Wednesday -
  • 0
  • 0
মো.সাইফুল ইসলাম
Posted at 06/01/2021 03:03:pm

তুতেনখামেন, যে মমির অভিশাপে মৃত্যু ছিলো অবধারিত!

তুতেনখামেন, যে মমির অভিশাপে মৃত্যু ছিলো অবধারিত!

নব্বই দশকের ছোটদের কাছে এডভেঞ্চার আর রহস্য ফ্যান্টাসির জনপ্রিয় চরিত্র ছিল তুতেনখামেন। মোশন পিকচারের বদৌলতে এই ঐতিহাসিক চরিত্রটি তার অবস্থান করে নিতে পেরেছিলো ছোটদের মনে। তবে যুগ যুগ ধরে এই চরিত্রটিই আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছিলো অনেকের।     

মাত্র ২০ বছর বয়সে কিশোর ফারাওয়ের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরপরই হঠাৎ আলোচিত হয়ে উঠলো। আরও খোলাসা করে বললে তার মমি আবিষ্কৃত হওয়ার পর। হঠাৎ এমন আলোচিত হয়ে ওঠার কারণ কী? তুতেনখামেনের অভিশাপ! 

অভিশাপের গল্প করার আগে তুতেনখামেনের পরিচয়টা একটু জেনে নেয়া যাক। তুতেনখামেন ছিলেন প্রাচীন মিশরের তুতমসিদ সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট। মাত্র ৯ বছর বয়সে সিংহাসনে বসা তুতেনখামেন রাজত্ব করেছেন ১৩৩৩-১৩২৪ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত। আধুনিক প্রত্নতত্ত্ব সমাজে তিনি ‘কিং টুট’ নামেও পরিচিত। 

মূলত তার সমাধি আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই তুতেনখামেনের অভিশাপের শুরু। ১৯২৩ সালের ১৭ নভেম্বর প্রথম তার সমাধিতে প্রবেশ সম্ভব হয়। তারও আগে কয়েক বছর ধরে সমাধিতে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার। এরপর ২৭ নভেম্বর পৃষ্ঠপোষক লর্ড কার্নাভানসহ ২২ জনের একটি পরিদর্শক দল নিয়ে তুতেনখামেনের সমাধি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। ঝামেলার শুরু সেখান থেকেই। 

‘এই পবিত্র সমাধিতে যে প্রবেশ করবে তার জীবনে নেমে আসবে মৃত্যুর ভয়াল থাবা', সমাধিকক্ষে লেখা এই ভবিষ্যদ্বাণীর গুজব ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। 

যদিও গবেষকদের মতে জানা যায়, এমন কিছুই লেখা ছিল না ওই সমাধিকক্ষে। তবে সেখানে আরও একটি মুর্তি ছিল, যার নাম ‘আনুবিস’।

সেখানে লেখা ছিল, ‘আমি আনুবিস, বালুকণাও আটকে দেই যেন এই গোপন প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করতে না পারে।’ 

এরমধ্যে পরপর দুটি আক্রমণ নেমে আসে প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার ও পৃষ্ঠপোষক কার্নাভর্নের উপর। সমাধিতে প্রবেশের ওই দিন রাতেই কার্টারের ক্যানারি পাখি অপহৃত হয়। এরই মাসখানেক পর অদ্ভুতভাবে মৃত্যুবরণ করেন কার্নাভর্ন। জীবিত অবস্থায়  মিশর থেকে আর ফিরতে পারেনি সে। 

তার মৃত্যুর গল্পটা ছিলো এরকম, একদিন সকালে শেভ করার সময় একটি মশা তার গালে কামড় দেয়। ওই অবস্থায় মশা মারতে গিয়ে শেভিং ক্ষুরে তার গাল কেটে যায়। সেখান থেকে ইনফেকশনে জ্বর এবং সেই জ্বরে শেষপর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন কার্নাভর্ন। শুধু তাই নয়, ওইদিনই লন্ডনে তার কুকুর মারা যায়। সময়টি ছিল এপ্রিল মাস। তার পাঁচ মাসের ব্যবধানেই মৃত্যুবরণ করেন কার্নাভর্নের সৎভাই অব্রে হার্ভার্ট ও। 

কার্নাভান যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তখন বিতর্কিত এক ব্রিটিশ লেখক ম্যারি কুরেলি সতর্ক করে বলেছিলেন,'আমার কাছে The Egyptian History of the Pyramids নামে খুবই প্রাচীন এবং দুর্লভ একটি আরবি বই রয়েছে। যাতে লেখা আছে “ফারাও রাজার সমাধিতে অনধিকার প্রবেশ করবে তার জন্য অপেক্ষা করছে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শাস্তি।" 

একের পর এক এসব ঘটনার কারণে তুতেনখামেনের অভিশাপের গল্প আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। 

বিখ্যাত রেডিওলোজিস্ট স্যার আর্চিবল্ড ডগল্যাস রেইড তুতেনখামেনের মমি থেকে তার মৃতদেহ এক্স-রে করেছিলেন।এক্স রে করে দেখা যায় যে তার মাথার পেছনের অংশে আঘাতের চিহ্ন আছে। ২০০২ সালে একদল গবেষোক এই সিদ্ধাতে পৌছায় যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু তা প্রমাণ হয়নি। সমাধি আবিষ্কারের এক বছরের মাথায় রেডিওলোজিস্ট রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। সমাধিতে প্রবেশের বছরেই পরিদর্শক দলের মধ্যে থাকা প্রিন্স আলি কামাল ফাহমিকে তার স্ত্রী গুলি করে হত্যা করেন। ১৯২৮ সালে মারা যান আরেকজন পরিদর্শক। কার্টারের ব্যক্তিগত সচিবের মৃতদেহ পাওয়া যায় ১৯২৯ সালে। সেই শোকে পরের বছর ১৯৩০ সালে তার বাবাও আত্মহত্যা করেন। 

এতোসব কাণ্ডের পরও প্রত্নতত্ত্ববিদ কার্টার ঠিকই বেঁচে ছিলেন ৬৪ বছর পর্যন্ত। এগুলো হয়তো অনেকগুলো কাকতালীয় ঘটনার মিলন ছিলো। আবার বৈজ্ঞানিকভাবেও ব্যাখা করা যায়। 

হয়তো কফিনটির গায়ে বিষ মাখানো ছিলো বলে আশে পাশের সবাই মারা গেছে।অনেকে আবার মনে করে হাজার বছরের পুরোনো জীবানু আবদ্ধ ছিলো এই সমাধিতে, যারা ওই সমাধিতে প্রবেশ করেছে ওই জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলো। কিন্তু গবেষক কার্টারের ব্যাপারেই যত ব্যাতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। আদতে অভিশাপ আসলেই ছিলো কিনা কে জানে! 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ