• 0
  • 0
SB Meraz
Posted at 03/01/2021 03:08:pm

সুনামগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টার প্রধান আসামি শনাক্ত

সুনামগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টার প্রধান আসামি শনাক্ত

সুনামগঞ্জের দিরাইতে ধর্ষণ থেকে বাচতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়েছিলেন এক নারী। চিকিৎসা শেষে তিনি বাসায় ফিরেছেন এমনকি শনাক্ত করেছেন অভিযুক্তদেরকেও। 

আজ রোববার মালিবাগ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ খবর জানায়। গত ২৬ ডিসেম্বর সিলেট থেকে সুনামগঞ্জগামী বাস ফাহাদ অ্যান্ড মায়শা পরিবহনেই এক নারী ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন।‌ 

ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব কটি ইউনিট আসামি গ্রেফতারে উঠে পড়ে লাগে। ঢাকায় সিআইডির বিশেষ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুক্তা ধর  এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। গতকাল সুনামগঞ্জের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে প্রধান আসামী শহীদ মিয়াকে গ্রেফতারকরে সিআইডির ১টি দল। 

গ্রেফতার এর পূর্বে শহীদ ঢাকায় এসেছিলেন। এর আগে সিআইডি শহীদের ছোট ভাই মো. কছির ও দুলাভাই সুমনকে আটক করে। শহীদকে গ্রেপ্তারেরজন্য ভোগড়া বাইপাস এবং উত্তরা দিয়াবাড়িতেও অভিযান চালিয়েছিল সিআইডি। 

সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক হাসিব আজিজ সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁদের ধারণা বাসচালক ও তাঁর সহকারীরা গণধর্ষণের পরিকল্পনা করেছিলেন। ঘটনার শিকার নারীর সিলেট থেকে দিরাই যাওয়ার কথা ছিল। সুনামগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের ১০ কিলোমিটার আগে একটি বাইপাসে ভুক্তভোগী নারীর নেমে যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে অন্য কোনো পরিবহনে করে তাঁর দিরাইতে পৌঁছানোর কথা। 

বাসচালক বাসটি সরাসরি সুনামগঞ্জে নিয়ে যান। তারপর দিরাইয়ের দিকে রওনা দেন। সব যাত্রী সুনামগঞ্জে নেমে যাওয়ায় বাসে তখন ওই নারী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। এ সময় বাসচালক স্টিয়ারিং বক্করের হাতে ছেড়ে দেন ও ভুক্তভোগী নারীকে চুলের মুঠি ধরে বাসের পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নারী জোরে চিৎকার করেন ও শহীদকে ধাক্কা দিয়ে বাসের সামনে চলে আসেন। সম্ভ্রম বাঁচাতে বাস থেকে লাফ দেন তিনি। 

দিরাইয়ের কাছে সুজানগ্য নামের জায়গায় এ ঘটনাটি ঘটে। তখনো বাস চালাচ্ছিলেন বক্কর। এলাকাবাসী ধাওয়া করায় বাস ফেলে চলে যেতে বাধ্য হন আসামিরা। আহত নারীকে প্রথমে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বাসের কন্ডাক্টর রশিদকে গ্রেফতার করেছে আগেই। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিআইডি বলছে, তাঁদের গণধর্ষণের পরিকল্পনা ছিল। না হলে সুনামগঞ্জ থেকে বাস ঘুরিয়ে দিরাইয়ের পথে আসত না বাসটি। বক্করও বাসচালককে সুযোগ করে দিতেন না। 

সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক হাসিব আজিজ বলেন, অতীতেও তারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ