• 0
  • 0
Rakib Monasib
Posted at 06/01/2021 11:13:am

নতুন বছরে চাকরির বাজার যেমন যাবে

নতুন বছরে চাকরির বাজার যেমন যাবে

খাতভিত্তিক দক্ষ লোকের চাহিদা বাড়বে। আমরা এখন সুযোগ কতটা নিতে পারব, তা নির্ভর করবে দুটি বিষয়ের ওপর। যেমন যোগাযোগদক্ষতা ও খাতভিত্তিক দক্ষতা। এসব কাজের সুযোগ ধরতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় ডিগ্রির পরিবর্তে দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।   

করোনার আগে থেকেই দেশের চাকরির বাজার খারাপ অবস্থায় ছিল। বিশেষ করে চার-পাঁচ বছর ধরে শিক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য চাকরির বাজার ভয়ংকর ছিল। শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ, যা পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বেশ বেশি।

বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ থেকে পাস করা যুবকদের চেয়ে কম পড়াশোনা করা যুবক-যুবতীদের এ দেশে কাজ পাওয়ার সুযোগ বেশি। শিক্ষিত ব্যক্তিরা মনমতো চাকরি না পেলে বেকার বসে থাকেন। শিক্ষিত হয়ে ছোট চাকরি করলে সমাজের লোকজন কী ভাববে, এমন মানসিকতার কারণে শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যে বেকারত্ব আরও বেশি। কিন্তু অল্প শিক্ষিত ব্যক্তিরা খুব সহজেই যেকোনো কাজে ঢুকে পড়তে পারেন।

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। তবে সার্বিকভাবে কয়েক বছর ধরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সেই তুলনায় কর্মসংস্থান কম। একটা কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির চিত্র আমরা করোনার আগে থেকেই দেখে আসছি।   

করোনার মধ্যে কর্মসংস্থানের বাজারে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতটিই। অথচ এই খাতে তুলনামূলক বেশি কর্মসংস্থান হতো। করোনার কারণে ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। অন্যদিকে বড় বড় খাতে চাকরি কম হারালেও অনেকের বেতন কমেছে।

এমনিতেই কর্মসংস্থান হচ্ছিল না, এখন করোনার কারণে তা আরও কমে যাবে। এখন প্রাতিষ্ঠানিক খাতে চাকরির বাজার অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিডিজবসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রবণতা গত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে প্রায় করোনার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।   

এমন একটি অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা ২০২১ সালে প্রবেশ করলাম। বছরটি কর্মসংস্থানের বিরাট চ্যালেঞ্জের বছর হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ থেকে পাস করা তরুণদের চাকরি পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হবে। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমানোর অংশ হিসেবে জনবল নিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে বেশি জোর দেবে ওই সব প্রতিষ্ঠান। আর এখনকার তরুণদের জন্য লোভনীয় হলো সরকারি চাকরি। বাজেটের চাপের কারণে সরকার হয়তো আগের চেয়ে কম লোক নেবে। ফলে চাকরির বাজারে প্রবেশ করা শিক্ষিত তরুণদের জন্য ২০২১ সালটি চ্যালেঞ্জিং হবে। তাঁদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো, মানসিকতা বদলাতে হবে। মোটা বেতনের সরকারি চাকরি বা করপোরেট চাকরি করতেই হবে, এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সুযোগ নষ্ট না করে ছোট চাকরি হলেও ঢুকে পড়তে হবে। বেতন-ভাতায়ও ছাড় দিতে হবে। দু-এক বছর অভিজ্ঞতা অর্জন হয়ে গেলে বেশি বেতনের চাকরিতে ঢোকা যাবে। চাকরিদাতারা পরীক্ষার সনদের চেয়ে কাজের দক্ষতাকে বেশি মূল্যায়ন করেন।   

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ২০২১ সালে আরেকটি নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে। যেমন আগে থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সংগতি রেখে কর্মসংস্থান হচ্ছিল না। করোনার কারণে লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়েছেন। এ বছর তাঁরা এখন চাকরি খুঁজবেন, আবার নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন লাখ লাখ তরুণ-তরুণী। ফলে শ্রমবাজারে আগের চেয়ে কর্মসংস্থানের চাপ বাড়বে।   

এবার আসা যাক করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশে কেমন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। যেহেতু সারা বিশ্ব ঘরে বসে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। ফলে উন্নত দেশে এটি অব্যাহত থাকবে। এসব দেশের নিয়োগকর্তারা চিন্তা করবেন, কাজটি কোথায় বসে সম্পন্ন করা হয়েছে, সেটি বড় কথা নয়; কতটা দক্ষতার সঙ্গে করা হলো, তা-ই বড় বিষয়। তাই বিভিন্ন দেশ থেকে খাতভিত্তিক দক্ষ লোকের চাহিদা বাড়বে। আমরা এখন সুযোগ কতটা নিতে পারব, তা নির্ভর করবে দুটি বিষয়ের ওপর। যেমন যোগাযোগদক্ষতা ও খাতভিত্তিক দক্ষতা।

এসব কাজের সুযোগ ধরতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় ডিগ্রির পরিবর্তে দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।   

আমি মনে করি, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের বাজার বাড়বে। যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য গুগলসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেসব ক্ষেত্রে লোকের দরকার হবে। এখন ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে। তাই ইন্টারনেট নিরাপত্তা, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা—এসব খাতে চাকরির সুযোগ বাড়বে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ