Wednesday -
  • 0
  • 0
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
Posted at 05/01/2021 09:56:pm

শেখ হাসিনা আমাকে একটা ছোট্ট ঘর দিলে আঁচল পেতে দোয়া করতাম

শেখ হাসিনা আমাকে একটা ছোট্ট ঘর দিলে আঁচল পেতে দোয়া করতাম

লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর বাধের উপর বসবাসকারী ৭৫ বছর বয়সী শ্রবণ প্রতিবন্ধি কদবানুর সরকারি ঘর পাবার স্বপ্ন পূরণ এখনও অপেক্ষায়। 

জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশিরাম গ্রামে তিস্তার বাধের রাস্তায় বাড়ি করে একাই কোন রকমে মাথা গুঁজে থাকেন তিনি।

নেই স্বামী, নেই সন্তান ও। একটি মেয়ে তবে সেও এখন স্বামীর বাড়ীতে। কদবানুর জমাজমি নেই। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া কদবানু জীবন কাটাচ্ছে তিস্তার বাধে ভাঙ্গা একটি টিনের চালায়।

৭৫ বছর বয়সী কদবানুর আকুতি যেন সেই “আসমানী ” কবিতার আসমানীদের হার মানায়। এমন একটি জরাজীর্ণ ভাঙ্গা টিনের চালায় বাস করেন তিনি কিন্তু সরকারী একটি ঘরের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি কেউ। কদবানুর জন্য কারোরই বিন্দুমাত্র মমতা হয়নি।

জীবনের শেষ ক'টা দিন নিজের একটা ঘরে থাকার জন্য অনেকের কাছে ঘুরেছেন বছরের পর বছর। 

অবশেষে আই নিউজ বিডি'র প্রতিবেদকের কাছে এসে পত্রিকার মাধ্যমে সমাজের হৃদয়বান বিত্তবানদের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে একটি সরকারী ঘরের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। 

এমনি আকুতি করে কদবানু বলেন, বর্ষাকাল একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে আর থাকা যায়না। প্রধানমন্ত্রী অসহায়দের অনেক ঘর দিছে। আমাকে একটি ঘর দিলে বৃদ্ধ বয়সে নিজের একটা ঘরে শুয়ে মরে গেলেও সুখি হতাম।  তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে আরও বলেন, দয়া করি কেউ যদি মোক একটা ছোট্ট ঘর দেইল হয় তাহলে ওই ঘরত ৫ ওয়াক্ত নামায আদায় করি বাকি জীবন মুই তার জন্য আঁচল বিচি দোয়া করনু হয়।

হামার মন্ত্রী স্যারের কাছে মোর জীবনের শেষ ইচ্ছা পুরনে একটি দাবি, মোক একনা সরকারি ঘর দেন।

স্থানীয় লোকজন জানায়, স্বামী তো নেই। অনেক আগেই মারা গেছে, আর মেয়েটি যতদিন বাড়িতে ছিল ততদিন তো শ্রম দিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে চলত তাদের কষ্টের জীবন।

এ এলাকায় অনেকে সরকারী ঘর পেয়েছেন। কদবানুকে একটি ঘর দিলে সে উপকৃত হতো। প্রকৃতপক্ষে এই কদবানু প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার ঘর পাবার যোগ্য বলে স্থানীয়রা মনে করেন। 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন এই হতদরিদ্র কদবানুর দিকে দৃষ্টি দিয়ে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে তার দুঃখ দুর্দশা দূর করেন এমনটাই আশা করছে এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার বাধে ভাঙ্গা টিনের চালায় অনেক কষ্টে বাস করেন কদবানু। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত একটি কম্বলও দেয়নি কেউ।

মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে একটি ঘরের আবেদন ৭৫ বয়সী কদবানু’র।  দরিদ্র কদবানুর বিষয়ে ওই ওয়ার্ডের ইউ,পি,সদস্য আবু তালেব বলেন, অসহায় কদবানু একটি সরকারি সহায়তার ঘর দিলে তার দুঃখ দুর্দশার অবসান হবে।

আমি উর্ধত্বন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো বিষয়টি সুবিবেচনা পুর্বক যেন ব্যবস্থা গ্রহন করা । তুষভান্ডার ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম আহমেদ জানান, পরবর্তিতে ঘর আসলে তার একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।     



জামাল বাদশা


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ