• 0
  • 0
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
Posted at 06/01/2021 05:49:pm

করোনায় কমেছে সড়ক দূর্ঘটনার সংখ্যা

করোনায় কমেছে সড়ক দূর্ঘটনার সংখ্যা

করোনায় কমেছে সড়ক দূর্ঘটনার সংখ্যা ও নিহতের সংখ্যা। ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছরে সড়ক দূর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে, নিরাপদ সড়ক চাই।

আজ বুধবার (৬ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে সড়ক দুর্ঘটনার এ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন নিরাপদ সড়ক চাই'র (নিসচা) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

এসময় জানানো হয়, রেলপথের দুর্ঘটনায় ১২৯জন নিহত ও ৩১জন আহত হয়েছেন। আর নৌপথের দুর্ঘটনায় ২১২জন নিহত ও ১০০ জন আহত বা নিখোঁজ হন।

নিসচা'র প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে, গত বছরের জানুয়ারি মাসে বেশি ৪৪৭টি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এই মাসে ৪৯৫ জন নিহত ও ৮২৩ জন আহত হন। আর এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে কম যথাক্রমে ১৩২ ও ১৯৬টি দুর্ঘটনা ঘটে। এর পেছনের কারণ হিসেবে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশে লকডাউন থাকায় দুর্ঘটনা কম হয়েছে।

গত কয়েক বছরের তুলনামূলকভাবে এই দূর্ঘটনার সংখ্যা ও নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলছিল। ২০১৭ ও ১৮ সালের তুলনায় ১৯ সালে সেই সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু সে তুলনায় ২০২০ সালে কিছুটা কম লক্ষ্য করা যায়। বছরে বছরে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তে থাকা এই সংখ্যা করোনাকালীন সময়ে এসে লাঘব হয়।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, , ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ এলাকায় বেশি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) এলাকায় কম দুর্ঘটনা ঘটে।

এসময় তিনি দাবি করেন, এসব এলাকায় চালকরা তুলনামূলক কম গতিতে নিয়ন্ত্রণে রেখে যানবাহন চালানোর কারণে দুর্ঘটনা কম হয়েছে।

২০২০ সালে মাসওয়ারি দুর্ঘটনার হিসাব করলে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে ৪৪৭ দুর্ঘটনায় ৪৯৫ জন নিহত এবং ৮২৩ জন আহত, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৬৫ দুর্ঘটনায় ৪৩৭ নিহত এবং ৭৬২ আহত, মার্চে ৩৭৯ দুর্ঘটনায় ৪৫৪ নিহত এবং ৭৬৭ আহত, এপ্রিলে ১৩২ দুর্ঘটনায় ১৩০ নিহত এবং ১২০ আহত, মে মাসে ১৯৬ দুর্ঘটনায় ২৪২ নিহত এবং ২০৬ আহত, জুনে ২৬০ দুর্ঘটনায় ৩৩০ নিহত এবং ২৩৩ আহত, জুলাইয়ে ২২০ দুর্ঘটনায় ২৮৪ নিহত এবং ১৯৭ আহত, আগস্টে ৩৪০ দুর্ঘটনায় ৪৮৩ নিহত ও ৪২৩ আহত, সেপ্টেম্বরে ২১৬ দুর্ঘটনায় ২৫০ নিহত ও ৪০৪ আহত, অক্টোবরে ২৩০ দুর্ঘটনায় ২৬২ নিহত ও ৩৮৭ আহত, নভেম্বরে ২৬২ দুর্ঘটনায় ৩১৬ নিহত এবং ৩৭২ আহত এবং ডিসেম্বরে ৩৬৩ দুর্ঘটনায় ৪৫৮ জন নিহত এবং ৩৯১ জন আহত হন। এছাড়া অপ্রকাশিত তথ্য ও হাসপাতালে ভর্তির পর এবং হাসপাতাল থেকে রিলিজের পর মৃত্যুর হিসেবে পুরো বছরে আনুমানিক ৬৮২ দুর্ঘটনায় ৮২৮ জন নিহত হন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতবছর ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৯৬৯ জন নিহত হয়েছেন। আর ৫০৮৫ জন আহত হয়েছেন। গত একবছরে মোট ৪০৯২টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাই ঘটেছে ৪ হাজার ৭০২টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫ হাজার ২২৭ জন। আহত ৬ হাজার ৯৫৩ জন।

সবচেয়ে বেশি ৩০৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ১ হাজার ৫৯৯টি বেশি হয়েছে। ২০১৮ সালে ৩ হাজার ১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৩৯ জন নিহত ও ৭ হাজার ৪২৫ জন আহত হয়েছিল। আর ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৩৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৬৪৫ জন নিহত ও ৭ হাজার ৯০৮ জন আহত হয়েছিল।

আর সড়ক দুর্ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সড়কের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং এর অভাব, টাস্কফোর্স কর্তৃক প্রদত্ত ১১১টি সুপারিশনামা বাস্তবায়ন না হওয়া, চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা, দৈনিক চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো, লাইসেন্স ছাড়া চালক নিয়োগ, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে ওভারটেকিং করা, বিরতি ছাড়াই দীর্ঘসময় ধরে গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো বন্ধে আইনের প্রয়োগ না থাকা, সড়ক ও মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার গাড়ি বৃদ্ধি, মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, একই রাস্তায় বৈধ ও অবৈধ এবং দ্রুত ও শ্লথ যানবাহন চলাচল এবং রাস্তার পাশে হাটবাজার ও দোকানপাট থাকা।

এসময় তিনি সড়ক আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হলে সড়ক নিরাপদ হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন। 

এসময় অনুষ্ঠানটিতে সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে মহাসচিব সৈয়দ এহসানুল হক কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ ও সদস্য আজাদসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ