Tuesday -
  • 0
  • 0
Mrinal Kanti Chowdhury
Posted at 03/01/2021 10:21:pm

টঙ্গীর রেলওয়ে জংশনে চলছে মাদকের ব্যবসা

টঙ্গীর রেলওয়ে জংশনে চলছে মাদকের ব্যবসা

টঙ্গী রেলওয়ে জংশনসহ রেলওয়েরআবাসিক বাসা-বাড়ি ও বস্তিগুলোতেস্থানীয় রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগীতায় বিভিন্ন অপরাধীরা প্রকাশ্যে তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনাসহ চিহ্নিত আশপাশ এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যার পরখোদ রেলওয়ে প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে অবাধে মাদক, নারী ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। 

রেলওয়ে জংশন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিনপাশে রেলওয়ের আবাসিক বাসাবাড়িগুলোতে প্রকাশ্যে ফেন্সিডিল, গাজা, চোলাই মদ, ইয়াবা ও প্যাথিড্রিন (ইনজেকশন) বিক্রি। সেই সাথে দেহ-পসারিনী ও খদ্দেরদের মাধ্যমেও চলছে এসব মাদক ব্যবসা। এছাড়া বস্তিরঘরগুলোতে প্রকাশ্যে পরিচালিত হচ্ছে জুয়া ও মাদকের আসর। সম্প্রতি রেলওয়ে ষ্টেশন ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাইকারীদের উপদ্রবও বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুন আর এসব মাদকদ্রব্য ট্রেন, বাস, প্রাইভেটকার ও নৌকাযোগে আখাউড়া, কুমিল্লা, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্নসীমান্ত এলাকা থেকে টঙ্গীতে বিশেষ কায়দায় আনা হয়ে থাকে বলে বিভিন্নসূত্রে জানা যায়। 

রেলওয়ে ষ্টেশন ওআশপাশের বস্তি এলাকাগুলোতেঅবস্থান নিয়ে মাদকদ্রব্য আমদানী কারকও বিক্রেতারা জিআরপি পুলিশসহ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতিদিন বা সপ্তাহ বা মাসিক ভিত্তিতে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ দিয়ে রেলওয়ে ষ্টেশনসহ আশপাশের এলাকায় তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। এছাড়াও ভৈরব থেকে বিমান বন্দর, বিমান বন্দর থেকে যমুনা ব্রিজ পর্যন্ত ট্রেনে সংঘটিত ডাকাতি, ছিনতাই, অজ্ঞানপাটির সদস্য, পকেটমারসহ টঙ্গীরেলওয়ে জংশনে প্রায় ১৫/২০ জন ছিচকে চোর এবং ২০/২৫ জন ভাসমান পতিতাদের মূল নিয়ন্ত্রনকারী হিসেবেও পরিচিতরা ষ্টেশন এলাকার আশপাশেছোটখাটো বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ে বসে তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছে। সেক্ষেত্রে রেলওয়ে জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা মাসোহারা নিয়ে থাকে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, টঙ্গী রেলওয়ের ষ্টেশনের উত্তর পাশে তিস্তার গেইটসহ জংশন অভ্যন্তরে জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির সাথে, কেরানীরটেক এবং দক্ষিনে টঙ্গী তুরাগনদের পাড় পর্যন্ত রেলওয়ের জমি দখলকরে গড়ে উঠা বস্তি, শতাধিক দোকানপাট, কেরাম বোর্ডেও ঘর, জুটের গোডাউন, যানবাহন স্ট্যান্ড গড়ে তুলেস্থানীয় কয়েকটি প্রভাবশালী মহল। ওইমহলগুলো জিআরপি পুলিশ ও রেলয়ে নিরাপত্তা পুলিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে থাকে বলেও জানা গেছে। ষ্টেশনগোলচত্বরের জুতা থেকে শুরু করে গ্রিলচোর চক্রটি জিআরপি পুলিশ ও রেলয়ে নিরাপত্তা পুলিশকে সপ্তাহ ভিত্তিক টাকাদিয়ে তাদের কাজ কর্ম করে বলেও জানাগেছে।   

এলাকাবাসী আরো জানান, এক অদৃশ্যশক্তির ইশারায় টঙ্গীর জিআরপি ও নিরাপত্তা বাহিনীর কতিপয় সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবৎ টঙ্গীতে কর্মরত থাকার সুবাদে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সাথে মিলে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা সপ্তাহ ও মাসোয়ারা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং রেলওয়েকলোনীর আবাসিক বাসা-বাড়িগুলোতে তাদের সহযোগীতায় প্রকাশ্যে অবাধে চলছে মাদকদ্রব্য বিশেষ করে প্যাথেড্রিন(ইনজেকশন), মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল ব্যবসা ও জুয়াসহ অসামাজিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন অপরাধ মূল কর্মকান্ড। এব্যাপারে  রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এলাকাবাসী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এসবের সাথে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অর্থলোভের কারনে এলাকার যুব সমাজ আজ ধ্বংশের মুখে ধাবিত হচ্ছে। সেইসাথে দিন দিন বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতাবৃদ্ধি পাচ্ছে। অবিলম্বে এদের প্রতিহত করতে না পারলে ভবিষ্যত প্রজন্ম শেষ হয়ে যাবে। এব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান। 

এ ব্যাপারে জিআরপি পুলিশের ইনচার্জএস আই নুর মোহাম্মদ জানান, রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ কোন প্রকার টাকা বা মাসোহারা উঠায় না এবং আমার এলাকায় গত দু-মাস কোন ছিনতাই সংঘটিত হয়নি, এমন কোন অভিযোগওপাইনি। আমি এখানে যোগদানের পর থেকে মাদক, ছিনতাই, দেহ ব্যবসা নাই বললেই চলে। 



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ