• 0
  • 0
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
Posted at 04/01/2021 10:16:am

ভারতের তৈরি বায়োটেকের টিকা বিপজ্জনক!

ভারতের তৈরি বায়োটেকের টিকা বিপজ্জনক!

ভারতের স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি করোনাভাইরাসের টিকা সরকার তাড়াহুড়ো করে অনুমোদন করেছে এবং তা 'বিপজ্জনক' হতে পারে - এমন এক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস। 

কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেছেন, কোভ্যাক্সিন নামে ওই টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সংক্রান্ত উপাত্ত তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের মাধ্যমে পুরোপুরি পর্যালোচনা করে দেখা হয়নি।  তার মতে, এটা এক 'বাধ্যতামূলক প্রয়োজন' - কিন্তু তা করা হয়নি। 

আল-জাজিরা জানাচ্ছে, সাবেক মন্ত্রী শশী থারুরও বলেছেন আগেভাগেই এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং এটা বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের কাছে ব্যাখ্যাও দাবি করেছেন।  সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। 

এর আগে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে ভারত-বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন এবং অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা - দুটিই নিরাপদ এবং তা অবিলম্বে ব্যবহার করা যাবে। 

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার জানাচ্ছে, ভারত-বায়োটেক বা ভারতীয় ওষুধ কর্তৃপক্ষ টিকাটি নিরাপদ বলে জানালেও করোনাভাইরাস ঠেকাতে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেনি।  তবে রয়টার বলছে, একটি সূত্র তাদের জানিয়েছে যে টিকাটির দুটি ডোজ দেবার পর এর কার্যকারিতা ৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে। 

রয়টার তাদের রিপোর্টে একথাও উল্লেখ করে যে গত বৃহস্পতিবার চীন করোনাভাইরাসের যে টিকাটি অনুমোদন করেছে - সেটির ক্ষেত্রেও কার্যকারিতার বিস্তারিত উপাত্ত প্রকাশ করা হয়নি। 

কোভ্যাক্সিন নামের টিকাটি ভারতেই আবিষ্কৃত হয়েছে। দেশটির চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা আইসিএমআরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারত বায়োটেক এই ভ্যাক্সিনটি তৈরি করেছে। 

কোলকাতা থেকে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী জানান, কোভ্যাক্সিন টিকাটির কার্যকারিতার পরীক্ষার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল এখনও চলছে।  মোট ২৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপরে তৃতীয় পর্যায়ের এই 'এফিকেসি ট্রায়াল' চলার কথা, কিন্তু গত সপ্তাহ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক নথিভুক্ত হয়েছেন ১৩ হাজারের মতো।  এ পর্যন্ত ভারতে দুটি করোনা ভ্যাক্সিন জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। 

শুক্রবার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা অনুমোদনের জন্য ছাড়পত্র দেয় ওই বিশেষজ্ঞ কমিটি। 

অক্সফোর্ডের টিকাটি ভারতে উৎপাদন করছে সিরাম ইন্সটিটিউট।  অক্সফোর্ড - অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি নিরাপদ কীনা তার পরীক্ষা ভারতে ১৬০০ লোকের মধ্যে চালানোর কথা ছিল। 

কিন্তু ঠিক কতজনের ওপরে পরীক্ষাটি করা হয়েছে এবং তা থেকে কী বেরিয়ে এসেছে, সেই গোপন তথ্য শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছেই জমা দিয়েছে সিরাম ইন্সটিটিউট। 

এত কম স্বেচ্ছাসেবকের ওপরে পরীক্ষা চালানোর পরেও তারা যে ছাড়পত্র পাওয়ার আবেদন করতে পেরেছে, তার কারণ যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যেই এটি ছাড়পত্র পেয়েছে এবং সেখানে তারা টিকাটির কার্যকারিতা নিয়ে যে তথ্য যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছে, সেই একই তথ্য তারা প্রমাণ স্বরূপ ভারতেও জমা দিয়েছে।  সূত্র : বিবিসি


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ