• 0
  • 0
MEHEDI HASAN UZZAL
Posted at 04/01/2021 04:25:pm

করোনাকালে হাঁসের খামারে স্বাবলম্বী কাকলী চিছাম

করোনাকালে হাঁসের খামারে স্বাবলম্বী কাকলী চিছাম

ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাপমারী একটি আদিবাসি অধ্যুষিত গ্রাম। স্বাবলম্বী সিডস প্রকল্পের অনুসন্ধান এসআরজি দলের সভাপতি কাকলী চিছাম। কাকলীর পরিবারে মোট ০৫ জন সদস্য। এক ছেলে এবং দুই মেয়ে।

দুই ছেলে মেয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করছে, অন্যজন এখনও স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়নি।

ইতোমধ্যে তিনি সাপমারী গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের লিলি জনসংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। কাকলীর স্বপ্ন একটি দেশী জাতের হাঁসের খামার গড়ে তোলা। তার স্বপ্ন পুরনের জন্য তার জমানো কিছু সঞ্চয় নিয়ে এবং এনজিও থেকে ২০,০০০ টাকা ঋণ গ্রহন করে খামারের কাজে হাত দেয়।করোনাকালীন এই সময়ে সে প্রতিটি হাঁসের বাচ্চা ৩৫ টাকা করে ৭০০ টি হাঁসের বাচ্ছা ক্রয় করে। যার মোট খরচ ২৪,৫০০ টাকা। এখন হাঁসের বাচ্চা গুলোর বয়স ২ মাস, যার বাজার মুল্য প্রতিটি ১০০ টাকা। তার একান্ত ইচ্ছাশক্তির ফলে এখন সে ৭০০ টি দেশী প্রজাতির হাসের বাচ্ছা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। কাকলী চিছাম বাচ্চাগুলোর সঠিকভাবে পরিচর্যা করে বড় করছে এবং এই কাজে তার স্বামী ও ছেলে প্রতি নিয়তই সাহায্য করছে। 

কাকলী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৬০০ টি হাঁস চলতি মাসে বিক্রি করে দিবে এবং তিনি আশা করছেন তখন বাজার মূল্য গিয়ে দাড়াবে প্রতিটি হাসের ১৫০-১৮০ টাকা যার মোট মূল্য আসবে ৯০,০০০-১,০৮০,০০ টাকা। কাকলী আশা করছে সে সব খরচ বাদ দিয়ে তার ৪ মাসে মোট লাভ হবে ৫০,০০০ টাকার মত।বাকি যা থাকবে সেটা ডিমের জন্য রেখে দিবেন। কাকলীর পরিকল্পনা আছে পরবর্তীতে বৈশাখ মাসে আরও ১,০০০ টি হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করে পুনরায় ফার্ম চালু করবে। 

হাঁসগুলো পরিচর্যা করার জন্য মো: আরব আলী সিএসপি (প্রাণী) শুরু থেকেই সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে এবং নিযমিত ভ্যাকসিন দিয়ে আসছে। তার সাথে একটি মৌখিক চুক্তি হয়েছে যে, বাজারে বিক্রি করার আগ পর্যন্ত সি এস পি হাঁস গুলোর নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিবেন।

এভাবেই কাকলীর স্বপ্ন পুরনের যাত্রা শুরু। এখন সে তার বড় স্বপ্ন তার ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কাকলী স্বপ্ন দেখছেন অচিরেই তিনি একটি সুন্দর বাড়ি তৈরী করবেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ