• 0
  • 0
Md. Nayeem Uddin Khan
Posted at 06/01/2021 12:29:am

এই নারীর পছন্দের রং নীল হওয়াই কাল হয়েছিল

এই নারীর পছন্দের রং নীল হওয়াই কাল হয়েছিল

সবারই মোটামুটি একটা পছন্দের খাবার, রং, জায়গা এবং পোশাক রয়েছে। পছন্দের রং, পোশাক যাই হোক না কেন সেটা কোনো বিপদের কারণ হতে পারে না কারো। এটি খুব বিশেষ ব্যাপারও নয়। তবে এক নারীর জন্য তার পছন্দের রংই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। 

যুগে যুগে অনেক সাহসী নারীর কথা ইতিহাসে লেখা হয়েছে। নিজের সাহসিকতা, বুদ্ধিমত্তা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন মানুষের মনে। তেমনই একজন নারী হলেন নূর ইনায়ৎ খান। তার কথা অনেকেই হয়তো জানেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের হয়ে জার্মানির বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করেছিলেন তিনি। এতটাই ধূর্ত ছিলেন এই নারী যে তার নাগাল পাওয়া ছিল খুবই কঠিন। বিরোধী পক্ষের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলেন নূর।

বাংলার টিপু সুলতানের উত্তরসূরি ছিলেন নূর। আশৈশব ছিলেন মুখচোরা স্বভাবের। মুখ বন্ধ রেখেছিলেন গেস্টাপো বাহিনীর অকথ্য অত্যাচারেও। নাৎসিদের ফায়ারিং স্কোয়াডের গুলিতে মৃত্যুর আগে অস্ফুট উচ্চারণে বেরিয়েছিল, লিবার্তে। অর্থাৎ, মুক্তি বা স্বাধীনতা। তার পরেই কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে লুটিয়ে পড়েছিলেন নূর ইনায়ৎ খান।

যুদ্ধ থেকে আলোকবর্ষ দূরে নূরের জন্ম হয়েছিল সুফিবাদের পরিবেশে। তার বাবা ইনায়ৎ খান ছিলেন ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী। হায়দরাবাদের নিজামের কাছ থেকে ‘তানসেন’ উপাধি পাওয়া এই শিল্পী সুফিবাদকে নিয়ে গিয়েছিলেন পশ্চিমে। ইনায়তের দাদি কাসিম বিবি ছিলেন টিপু সুলতানের নাতনি। অর্থাৎ নূর ছিলেন টিপুর নাতনির নাতির মেয়ে। তবে রাজবংশের ঐশ্বর্যের তুলনায় তার জীবন সাজানো ছিল সুফিবাদ ও সঙ্গীতের সপ্তসুরে। তার কারণ অবশ্যই নূরের বাবা ইনায়ৎ। বাবার সান্নিধ্যে নূরও হয়ে ওঠেন সঙ্গীতানুরাগী। 

সুফিবাদ প্রচারে সারা পৃথিবী ঘুরতেন ইনায়ৎ। এক বার আমেরিকায় সফরকালে তার পরিচয় হয়েছিল ওরারে বেকারের সঙ্গে। পরে একে অপরের প্রেমে পড়েন। শেষে প্রেম গড়িয়েছিল বিয়ে পর্যন্ত। ওরা-র নতুন পরিচয় হয় পিরানি আমিনা বেগম। লন্ডন এবং প্যারিসে কিছু দিন থাকার পরে তারা মস্কো শহরে এসে পৌঁছান।

১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে মস্কোতেই জন্ম নেয় তাদের প্রথম সন্তান নূর। পরে আমিনার কোলে এসেছিল আরও তিন সন্তান। দুই ছেলে বিলায়ৎ, হিদায়ৎ এবং মেয়ে খায়র-উন-নিসা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে সপরিবার ইনায়ৎ রাশিয়া থেকে চলে গিয়েছিলেন লন্ডন। সেখানেই নটিং হিল-এ স্কুলে ভর্তি হন নূর। ১৯২০ সালে এই পরিবারের নতুন ঠিকানা হয় প্যারিস। তার ৭ বছর পরে ভারত সফরের সময় মৃত্যু হয় ইনায়ৎ খানের। অকালে বাবার মৃত্যুর পরে শোকস্তব্ধ মা এবং তিন ভাইবোনের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ত্রয়োদশী নূরের উপর।

শিশু মনস্তত্ত্ব নিয়ে পড়ার পরে ছোটদের জন্য গল্প ও কবিতা লিখতে শুরু করেন নূর। ছোটদের পত্রিকা এবং ফরাসি রেডিয়ো চ্যানেলে তিনি ছিলেন পরিচিত নাম। ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয় তার বই টোয়েন্টি জাতকা টেলস। বৌদ্ধধর্মের জাতককাহিনী অনুসরণে লেখা বইটি প্রকাশিত হয়েছিল লন্ডনেই। পাশাপাশি, তিনি পিয়োনা ও হার্পবাদনেও ছিলেন সিদ্ধহস্ত। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির দখলে চলে যায় ফ্রান্স। পুরনো ঠিকানা ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে পালাতে বাধ্য হন আমিনা। ফরাসি বন্দর বোর্দো থেকে প্রথমে তাঁরা পৌঁছন ইংল্যান্ডের কর্নওয়াল, তার পর সেখান থেকে সাদাম্পটনে। প্রাথমিকভাবে তাদের ঠাঁই হয় দার্শনিক বাসিল মিশেলের বাড়িতে। বাসিলের বাবা কোনো এক সময়ে ছিলেন নূরের বাবার শিষ্য।

হিটলারের জার্মানির জন্য তাদের বার বার ঠিকানাচ্যুত হতে হয়েছিল। শৈশবের এই তিক্ত ও ক্ষতবিক্ষত স্মৃতি ভুলতে পারেননি নূর। শুধুমাত্র জার্মান বিরোধিতা থেকে ব্রিটিশ গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছিলেন টিপু সুলতানের উত্তরসূরি। সে সময় গুপ্তচর হিসেবে নারীদের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছিল। প্রথমত পুরুষরা সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন যুদ্ধে। পাশাপাশি, নারী হওয়ার সুবাদে অনেক দিন সন্দেহের বাইরে থাকতে পারতেন গুপ্তচররা। ফলে বহু যুদ্ধরত দেশগুলোতে অনেক নারীই গুপ্তচরবৃত্তিতে পা রাখেন।

উইমেন্স অক্সিলিয়ারি এয়ারফোর্সে ওয়্যারলেস অপারেটর হিসেবে ৬ মাস প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এক বছর পরে তিনি গোয়েন্দা বিভাগে চাকরি নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত উইনস্টন চার্চিল বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন নারীদের গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ করার ক্ষেত্রে। 

ফরাসি ভাষায় তুখোড় এবং ব্যক্তিত্বে সপ্রতিভ নূরকে পাঠানো হয় নাৎসি অধিকৃত ফ্রান্সে। রেডিয়ো অপারেটর হিসেবে কাজ করার জন্য। তিনি প্রথম মহিলা রেডিও অপারেটর যাকে আন্ডাকভার এজেন্ট হিসেবে ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছিল। প্রথমে মনে করা হয়েছিল তিনি দেড় মাসের বেশি কাজ করতে পারবেন না। কিন্তু সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি ৩ মাস কাজ করেছিলেন। অক্ষশক্তির অবস্থান, পরবর্তী পদক্ষেপ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংক্রান্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি ফ্রান্স থেকে ব্রিটেনে পাঠাতে পেরেছিলেন। 

তবে প্রশিক্ষণপর্বে যে সব বিভাগেই নূর উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, তা কিন্তু নয়। বরং তার বিরুদ্ধে বহু ক্ষেত্রেই দক্ষতার অভাবের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু রেডিও অপারেটর হিসেবে তার দক্ষতা এবং ফরাসি ভাষার উপর দখল দেখে তাকেই বেছে নেয়া হয়। নূরের ভাই বিলায়ৎও যুদ্ধে যোগদানের ক্ষেত্রে উৎসাহী ছিলেন। কিন্তু গাঁধীবাদের ভক্ত দুই ভাইবোনই সরসারি মানুষকে হত্যা করার বিরোধী ছিলেন। তাই নূর গুপ্তচরের কাজ বেছে নেন, যেখানে মানুষকে সরাসরি হত্যা করতে হবে না। কিন্তু যুদ্ধে অংশ নেয়ার ইচ্ছেপূরণ হবে।

নূরের ভাই পরে সুফিসঙ্গীত সাধনাতেই নিজের জীবন কাটিয়েছিলেন। তবে জীবনভর তার আক্ষেপ ছিল, কেন তিনি দিদিকে নিবৃত্ত করতে পারেননি। পরিবারকে ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে নূরের কাছে সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল তার মাকে জানানো। মাকে তিনি বলেছিলেন, তিনি আফ্রিকা যাচ্ছেন। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলেন তার অবস্থান ও কাজ যেন মাকে কোনোভাবেই জানানো না হয়। একমাত্র তার মৃত্যুর পরই মাকে খবর দেয়া হয়।

ফ্রান্সে থাকার সময় তিনি বাচ্চাদের নার্সের ছদ্মপরিচয় নিয়েছিলেন। তার ছদ্মনাম হয়েছিল জেন মারি রেইনিয়ের। তার পা রাখার দিন দশেকের মধ্যে ফ্রান্সে কর্মরত ব্রিটেনের সব গুপ্তচর ধরা পড়ে যায়। শত্রুপক্ষের মধ্যে তিনি অত্যন্ত বিপদগ্রস্ত জেনেও নূর ফ্রান্স ছেড়ে ব্রিটেনে পালাতে চাননি। অন্য গুপ্তচর বা স্পেশাল অপারেশনস এগজিকিউটিভদের কাছে তার নাম ছিল ‘মাদেলেইন’।

৩ মাস ধরে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করার পরে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন নূর। তার কথা গেস্টাপো বাহিনীকে জানিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে দু’জনের নাম শোনা যায়। সেই নাম দু’টি হল অঁরি দেরিকোর এবং রেনে গ্যারি। মনে করা হয়, এই দুই এজেন্টের মধ্যে অন্তত একজন নূরের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।

এজেন্ট অঁরি-র সাঙ্কেতিক নাম ছিল গিলবার্ট। ফরাসি বিমানবাহিনীর প্রাক্তন এই পাইলট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ডাবল এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়। অর্থাৎ অক্ষ এবং মিত্রশক্তি, দুই তরফেই তিনি ছিলেন গুপ্তচর। অন্যদিকে রেনে ছিলেন এমিল অঁরি গ্যারির বোন। কাজের সূত্রে নূর এবং এমিল পরিচিত ছিলেন। পরে এমিলকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। 

ব্যক্তিগত জীবনে নূরকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করতেন রেনে। আর এক এসওই এজেন্ট ফ্রাঁ অঁতেলমে-এর ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। কিন্তু নূরের কাজে ফ্রাঁ-এর মুগ্ধতা মেনে নিতে পারতেন না রেনে। অভিযোগ, এক লাখ ফ্রাঁ বা কোনো সূত্র অনুযায়ী ৫০০ পাউন্ড অর্থের বিনিময়ে তিনি নূরের গোপনীয়তা ফাঁস করে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পরাজয়ে পরে রেনেও বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু দোষী প্রমাণিত হননি।

বিশ্বাসঘাতকতার শিকার নূর ধরা পড়ে যান ১৯৪৩ সালের ১৩ অক্টোবর। নাৎসিদের গোয়েন্দা বিভাগ বা এসডি বাহিনীর জেরার মুখে পড়তে হয় তাকে। তৎকালীন এসডি প্রধান কিয়েফের পরে স্বীকার করেছিলেন জেরায় নূরের মুখ থেকে তার কাজ সংক্রান্ত কোনো কথা বলানো যায়নি। তিনি ক্রমাগত নিজের শৈশবের গল্প করে গিয়েছিলেন। বিভ্রান্ত করেছিলেন নাৎসি গোয়েন্দাদের।

পরবর্তী সময়ে নূরের জীবনীকার আর্থার ম্যাগিডা সংবাদমাধ্যমে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। নূরকে গ্রেফতার করার পরে গেস্টাপো বাহিনী নিশ্চিত হতে চেয়েছিল তার পরিচয় নিয়ে। নূরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিলাসবহুল শৌখিন দোকানে। বলা হয়েছিল, পছন্দসই জিনিস কিনতে। এখানে কিন্তু গেস্টাপোর ধূর্ত চোখকে ফাঁকি দিতে পারেননি নূর। তিনি যা যা পছন্দ করেছিলেন, সব ছিল নীল রঙের। এ বার নাৎসিদের সন্দেহ নিরসন হয়। কারণ তারা জানতেন, নূরের প্রিয় রং নীল। নীল রঙের প্রতি দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত তাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। 

গ্রেফতার করার দেড় মাস পরে, ১৯৪৩ সালের ২৭ নভেম্বর নূরকে জার্মানি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বন্দি করে রাখা হয়েছিল ফরঝেইম শহরের কারাগারে। তার আগে গেস্টাপো বাহিনীর কবল থেকে দু’বার পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন নূর। তাই তাকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বন্দির তকমা দেওয়া হয়েছিল।

কারাগারে একটি সেলে একা বন্দি ছিলেন তিনি। হাতে এবং পায়ে ছিল শিকল। রাতের অন্ধকারে শৃঙ্খলবন্দি নূর চিৎকার করে কাঁদতেন। পরে সেই সময়কার অন্য বন্দিদের কাছে এই তথ্য পেয়েছিলেন নূরের জীবনীকাররা। তার মধ্যেও অন্য বন্দিদের বলে যেতে পেরেছিলেন তার প্রকৃত পরিচয়। জানিয়ে গিয়েছিলেন লন্ডনে তার মায়ের ঠিকানা। 

ফরঝেইম থেকে নূরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ডাকাউ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে। ১৯৪৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ভোরবেলা নূর-সহ মোট চারজন নারীকে নাৎসিদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করার অপরাধে গুলি করে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর পরে তাদের শরীর থেকে সব গয়না খুলে নিয়েছিল নাৎসিরা।

বাইরে জগতের কাছে নূর, মাদেলেইন ছিলেন মায়ের আদরের নোরা। মেয়ের মৃত্যুর পরে পাঁচ বছর ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে বেঁচে ছিলেন আমিনা বেগম। তার বাকি তিন সন্তান অবশ্য দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন। ৮৮ বছর বয়সে বিলায়ৎ প্রয়াত হন ২০০৪ সালে। হিদায়ৎ প্রয়াত হন ২০১৬ সালে, ৯৯ বছর হয়সে। আর এক মেয়ে খায়র উন নিসা প্রয়াত হন ৯১ বছর বয়সে, ২০১১ সালে।

গুপ্তচর হলেও নূরের জীবন অনুচ্চারিত থাকেনি। ১৯৪৯ সালে তাকে মরণোত্তর ‘জর্জ ক্রস’-এ সম্মানিত করা হয়। ফ্রান্সের তরফে ভূষিত করা হয় ‘ক্রোয়া দ্য গ্যের’ সম্মানে। ২০১২ সালে তার আবক্ষ মূর্তি স্থাপিত হয় লন্ডনে। ২০২০ সালের অগস্টে নূরকে সম্মানিত করা হয় ব্রিটেনের ‘ব্লু প্লেক’ সম্মানে। প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে তিনি এই সম্মান লাভ করেন।

নূরের জীবন বার বার বই এবং সিনেমার উপজীব্য হয়েছে। শ্রাবণী বসুর লেখা নূরের জীবনী ‘স্পাই প্রিন্সেস’ মুক্তি পেয়েছিল ২০০৬ সালে। তার জীবন তুলে ধরা হয়েছে ‘এ কল টু স্পাই’ ছবিতে। নূরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাধিকা আপ্টে। ডাকাউ ক্যাম্পের এক ওলন্দাজ বন্দি পরে জানিয়েছিলেন মৃত্যুর আগে নূরের শেষ উচ্চারিত শব্দ ছিল ‘লিবার্তে’। কার মুক্তি চেয়েছিলেন শিকড়হীন রাজউত্তরসূরি? সে প্রশ্ন আজো ভাবায় ইতিহাসবিদদের।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ