• 0
  • 0
Samium Bashir Meraz
Posted at 06/01/2021 09:13:am

নতুন বছরে বাড়ছে আমদানি খরচ, শঙ্কা ব্যবসায়ীদের

নতুন বছরে বাড়ছে আমদানি খরচ, শঙ্কা ব্যবসায়ীদের

দেশের রফতানি থেকে ৮৪ ভাগই আসে পোশাক খাত থেকে। তবে করোনার কারণে পোশাকতৈরী ও বিদেশে বিক্রীর আদেশ বন্ধ হওয়ায় অন্যান্য খাতের মত এ খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। রফতানি খাতে সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা প্যাকেজ কিছুটা স্বস্তি দিলেও বাধ সেধেছে বিশ্বব্যাপী কন্টেইনার ও জাহাজ সংকট। 

রফতানিকারকরা কন্টেইনারের অভাবে উড়োজাহাজে রফতানি করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে খুব একটা লাভ আসছে না কারণ লাভের বেশির ভাগ অংশই চলে যাচ্ছে উড়োজাহাজ ভাড়আয়। সংশ্লিষ্টদের আশা সকল রকম সমস্যার দ্রুত সমস্যা হবে। 

পোশাক খাতের এক উদ্যোক্তা একটি সাক্ষাৎকারে জানান, এখন বিশ্বব্যাপী সংকট তৈরি হয়েছে। এর আগে যে জাহাজে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ২১ দিনে সম্ভব হতো, সেটা এখন ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন পড়ছে। এতে বন্দরে কন্টেইনার আটকে যাচ্ছে, আবার কন্টেইনার খালাস না হওয়ায় জাহাজও একই পরিস্থিতিতে পড়ছে। এতে তীব্র কন্টেইনার ও জাহাজ সংকট তৈরি হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় বিকল্প পদ্ধতিতে (উড়োজাহাজ) পণ্য রফতানি করতে হচ্ছে। ক্রেতা আর বাজার ধরে রাখতে বাধ্য হয়ে এভাবে পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে।

এতে উৎপাদন, শ্রমিকের মজুরি আর বিমান ভাড়ায় সব চলে যাচ্ছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে রফতানিকারকদের। একই কথা জানা গেল আরো কয়েকজন পোশাক উদ্যোক্তাদের। তারা বলেন, এভাবে চললে পথে বসার উপক্রম হবে। 

জাহাজ বা কন্টেইনার সংকটের কারণে আমদানি এখন বেশ কঠিন পড়েছে। অন্যান্য মাধ্যমে আমদানি খরচ অনেক বেশি। শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্যপণ্য বাংলাদেশকে আমদানি করতে হয় জাহাজের মাধ্যমে।করোনা মহামারির কারণে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে যার এখনো কোন পরিবর্তন নেই।   

নতুন বছরে বড় বড় জাহাজ কোম্পানি তাদের পেমেন্ট বাড়িয়ে নিয়েছে যার প্রভাব পড়েছে পোশাক শিল্পের সঙ্গে নির্মাণ খাতে। রড ও ইস্পাত শিল্প স্ক্র্যাপের ওপর নির্ভরশীল, যা সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর। এর মধ্যে পরিবহন খরচ প্রায় ১০০ ডলার বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ অন্যান্য রফতানিকারক দেশে শিপিং ফি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া খালি কন্টেনাইরের অভাব সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। চলতি অর্থবছরের বিগত চার মাসে প্রায় ১৭ দশমিক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যেও পণ্য আমদানি করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যে পণ্য আমদানি করেছে, যা বিগত অর্থবছরের থেকে প্রায় ১৩ শতাংশ কম। আবার চট্টগ্রাম বন্দরে সব চার্জসহ এক টন ডালের দাম আগে ৫৭০ ডলার থাকলে এখন তা প্রতিটনে ২০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ফল ব্যবসায়ীরা বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীন থেকে ফল আমদানি করে। জাহাজ চলাচলের খরচ বাড়ার কারণে ফলের দামও বৃদ্ধি পাবে। 

তারা বলেন, ফি বাড়ার আগে সাড়ে ৮ থেকে ৯ ডলারে ২০ কেজি আপেলের কার্টন পাওয়া যেত, যা এখন ১১ থেকে ১২ ডলারে ঠেকেছে। এর ফলে বাড়তি দামে ক্রেতাদের ফল বিক্রি করতে হচ্ছে। অবস্থার উন্নতি হলেও খুব জলদি হবে না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। করোনা মহামারি শুরুর  পর পণ্য পাঠানো থেকে সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে।

খালাসে শারীরিক দূরত্ব মেনে সব কার্যক্রম চলছে বিশ্বব্যাপী। এতে পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই গুণ অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। 

করোনা পূর্ববর্তী সময়ে ২১ দিনে একটি জাহাজ খালাস হলেও পরবর্তীতে তা ৩৫ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন পড়ছে। এছাড়া করোনা মহামারির প্রথম দিকে কন্টেইনার জট শুরু হয়েছিল। সে আজও জট কাটেনি। এরই মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে শুরু করেছে। এতেই তৈরি হয়েছে শঙ্কা, পণ্য রফতানিতে এখন বিপদে রফতানিকারকরা। 

কন্টেইনার সংকট বিষয়ে বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) ফজলে শামীম এহসান বলেন, কন্টেইনার সংকট নেই। তবে করোনার কারণে শিপমেন্ট হতে দেরি হচ্ছে। যেকোনো কন্টেইনার এর আগে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ২১ দিনে ক্লিয়ার হতো, এখন সেটা ৩৫ দিন পর্ন্ত সময় লেগে যায়। এই সময়ের ব্যবধান এখন বিশ্বব্যাপী। সব বন্দরেই একইভাবে দেরি হওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে। 

কন্টেইনার সংকট রফতানিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সাময়িক সংকটের ভয়ঙ্কর দিক আছে। বায়ার আমার মালের অর্ডার বাতিল করছে, আবার অর্ডার দিচ্ছে, আবার বলছে দ্রুত পাঠাতে। এতে বাই এয়ারে (বিমানে) মাল শিপমেন্ট করতে হয়, মাল দ্রুত গেলেও খরচ বেশি পড়ে। যেটা উদ্যোক্তাকে বহন করতে হচ্ছে, এতে লাভের চেয়ে খরচের অঙ্ক বেশি।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ