Saturday -
  • 0
জাহাঙ্গীর আলম কবীর
Posted at 06/01/2021 11:56:am

মহিলারা আর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে না: এমপি রবি

মহিলারা আর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে না: এমপি রবি

উঠোন বৈঠক রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন সংযোজন। নতুন আইডিয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন উদ্ভাবনী।

সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এই উদ্ভাবনীকে কাজে লাগিয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় অসংখ্য উঠোন বৈঠক করেছেন। উঠোন বৈঠকগুলোতে নারীরা ব্যাপক সাড়াও দিয়েছেন। তারা নিজেদের গৌরবান্বিত ও সম্মানিত বোধ করছেন। এই উঠোন বৈঠক নিয়ে তার বাসভবনে মীর মোস্তাক আহমেদ রবির একটি সাক্ষাৎকার গ্রহন করা হয়। সাক্ষাৎকারটি গ্রহন করেন সিনিয়র সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম কবীর।   

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিমধ্যেই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। হৃদয় কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।

নারীদের মনের মধ্যে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে এসে নতুন ধারা উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি যাবার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে তার কেমন লাগছে- দৈনিক সাতনদীর এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা একটা ভাল প্রশ্ন। একটা সুন্দর প্রশ্ন। এই জাতীয় প্রশ্ন করা উচিত। আমরা পাবলিক মিটিং করি, স্ট্রিট মিটিং করি, পুরুষ মানুষরা সহজে আমাদের কাছে আসতে পারে।

আমরা দেখেছি গ্রামগঞ্জের মহিলারা সাধারণত কথা বলে না, সহজে কথা-বার্তা বলতে চায় না। যখন গ্রামে আমরা উঠোন বৈঠকে যাচ্ছি মহিলারা তখন খুব সহজেই কাছে আসতে পারে। তখন তাদের কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করছি। তারা কথা বলতে শিখছে। বলছি আমাদের সমালোচনা করেন। আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। আপনার কি কি পেয়েছেন আর কি কি পাননি সেগুলো বলেন। আমার কাছে ভালো লাগে যখন তারা বলেন, বিদ্যুৎ নেই কেন? ১০ টাকার চাল খাওয়ান না কেন? নেবাখালিতে উঠোন বৈঠকে মহিলাদের যখন জিজ্ঞেস করি আপনাদের কোন সমস্যা আছে?  না। আপনারা কি বিদ্যুৎ পান? পাই। আপনারা কি বয়স্ক ভাতা পান? পাই। বিধবা ভাতা পান? পাই। প্রতিবন্ধী ভাতা পান? পাই। শুধু আমাদের রাস্তাটা একটু খারাপ। এটা একটু ঠিক করে দেন। আমি ফিরে এসে এলজিডিকে বলি তাদের রাস্তাটা পরিদর্শন করে এসে সলিং করে দাও। এটাতে মানুষের অনেক উপকার হয়। নিউ ডাইমেনশন। ভোটারের পারসেন্টে মহিলাদের ভোট অনেক বেশি। টু থ্রি পারসেন্টেরও রেশী।

অতএব একটা মহিলার ভোটে একটা সরকার পরিবর্তন হতে পারে। একটা ভাল মানুষ এমপি হতে পারে। একটা ভাল মানুষ উপজেলায় আসতে পারে। একটা ভাল মানুষ ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারে। তাদের যদি সুন্দরভাবে উদ্বুদ্ধ করা যায়- সেটাই হলো বড় কাজ। অতীতে ধর্মে নামে যারা বোরখা পরে ছোট কোরাআন শরীফ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যেত তারা কিন্তু মিথ্যে কথা বলে, দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে সহজে আল্লাহ রসুলকে পাওয়া যাবে প্রচার করতো। এভাবে তারা মেয়েদের সম্পূর্ণ একটা অন্ধকারে রেখেছিল। আমরা যখন গিয়েছি তাদের বুঝাতে পেরেছি। তারা যখন বুঝতে পেরেছে, বলেছে আমরা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেব না, নৌকায় ভোট দেব। এটা হলো আমাদের উঠোন বৈঠকের বড় অর্জন।

সবচেয়ে বড় কথা হলো মহিলারা যে কথা বলছে- এটাই একটা বড় প্লাস পয়েন্ট। একটা মানুষ যখন কথা বলে, শেখে বা জানে, তখন তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায়।   

আইনিউজবিডি: উঠোন বৈঠকে সাধারণ মানুষ আপনাকে কি ভাবে গ্রহণ করছে, আপনার মূল্যায়ন কি?

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি: তারা ভালোভাবে গ্রহণ করছে। কারণ তারা এমপিদের কাছে পায় না। এমপি তো দূরের কথা অনেক জনপ্রতিনিধিদের তাদের কাছে পায় না।

একজন এমপিকে এমনভাবে কাছে পাওয়ায় তারা খুশি। একটি বাড়ির পাশে উঠোন। ২০-৩০টি বাড়ির মাঝখানে উঠোন। সেখানে তারা তাদের এমপির সাথে কথা বলতে পারছে। এটা তাদের এক বিশাল অনুভূতি। সেখানে তাদের সাথে কথা বললে তারা স্বস্তি পায়। তাদের স্পট কিছু সিদ্ধান্ত দেয়া যায়। ওদেরকে বোঝানো যায়। বলা যায় বয়স্ক ভাতা নিতে হলে সেখানে একটা বয়সের ব্যাপার আছে। বিধবা ভাতা নিতে হলে আপনি যদি বিধবা হন তাহলে বিধবা ভাতা নিতে পারবেন। প্রতিবন্ধী ভাতা নিতে গেলে একটা ক্রাইটোরিয়া আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা করছেন হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে একটা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আনার। এটাও তো ঠিক আমরা এক্ষুনি সবাইকে এই বেষ্টনীতে আনতে পারবো না। এটা খুব কঠিন কাজ। প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে একদিন আমরা এটা করতে পারবো। 

উঠোন বৈঠকে টাকা পয়সা কম খরচ হয়। হঠাৎ করে চলে গেলাম। তাদের সাথে কথা বললাম। এক দেড় দু’ঘন্টা থাকলাম। তাতে বোঝা যায় গ্রামগঞ্জের মানুষ কি চাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠা করে মহিলাদের স্বাস্থ্য সেবাটা দোরগোড়ায় পৌছে দিয়েছে। যদিও কোন কোন জায়গায় কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থা একটু খারাপ। কিন্তু তারপরেও মানুষের সেবা দেয়া হচ্ছে। সেখানে ৩৫ প্রকার ওষুধ দেয়া হয়।

মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে পারে। উঠোন বৈঠক করে মানুষকে সে কথা বোঝানো যায়। তাদের সহজেই উদ্বুদ্ধ করা যায়। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার সবচেয়ে বড়[ পথ হলো উঠোন বৈঠক। 

আইনিউজবিডি: উঠোন বৈঠকে সাধারণ মানুষ যে সব দাবি দাওয়া করে সেগুলোকে আপনি কিভাবে সমাধান দেন?

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি: তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেবার চেষ্টা করি। যেমন একজন বলল, আমার একটা ডিপটিউবওয়েল দরকার। দেখলাম এটা আমার হাতের মধ্যে আছে আমি দিয়ে দিলাম। তারা রাস্তাঘাটের কথা বলে। ওটা তো যখন তখন করা যায় না। বলি দেখি ওটা কিভাবে করা যায়। উঠোন বৈঠকের আসলে অনেক গুরুত্ব আছে। এতে মহিলারা অনেক খুশি। তাদেরকে কনভেন্স করা যায়। বলা যায়, বোঝানো যায় এবং তারা বোঝে।   

আইনিউজবিডি: উঠোন বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো মহিলাদের খুব কাছাকাছি হওয়া যায়। আপনার কি অভিমত?

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি: এটাই, তারা যে একটা অন্ধকারের মধ্যে ছিল, উঠোন বৈঠকে তাদের চোখের পর্দাটা খুলে দেয়া হয়েছে। এখন তারা চোখ কান খোলা রেখে সঠিক কাজটিই করবে। 

আইনিউজবিডি: সরকারের তো অনেক সাফল্য আছে। সেগুলোকে তারা কিভাবে দেখছে?

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি: তারা এতে খুব খুশি। তারা এখন বলে, স্যার আমাদের আর কিছু লাগবে না। তারা বিদ্যুৎ রাস্তাঘাট সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে অনেক খুশি। 

আইনিউজবিডি: তারা তো আবার অনেক সমালোচনাও করে।

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি: হ্যাঁ, সেটা হলো ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের কাছে যখন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতার কার্ড চায়, তখন তাদের ঘুরানো হয়। আবার কেউ পয়সাও চায়। আমি বলেছি, এমটা হলে সরাসরি আমার কাছে চলে আসবেন। এটা আমি দেখবো। এটা কোন মিথ্যে কথা নয়, কেন তারা মিথ্যে বলবে। সে জন্যে বলেছি, এটা বিনে পয়সায় দেয়া হয়।

আপনারা কেন পয়সা খরচ করবেন। এত তারা অনেক প্রভাবিত হয়. আসস্ত হয়। তারা বলে, এমপি এসে বলে গেছেন, কথাগুলো সঠিক। সে ভাবে তারা চিন্তা ভাবনা করে, কাজও করে।   

আইনিউজবিডি: আগামী নির্বাচনে উঠোন বৈঠক ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে?

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি: সাংঘাতিক ভাবে প্রভাব ফেলবে ইনসাল্লাহ। মানে মানুষের মোটিভেশনের বড় একটা পথ হলো উঠোন বৈঠক।

ধরেন একটা মানুষ অন্য চিন্তা চেতনা নিয়ে বসে আছে, তাকে সেখান থেকে সরিয়ে আনার জন্য উঠোন বৈঠক একটা উত্তম পথ। 

আইনিউজবিডি: এর বাইরে আপনি আরও কিছু বলবেন কি।

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি: উঠোন বৈঠক করে আমি খুব তৃপ্ত, তৃপ্তি পাচ্ছি। প্রতিদিন প্রায় জায়গা থেকে আমাকে দাওয়াত দিচ্ছে। আমিও যাচ্ছি।

সত্যি কথা বলতে কি সাতক্ষীরার আব্দুর রাজ্জাক পার্ক, ফিংড়ি ওই ইউনিয়নের পরিষদের মাঠে বা ব্যাংদাহর কোন জায়গায় বা আগরদাঁড়ীর কোন মাঠে বক্তৃতা করার থেকে মানুষের বাড়ির কোন আঙ্গিনায় মিটিং করা অনেক ভালো। তাতে মহিলাদের অংশগ্রহণটা ভাল থাকে। কষ্ট কম হয়। বহু জায়গার থেকে মহিলারা স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে আসে। কোন কোন জায়গার উঠোন বৈঠকে এক হাজারেরও বেশী মহিলারা এসেছে।

মহিলাদের উপস্থিতি দেখার মতো। সবচেয়ে বড় কি জানেন, একটা মহিলা বোকা, কোন লেখাপড়া জানে না, সে যখন প্রশ্ন করে, কিরাম তোমরা তো আর ১০ টাকার চাল দিচ্ছো নাতো, ওই আমার ওখানে বিদ্যুৎটা নাই, আমি তো কোন ভাতা পাচ্ছি না, এটা ভাল লাগে। এই প্রচেষ্টাকে আমি দারুণ এ্যাপ্রিসিয়েট করি।     

আইনিউজবিডি: উঠোন বৈঠক কি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত চলবে? মীর মোস্তাক আহমেদ রবি: হ্যাঁ, চলবে। 

আইনিউজবিডি: আপনাকে ধন্যবাদ। মীর মোস্তাক আহমেদ রবি: আপনাকেও ধন্যবাদ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ