Thursday -
  • 0
  • 0
Rakib Monasib
Posted at 05/01/2021 09:16:am

পাকিস্তানকে যেখানে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে যেখানে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রেই পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে দুই বছর আগে, আর মাথাপিছু জিডিপিতে ছাড়িয়েছে তিন বছর আগে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ তথ্য বলছে, বাংলাদেশের পাকিস্তানের ছাড়িয়ে যাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনটি ঘটবে নতুন বছরে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি যে পাকিস্তানের চেয়ে বেশি শক্তিশালী, সেটি আসলে বলা যাবে এই নতুন বছরে। কেবল তা–ই নয়, এরপর থেকেই বাংলাদেশ ক্রমেই এগিয়ে যাবে, পিছিয়ে পড়তে থাকবে পাকিস্তান।

বিশ্ব অর্থনীতিতে অগ্রসরমান এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধিত্বশীল দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। এটি বিশ্বের একমাত্র দেশ, ২০২০ এবং ২০২১—এই বছরেই যাদের প্রবৃদ্ধি হবে ২ শতাংশের বেশি। সব মিলিয়ে মনে করা হচ্ছে, মাথাপিছু জিডিপিতে এবার বাংলাদেশ সেই পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাবে, যে দেশের কাছ থেকে আলাদা হতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল আর এটাই হবে পরিসংখ্যানগত ছাড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ২০২১ সালের ৫টি বড় ঘটনার একটি।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মূলত পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাবে ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে (পিপিপি) তৈরি মাথাপিছু জিডিপিতে। দেখা যাচ্ছে, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের মোট জিডিপি ছিল ২২ দশমিক ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার। আর মাথাপিছু জিডিপি ছিল ২৬৩ দশমিক ৭০৭ ডলার। অন্যদিকে পিপিপির ভিত্তিতে জিডিপি ছিল ৪৭ দশমিক ১০৫ বিলিয়ন ডলার এবং মাথাপিছু পিপিপি জিডিপি ছিল ৫৫৫ দশমিক ৭১৮ ডলার।

এবার দেখা যাক পাকিস্তান পরিস্থিতি। ১৯৮১ সালে দেশটির জিডিপি ছিল ৩০ দশমিক ৯৩৮ বিলিয়ন ডলার, মাথাপিছু আয় ৩৮৪ দশমিক ৯০২ ডলার, পিপিপির ভিত্তিতে জিডিপি ৮১ দশমিক ৬৬৮ বিলিয়ন ডলার এবং মাথাপিছু পিপিপি জিডিপি ৯৮৬ দশমিক ৮৫৩ ডলার।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, স্বাধীনতার পরের ৩০ বছর অনেক সূচকেই পাকিস্তানের অবস্থান ছিল বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ। এরপর থেকে ব্যবধান ক্রমেই কমিয়ে আনে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মোট জিডিপিতে প্রথম পাকিস্তান পিছিয়ে পড়ে ২০১৯ সালে আর মাথাপিছু জিডিপিতে পিছিয়ে পড়ে ২০১৮ সালে। সেখান থেকে আর এগিয়ে যেতে পারেনি দেশটি।

তবে মাথাপিছু পিপিপি জিডিপিতে ২০১৯ সালে পাকিস্তান একবার সামান্য পিছিয়ে পড়লেও পরের বছরেই আবার এগিয়ে যায়। আইএমএফ বলছে, ২০২১ সালে পাকিস্তান আবার পিছিয়ে পড়তে পাচ্ছে, আর তারা আপাতত বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারছে না। অন্তত ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রাক্কলন তা–ই বলছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে পিপিপিতে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ৫ হাজার ৭৫২ দশমিক ২৩৯ ডলার, আর পাকিস্তানের হবে ৫ হাজার ২২৯ দশমিক ৯২৫ ডলার।

এখানে বলে রাখা ভালো, দক্ষিণ এশিয়ায় এত দিন মাথাপিছু পিপিপি জিডিপিতে বাংলাদেশ ছিল কেবল নেপাল ও আফগানিস্তানের ওপরে। এখন বাংলাদেশের নিচে পাকিস্তানও থাকবে।

মাথাপিছু নমিনাল জিডিপি দিয়ে একটি দেশের প্রকৃত অবস্থা কখনোই বুঝতে পারা যাবে না। মোট জিডিপিকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলেই এটা পাওয়া যায়। এর বড় সমস্যা হচ্ছে এর বণ্টন। কারও আয় হয়তো অনেক বেশি, অন্যরা কোনোরকমে মৌলিক চাহিদা মেটাচ্ছেন। ফলে আয়ের বৈষম্য বেশি হলে মাথাপিছু আয় দিয়ে ভালো–মন্দ বিবেচনা করা যায় না।

একটি দেশের নাগরিকেরা আসলেই কতটুকু সম্পদশালী, সেটা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাদের ক্রয়ক্ষমতা কতটুকু তা নির্ধারণ করা। অর্থাৎ যে অর্থ আয় করে, তা দিয়ে সে কী কী কিনতে পারে। একটি দেশের কোনো পণ্যের দর অন্য দেশের সঙ্গে মিলবে না। এ কারণেই বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিকে তুলনার জন্য ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটির (পিপিপি) ভিত্তিতে জিডিপির আকার হিসাব করা হয়। মূলত একটি দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানকে তুলনীয় করার জন্য নমিনাল জিডিপিকে পিপিপি ডলারে জিডিপিতে রূপান্তরিত করা হয়। সেই মাথাপিছু পিপিপি জিডিপিতেই পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ