01:am

গণবিজ্ঞপ্তি কার্যকরে কেউ নেই

গণবিজ্ঞপ্তি কার্যকরে কেউ নেই

ঢাকা থেকে পুরো পরিবার নিয়ে দ্বীপ ভ্রমণে এসেছেন ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান। রাত ১০টার দিকে সৈকতের উত্তর পাশের একটি দোকানে বসে টেকচান্দা ও লবস্টার গ্রিল খাচ্ছিলেন তাঁরা। তাঁদের পাশে আরও ১২-১৫ জন বিভিন্ন ধরনের সিফুড খাচ্ছেন। সিফুডের দাম আকারভেদে ১৫০ থেকে ২ হাজার টাকা। লবস্টার ও কোরালের দাম সবচেয়ে বেশি।

আমিনুর রহমান বলেন, রাতের সেন্ট মার্টিন এতটা জমজমাট হবে কল্পনাও করিনি। দ্বীপের চারদিকে নীল জলের বঙ্গোপসাগর। সমুদ্রের পাশে বসে ঢেউয়ের হুংকার শুনতে শুনতে শীতল হাওয়ায় গরম পরোটার সঙ্গে জলজ্যান্ত লবস্টার কিংবা কোরাল ভেজে খাওয়ার আনন্দই অন্য রকম। 

গণবিজ্ঞপ্তির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে আমিনুর রহমান বলেন, সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে অবশ্যই গণবিজ্ঞপ্তির দ্রুত কার্যকর দরকার। প্রয়োজন অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

রাত ১২টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপের পশ্চিম সৈকত থেকে উত্তর পাশে প্রাসাদ প্যারাডাইস পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বালুচরে চেয়ার–টেবিল বসিয়ে প্রায় ২১০টি দোকানে বিক্রি হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ সহ অন্যান্য সিফুড ও বিভিন্ন পোশাক। সব দোকানে জ্বলছে বাহারি সোলার প্যানেলের বাতি। কারণ, এই দ্বীপে বিদ্যুৎ নেই। দোকানগুলোর সামনে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো পর্যটক। প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যটকের মুখে মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্বও মানা হচ্ছে না।  

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক দোকানগুলোর মধ্যে অন্তত ৩৫টিতে আলো জ্বালিয়ে চলছে বারবিকিউ পার্টি। মাছ খেতে খেতে লোকজনের হইচই আর নাচ-গান। মুঠোফোনের ফ্লাশলাইট জ্বালিয়ে চলছে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ। গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকের ভিড়ে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ে। 

ছেলেমেয়ে নিয়ে ভ্রমণে এসেছেন চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যাংক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ। বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। শহরে তেমন কোথাও বের হওয়ার পরিবেশ ও পরিস্থিতি নেই। নির্জন দ্বীপ বিবেচনা করেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আসা। এসে দেখি মানুষের ঢল। 

সৈকতের শুঁটকি বিক্রেতা নবী হোসেন ও ডাব বিক্রেতা উলা মিয়া জানান, পর্যটন মৌসুমের পাঁচ মাস (নভেম্বর-মার্চ) সেন্ট মার্টিনে পর্যটকেরা আসেন। এ সময় দ্বীপে উৎপাদিত মাছ, শুঁটকি বিক্রি হয়। ডাব বিক্রি করে স্থানীয় জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জীবিকা নির্বাহ করেন।

বুধবার টেকনাফ থেকে সাতটি প্রমোদতরি জাহাজ, ১২টির বেশি কাঠের ট্রলার ও ৫০টির বেশি স্পিডবোটে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে এসেছেন অন্তত সাড়ে তিন হাজার পর্যটক। তাঁদের মধ্যে অন্তত আড়াই হাজার সেন্ট মার্টিনে রাতযাপন করছেন। রাতের সেন্ট মার্টিন উপভোগ করতে হাজারো পর্যটক নেমে পড়েন সৈকতে। সমুদ্রের গর্জন আর নীল জলের অপরূপ দৃশ্য মানুষের মন-প্রাণ সতেজ করলেও দ্বীপটির যন্ত্রণা কারও অনুভূতিতে বাজছে না। করোনা সংক্রমণের তোয়াক্কাও কেউ করছে না।

গণবিজ্ঞপ্তি কিংবা বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধান আছে ঠিকই কিন্তু কার্যকর করার মত কেউ সেখানে নেই। গণবিজ্ঞপ্তি কার্যকরের বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানকার কোস্টগার্ড, পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদ কেউই অবগত নন।   

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক শেখ নাজমুল হক বলেন, গণবিজ্ঞপ্তির বিষয়ে সেখানকার লোকজনকে সচেতন করা হচ্ছে। জনবলসংকটের কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ