• 0
মোঃ হোসাইন আলী কাজী
Posted at 06/01/2021 10:29:pm

আমতলীতে প্রবাহমান খালে বালু ভরাট করে দখল!

আমতলীতে প্রবাহমান খালে বালু ভরাট করে দখল!

বরগুনার আমতলী উপজেলার খেকুয়ানী বাজার সংলগ্ন প্রবাহমান খেকুয়ানী খালে বালু ভরাট করে দখল করেছে প্রভাবাশালী আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও ইউপি সদস্য মোঃ ইউসুফ মৃধা। ওই খাল ভরাট করায় এলাকা ও খেকুয়ানী বাজারের অন্তত এক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পরেছে। দ্রুত ওই খাল উদ্ধারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে বুধবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নিশাত তামান্না বালু দিয়ে খাল ভরাট বন্ধ করে দিয়েছেন।

জানাগেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের শত বছরের খেকুয়ানী খাল ১৯৯০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণ করে। বাঁধ নির্মাণ করায় খালের একাংশ খেকুয়ানী বাজারের পিছনে থেকে যায়। বাঁধ দেওয়ায় সুযোগে ২০০০ সালে উপজেলা ভুমি অফিস থেকে ওই খাল বন্দোবস্ত দেন  স্থানীয়  প্রভাবশালী আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও ইউপি সদস্য মোঃ ইউসুফ মৃধা। গত ২০ বছর ধরে খাল বন্দোবস্ত নেয়ায়  বিষয়টি তারা গোপন রাখেন। গত বছর ওই খালে তারা বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করেন। গত রবিবার ওই খাল তারা বালু দিয়ে ভরাট শুরু করেন। তখন এ বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। খবর পেয়ে বুধবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নিশান তামান্না বালু দিয়ে খাল ভরাট বন্ধ করে দিয়েছেন। 

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মান্নান হাওলাদার ও ইউপি ইউসুফ মৃধা বালু দিয়ে খাল ভরাট শুরু করেছেন। খালের অন্তত অর্ধেক বালু দিয়ে ভরাট হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, ইউপি সদস্য ইউসুফ মৃধা ও মান্নান হাওলাদার খালের জমি বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাদের জমি বুঝিয়ে দিতে এখন তারা খাল ভরাট করছে।   

স্থানীয়   জয়নুল আবেদীন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ইউপি সদস্য ইউসুফ মৃধা ও আব্দুল মান্নান জোরপূর্বক খাল ভরাট করে জমি দখল করছে। তিনি আরো বলেন, এ খালটি ভরাট হলে হলে খেকুয়ানী বাজার বাসিন্দারা দুর্ভোগে পরবে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত এ খাল উদ্ধারের দাবী জানাই। 

ইউপি সদস্য মোঃ ইউসুফ মৃধা ও আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, ২০০০ সালে ওই খাল সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত এনেছি। সেই খাল বালু দিয়ে ভরাট করতেছি।

উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এসিল্যান্ড স্যারের নির্দেশে ঘটনা¯’লে গিয়ে খাল ভরাট বন্ধ করে দিয়েছি।

আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নিশাত তামান্না বলেন, প্রবাহমান খাল কিভাবে বন্দোবস্ত হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। ওই খাল কোন ভাবেই ভরাট করতে পারবে না। খবর পেয়ে লোক পাঠিয়ে খাল ভরাট করা বন্ধ করে দিয়েছি।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ