Wednesday -
  • 0
  • 0
Benin Snigdha
Posted at 27/11/2020 02:03:am

'গেল গেল সব রসাতলে গেল'

'গেল গেল সব রসাতলে গেল'

'হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল’। আমাদের অবস্থা হয়েছে অনেকটা সেরকম। বেশ অনেক দিন আগে বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যায়নেলের পক্ষ থেকে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত SSC পরীক্ষায় GPA 5 প্রাপ্তদের কয়েকজনকে কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল।

প্রশ্নগুলো ছিল এমন : 

প্রশ্ন : আমি জিপিএ ৫ পেয়েছি – এটির ইংরেজি রূপ কী হবে?

প্রাপ্ত উত্তর : “I am GPA 5”.  প্রশ্ন : বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কবে?

প্রাপ্ত উত্তর : “২৬ ডিসেম্বর”। 

প্রশ্ন : অপারেশন সার্চলাইট কী?

প্রাপ্ত উত্তর : “অপারেশন থিয়েটারে যে লাইট ব্যরবহার করা হয়”। 

এই হলো GPA 5 প্রাপ্তদের প্রশ্নো উত্তোর পর্বের একটি ছোট্ট সরূপ। আসল কথায় যাওয়ার আগে একটু বলে নিই। আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় অনেক ভাব গাম্ভীর্যপূর্ণ ভাষায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যববস্থা, শিক্ষা ব্যংবস্থার দোষ গুণ, খুঁটিনাটি, ত্রুটিবিচ্যুতি, টুটা ফাটা অতি যত্নে এবং দক্ষতার সাথে খুজেঁ বের করার চেষ্টা করেছি এবং করছি। বলা ভালো, ভবিষ্যতেও আমরা সেই ধারা অব্যাকহত রাখতে এতোটুকু পিছপা হবোনা। কারণ এই কাজটা আমরা আবার ভালো পারি কিনা। কিন্তু আমার মাথা ব্য থা, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যনবস্থা বা ‘ওই বিশেষ কাজে’ পারদর্শীদের নিয়ে নয়। আমার চিন্তা হলো যাদের উদ্দেশ্যে এতো আয়োজন তাদেরকে নিয়ে আর তাদের পরম শ্রদ্ধাভাজন অভিভাবকদের নিয়ে। 

জ্যামিতিক হারে জনসংখ্যা উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে। তবে গঠনমূলক চিন্তা এবং সৃজনশীল কাজে পারদর্শিতা প্রদর্শনের দিক থেকে অন্য অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি পিছিয়ে। তার মধ্যে একটি দিক হলো ‘স্ব এবং সুশিক্ষা’। অনেকে হয়তো ভাবছেন, আমাদের দেশে কতো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাং কার হয়ে জন্ম নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। অনেক ছেলে মেয়ের আবার বড় বড় ডিগ্রীর সনদের পুরুত্বে ফাইলের ক্লিপ বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। কে বলেছে আমরা পিছিয়ে? কারও কোনো ভুল নেই। সব ঠিকঠাক ই চলছে। আমার কথাগুলো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে নয়। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের বাইরের যারা, তাদেরকে নিয়ে। 

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যযবস্থার ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে আমরা অনেকেই অনেক কিছু উদ্ধার করে ফেলেছি। আবার অনেকে অনেক কিছু বিসর্জন ও দিয়েছি। সেই ভস্মে ঘি না হয় নাই ঢালি।  প্লে গ্রুপ, কেজি ক্লাশের বাংলা বই এর ক – ঁ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বলতে এবং লিখতে বলা হলে আমার বিশ্বাস ৭০% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ই তা পারবেন না। উচ্চারণ এর কথা যদি বলি, তাহলে আর লিখে শেষ করা যাবে না। (ঙ) – উয়োঁ কে বলছেন উমো, (ঞ) – ইঁঅঁ কে নিঁঅ, (ণ) – মূর্ধণ্য ণ কে মদিনান্য,। আরও আছে…। তার উপর কেউ কেউ আবার গায়েবি বর্ণ (ক্ষ) কে স্মরণ করতেও ভুল করেন না। বাবা মা কিংবা অভিভাবক যেখানে ভুল বলছেন, সেখানে সন্তান কী করে ঠিকটি জানবে বা বলবে! অনেকটা কলা = ডিম এর মতো আরকি। 

এই কোমলমতি ছানাপোনারা একটু একটু করে বড় হয়ে যখন উপরের ক্লাশে যায় তখন তাদের মা’দের শুরু হয় PSC পরীক্ষায় GPA 5 পাওয়ার পূর্ব নির্ধারিত অসুস্থ প্রতিযোগিতা। আমার আশেপাশে পরিচিত এমন অনেক অভিভাবককে আমি জানি, ছেলে/মেয়ে ঠিকমতো পড়ছে কি না সেটা চেক করার জন্য রাত ২ টায় ঘুম ভাঙ্গার পর সারা রাত ছেলের কাছে বসে পাহাড়া দিয়েছেন। আসল কথা এটা নয়। আসল কথা হলো সেই মা পরদিন ছেলে/মেয়েকে নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে মাথা ঘুরে রিক্সা থেকে পড়ে গিয়েছেন। মজার ব্যাপপার হলো GPA (Gread Point Average) – এর পূর্ণ রূপটি কী, সেই মা নিজেই জানেন না। অনেকে আবার দুই কোচিং এর মধয বর্তী যাতায়াত সময় বাচাঁনোর জন্য কেরোসিন, স্টোভ আর চাল, ডাল, সবজি কিনে স্যাররের বাসার করিডোরেই বানিয়ে ফেলেন নিজের অস্থায়ী সংসার।  ক্লাশ ৯, ১০ এর বইতে প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধ ছিল, নাম ‘বই পড়া’। সেখানে তিনি শিক্ষা ব্যা বস্থার অব্য বস্থাপনার কথা উল্লেখ করে লিখেছিলেন – “আমাদের বিদ্যািলয়ের মাস্টার মশাইরা গাদা গাদা নোট তৈরি করে আর তা আমাদের ছাত্ররা মুখস্ত করে, এবং পরীক্ষার হলে তা উদগিরণ করে”। আমার ধারণা, যদি প্রমথ চৌধুরী ঘূণাক্ষরেও টের পেতেন বা বুঝতে পারতেন যে তার এই প্রবন্ধকে নিয়ে বিদ্যা লয়ের মাস্টার মশাইরা নোট বানিয়ে ছাত্রদেরকে মুখস্ত করতে বলবেন এবং পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য ছাত্রদের অভিভাবকগণ তাদের পিছনে উঠে পড়ে লাগবেন, তাহলে তিনি হয়তো এ প্রবন্ধ রচনার কথা ভুল করে স্বপ্নেও ভাবতেন না। 

যাই হোক, নতুন যে পদ্ধতি এসেছে সৃজনশীল পদ্ধতি। যদিও সেটা এখন পুরনো হয়ে গিয়েছে। সরকার এটি চালু করেছিল, পুথিঁগত শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রীরা যেন সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। এর ফলাফল তো ভয়াবহ। সৃজনশীল অংশে ভালো নম্বর ওঠানোর জন্য বাংলা আর ধর্মের জন্যও সপ্তাহে ৪ দিন কোচিং করা বাধ্যতামূলক (মায়েদের মতে) ! আর যখন অভিভাবকদের দেখি ভালো মার্কস পাওয়ার জন্য নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে ছেলে মেয়েকে একাধিক কোচিংয়ে পাঠাতে আর সহপাঠীদের মায়ের কাছ থেকে তথাকথিত ভালো স্যার এর (যিনি/যারা প্রচুর পরিমাণ মডেল টেস্ট/মক টেস্ট নিতে পারেন) ফোন নং যোগাড় করার প্রতিযোগিতায় মত্ত, হতে পারে সেটা বাংলা মাধ্যম কিংবা ইংরেজি মাধ্যম, তখন মনে হয়, আসলেই কত শিক্ষিত মানুষ আমরা !  এখন আসি ইংরেজি, অংক আর বিজ্ঞান বিষয়ে ছেলে মেয়েদের ভীতি প্রসঙ্গে। ইংরেজি কোনো জ্ঞান নয়, এটি জ্ঞান অর্জন করার জন্য কেবল একটি ভাষা মাত্র – এটি আমাদের সমাজের অধিকাংশ বাবা মা রা বোঝাতো দূরের কথা জানেনই না বলা যায়। আর যারাও বা জানেন তাদের সংখ্যাা খুবই নগণ্য। কারণ আমাদের বাবা মা, তাদের বাবা মা, তাদের ও বাবা মা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের সন্তানদের কানে এ কথাটি পৌঁছাতে পারেননি। না বুঝে শুধু ছুটছি আর ছুটছি। আহা, বাংলা ভাষাটা আয়ত্ত করার জন্য যদি এভাবে দৌড়াতাম, তাহলে হয়তো জাতি হিসেবে আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ধন্যবাদ জানাতাম। 

আবার ইংরেজি ১ম পত্র আর ২য় পত্রের জন্য আলাদা করে দুই স্যা রের কাছে আবশ্যক কোচিং এর কথাতো বলাই বাহুল্য। প্রাণ দিয়েছি স্বাধীনতার জন্যক, বাংলা ভাষার জন্য। কিন্তু চাকরি হয়না ইংরেজি ভাষা না জানার জন্য। যাদেরও বা হয় তারা দু’ কলম ইংরেজি লিখতে গেলে ঘেমে গোসল করে ফেলেন। ছোটোবেলা থেকেই Paragraph, Composition, Easy, Letter এগুলো সবই মুখস্ত করান আমাদের শিক্ষক, অভিভাবকেরা। হ‍‍যাঁ, অবশ্যই এগুলো লিখার ধরণ, বিষয়বস্তু জানতে হবে। কিন্তু একে কেন্দ্র করে নিজের বিশ্রাম, খেলাধূলার সময় নষ্ট করে স্কুলে অতিরিক্ত ক্লাশ করা, অযথা কোচিং এ দৌড়াদৌড়ি করা – নিছক হাস্যনকর বিষয় ছাড়া আর কিছু নয়। অন্তত আমার কাছেতো তা – ই। এতো দৌড়াদৌড়ির পরও তো ইংরেজি বলতে গেলে আমাদের গলা, হাঁটু কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে যায়। করপোরেট অফিসিয়াল Agreement তৈরী করতে বললে, ইংরেজি ভাষায় ভালো দখল থাকা পাশের কলিগের সাহায্য নিতে হয়। অথচ এরাই নাকি SSC, HSC পরীক্ষায় Golden GPA 5 (প্রচলিত) পেয়ে ভালো রেজাল্ট করেছেন। তাদের জন্যই নাকি পেট থেকে বের হওয়ার আগেই ইংরেজি মাধ্যমের শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি করানোর জন্য বাবা মা কে বুকিং মানি দিয়ে সিট দখল করে রাখতে হয়, জন্মের প্রায় বছরখানেক আগেই। 

এখানে আরও একটি কথা মনে পড়ে গেল। ছোটবেলায় স্কুলে কবি, সাহিত্যিকদের জন্মস্থান, তাদের জন্ম সাল, মৃত্যু সাল, তাদের রচনাবলী সব মুখস্ত করে পরীক্ষার খাতায় লিখতে হতো। আমার প্রশ্ন হলো এসকল বড় বড় গুণী ব্যযক্তিদের, বইতে যে জন্ম সাল উল্লেখ করা হয়েছে, এটি কি আদৌ সঠিক? মানে আমি বলতে চাইছি সে সময় তাদের পিতা মাতারা কি তাদের সন্তানদের জন্ম সাল লিখে রাখতেন? মনে হয় না। 

এরপর আসে উচ্চ শিক্ষার স্তর। সেখানেও এক চিত্র। বাবা মা’র কড়া আদেশ, মেডিকেলে চান্স পেতেই হবে নইলে বুয়েট। এই দু’এর বাইরে আর কোনো Option নেই। কারণ তোমাকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে। নইলে আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশির কাছে মুখ দেখাতে পারবো না। তারপর সর্বোচ্চ মেধা, শক্তি প্রয়োগ করেও যখন মেডিকেল বা বুয়েটে চান্স হলো না তখন আসে “গেল গেল সব রসাতলে গেল” বলে কপাল চাপড়ানোর পর্ব। বহু কষ্টে মা বাবা, আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশির মানসিক চাপের শিকার সেই ছেলেটি বা মেয়েটি যখন উচ্চ শিক্ষা স্তরের গণ্ডি পেরুলো, তারপর শুরু হয় BCS নামক আর এক নতুন চাপ। তোমাকে ক্যা ডার হতে হবে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে পারোনি ঠিক আছে কিন্তু ক্যাতডার তোমাকে হতেই হবে। আচ্ছা একটা কথা চিন্তা করে দেখুন তো, সরকারি কর্ম কমিশনের অধীন চাকরির সিট বরাদ্দ থাকে ২ হাজারের কিছু বেশি। আর তার বিপরীতে আবেদন প্রার্থী প্রায় ৪ – ৫ লক্ষ বা তার ও বেশি। ওই ২ হাজার প্রার্থী বাদে বাকি সবাইতো বাদ পড়বে। তাহলে এদের কী হবে? এরা কি সবাই বানের জলে ভেসে যাবে? বছরের পর বছর ধরে এইযে আপনি আপনার সন্তানকে এতো এতো মানসিক, শারীরিক চাপে জর্জরিত করে দিচ্ছেন, টেবিল চেয়ারের সাথে ভালো রেজাল্ট করার দোহাই দিয়ে তার অনিচ্ছা সত্বেও তাকে আঠার মতো চেপে ধরে রেখেছেন, তাতে করে আপনি বা আপনার মতো অন্যরা কেউ কোনো ফায়দা উঠাতে পেরেছেন কি না?  অনেক বাবা মা ই বলেন, আমার জীবনে আমি যা করতে পারিনি, যা হতে পারিনি, আমার সন্তান যেন সেটা করে। আমার সন্তানের মধ্য দিয়ে আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। সেইসব বাবা এবং মায়েদের প্রতি আমার কিছু জিঞ্জাসা আছে –  এক, আপনি আর আপনার সন্তান দু’জনের স্বপ্ন কী করে এক হয়?  দুই, আপনার স্বপ্ন পূরণ করার দায়িত্ব কি আপনার সন্তানের? কেন?  তিন, আপনি নিজে কেন সেই জায়গাটায় পৌঁছতে পারেননি, যার মাশুল আপনার সন্তানকে দিতে হবে?  চার, আপনি কি আপনার সন্তানের অভিভাবক না প্রতিপক্ষ?  আমি নিজে এক সময় শিক্ষকতা করেছি। খুব বিস্মিত হই, যখন দেখি বাবা মা নিজে যেটা করতে পারেননি, সন্তানের পূর্ণ অনিচ্ছা থাকার কথা জেনেও তাকে দিয়ে তারা সেই কাজটাই আদায় করে নিতে চান। এবং সন্তান যদি সেটি করতে ব্যার্থ হয় তাহলে তার উপর নেমে আসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। কি অবাস্তব চিন্তা আমাদের! কতটা মূর্খ আমরা! আপনি ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন, পারেননি বলে আপনার সন্তানকে ডাক্তার হতে হবে – এটি বাংলাদেশের কততম সংবিধানে উল্লেখ আছে? সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া সমাজে আর কোনো সম্মানজনক পেশা নেই? আলবৎ আছে। কেন সেগুলো উহ্য থাকে? সমাজে ১০০ জনের কয়জন ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন? ২/৩ জন। তাহলে বাকি রা কী করছে? বাকিরা, হয় কেউ স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যােলয়ের শিক্ষক, কেউ হয়তো বিজ্ঞানী/গবেষক, কেউ পাইলট, কেউ কবি, কেউ লেখক, কেউ নাট্টকার, কেউ অভিনয় শিল্পী, কেউ কণ্ঠ শিল্পী, কেউ আইনজীবী, কেউ সাংবাদিক, কেউ ব্যরবসায়ী…। সমাজে এই পেশাগুলো অত্যন্ত সম্মানজনক। কিন্তু ওই যে আমাদের শ্রদ্ধেয় পূর্ব পুরুষ গণ আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন। আমরা সেখান থেকে আর বের হতে পারছি না। 

আমরা কয়জন ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ারকে চিনি বা জানি? কিন্তু আমরা একজন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথকে চিনি। একজন কাজী নজরুল ইসলামকে চিনি। যার জীবনী পড়ে আমরা উদ্বুদ্ধ হই। কামাল লোহানীর মতো একজন প্রথিতযশা, বলিষ্ঠ সাংবাদিককে জানি। মুস্তাফা মনোয়ারের মতো বিখ্যা ত চিত্রশিল্পীকে চিনি। হূমায়ুন আহমেদের মতো নন্দিত কথা সাহিত্যিয়কের বই পড়ে তাঁর কল্পনার চরিত্রে নিজেকে রূপ দিই। আর বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসানতো আমাদের ছোট বড় সকলের নয়নের মণি। এদের কেউ ই ডাক্তার / ইঞ্জিনিয়ার নন। অথচ তারা নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। 

সময়ের সাথে সাথে আমাদের উচিৎ নিজেকে পরিবর্তন করা। “চিলে কান নিয়ে গেছে” বলে চিলের পিছনে ছুটছি তো ছুটছি – এটা যেমন নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক, একটি ভ্রান্ত ধারণাকে আকঁড়ে ধরে নিরন্তর তার পিছনে ছুটে চলাও ঠিক তেমন ই একটি নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। আমরা প্রত্যেিকটি মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সত্তার ধারক ও বাহক। আপনার শিশুকে/সন্তানকে আপনি বুঝুন। চাপ নয়, উৎসাহ দিয়ে তাকে, তার জায়গাটি খুঁজে নিতে সাহায্য করুন। কারণ তার ‘বর্তমান সময়টি’, অতীত হলেও আপনার কাছে আপনার নিজের ‘সেই সময়টি’ তখন বতর্মান ছিল। শাসক কিংবা নির্ধারক নয়, ‘অভিভাবক’ কথাটির অর্থ বুঝে আপনি আপনার সন্তানের ‘অভিভাবক’ হয়ে ‘বন্ধু’ হয়ে তার ইচ্ছের কথা শুনুন এবং তাকে ইচ্ছে অনুযায়ী তার জায়গাটি বেছে নিতে সর্বোচ্চ সুযোগ করে দিন। কারণ আপনি যা করতে পারেননি, সেটার দায় সম্পূর্ণ রূপে আপনার। আরেক জনের উপর নিজের ব্যকর্থতার দায় চাপিয়ে দিয়ে তার স্বপ্নকে খুন করার কোনো অধিকার আমাদের কার ও নেই। আমরা কেন সেটি করব? দেখুন না, স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে, তার চলার পথটাকে আনন্দদায়ক, মসৃণ করে দিয়ে। সাফল্য হয়তো খুব বেশি দূরে নয়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ