Thursday -
  • 0
  • 0
Verified MD. MIRAZUL-AL- MISHKAT
Posted at 28/11/2020 04:09:pm

করোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেস ভাড়া মওকুফ চায় হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

করোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেস ভাড়া মওকুফ চায় হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে বন্ধ রাখা হয়েছে। আর এতে করে মেসে না থেকেও গত এপ্রিল মাস থেকে মেসভাড়া বাবদ ৫০% করে টাকা দেয়ার বিষয় নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দিনাজপুর জেলার বাঁশেরহাটে অবস্থানরত হাজী মোহম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ( হাবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একাডেমিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি মেস ভাড়া পরিশোধের চাপ শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা । বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই থাকতে হয় মেস কিংবা ভাড়া বাসায়। 

মেস ভাড়ার বিষয় নিয়ে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী মোঃ রবিউল আউয়াল বলেন, " এই সংকটময় অবস্থায় টিউশনি না থাকায় মেস ভাড়া প্রদান করা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের উপর এটি ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করেছে। গত এপ্রিল মাস থেকে ৫০% করে ভাড়া দিয়ে আসতেছি শুধু মেসে নামে মাত্র কিছু জিনিস পত্র রাখার জন্য। আমরা চাই আগামী জানুয়ারি মাস থেকে মেসভাড়া করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি মওকূফ করা হোক "।

আসমাউল হুসনা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, " ক্যাম্পাস যতদিন বন্ধ থাকবে ততদিন আর কোনো প্রকার ভাড়া দিতে পারবো না। এমনকি মেস মালিক যদি এই বিষয়ে কোনরূপ জোর বা অশোভনীয় আচরণ করে তবে আমরা সকল শিক্ষার্থী একজোট হয়ে তার উপযুক্ত জবাব দিবো। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি যাতে এ বিষয়ে মেস মালিকদের সাথে পুনরায় আলোচনায় বসেন। কারণ এখানে প্রায় চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর অর্থনৈতিক ব্যাপার সম্পর্কযুক্ত। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিবে "।

এদিকে হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ বলেন, " আমার কাছে নতুন করে কোনো শিক্ষার্থী মেসভাড়া নিয়ে অসন্তোষের কথা এখন পর্যন্ত জানায়নি। তবে জানানো হলে আমরা প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো "।

আবার শিক্ষার্থীদের মেসভাড়ার বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, " বাঁশেরহাটের মেস গুলোর ব্যাপারটি দেখভাল করে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক। তবে এ বিষয়ে তো একক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব নয়।প্রয়োজন বোধে পুনরায় আলোচনায় বসতে হবে সার্বিক বিষয় নিয়ে। তবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালককে"।

অন্যদিকে বাঁশেরহাট মেস মালিক কমিটির সভাপতি মোঃ রায়হান বলেন, " মেস ভাড়া ৫০% থেকে কমানোর সুযোগ নেই। তবে চুক্তি অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা মনে করলে ৩১ই ডিসেম্বরের পূর্বেই মেস ছেড়ে দিতে পারবে। এছাড়া আমরা নতুন একটি নিয়ম করেছি কোনো শিক্ষার্থী হলে উঠে গেলে তাকে পুরো বছরের ভাড়া দিতে হবে না "।

পক্ষান্তরে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, " শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়ে বাসায় অবস্থান করার কথা। কিন্তু তবুও তারা অনেকেই মেসে উঠেছে। যা সত্যি অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই আমরা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবো না। তাছাড়া উক্ত বিষয়টি দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আছে। তাদের নিজেশ্ব আইন আছে। আমরা শুধু আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে কোনো সহায়তা লাগলে সে বিষয়ে সহায়তা করবো "।

উল্লেখ্য যে, হাবিপ্রবি প্রশাসন, হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ, জেলা প্রশাসন দিনাজপুর ও বাঁশেরহাট মেস মালিক কমিটির সম্মেলিত প্রচেষ্টায় গত এগ্রিল মাসে মেস ভাড়া ৫০% কমানো হয়। তবে এর মাঝেও কিছু মেস কতৃপক্ষ ভাড়ার বিষয়টি মানছেন না বলে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে। করোনা মহামারির সময়ে মেস মালিক কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের জন্য আরো বেশি সহনশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বিশিষ্ট জনেরা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ