Wednesday -
  • 0
  • 0
Verified MD. MIRAZUL-AL- MISHKAT
Posted at 26/11/2020 10:23:pm

হাবিপ্রবির শিক্ষকের টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ারের উপর চূড়ান্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত

হাবিপ্রবির শিক্ষকের টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ারের উপর চূড়ান্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ( হাবিপ্রবি ) শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সরকারের নেতৃত্বে গড়া টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ারের উপর চূড়ান্ত কর্মশালা বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর ) অনলাইন প্লাটফর্মে( জুম অ্যাপস ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। " Project Completion Workshop on Design and Development of Two Stage Drying Technique for Drying of High Moisture Grain " উক্ত শিরোনামে কর্মশালাটিতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সরকার।   

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. বি. কে. বালা, অধ্যাপক ড. মোঃ মনজিরুল আলম, ড. সুলতান আহমেদ, কৃষি যান্ত্রিকরণ প্রকল্পের পরিচালক মোঃ বেনোজির আলম, ড. শাইখ মোহাম্মদ বকতিয়ার, কেজিএফ এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, ডিএই এর ডিরেক্টার জেনারেল মোঃ আসাদুল্লাহ, ডঃ মোঃ ইসমাইল হোসেন, হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ ফজলুল হক, হাবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ডঃ বিধান চন্দ্র হালদার, হাবিপ্রবির ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সদ্য সাবেক ডীন অধ্যাপক ড. মারুফ হাসান সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক, বিভিন্ন মিল মালিক, স্থানীয় কৃষক সহ অন্যান্যরা।       

অনুষ্ঠানে বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড. বি. কে. বালা এমন প্রকল্পের ভূয়শী প্রশংসা করে বলেন " দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন আবিষ্কার সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সময়ের সাথে সাথে যদি টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ারের আরো মডিফাই করা হয় তবে প্রকল্পটি মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া সম্ভব "। এ সময় তিনি সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য হাবিপ্রবি উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।   

এদিকে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম বলেন, " যে কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কার করার চেয়ে সেই প্রযুক্তিটি সময়ের সাথে সাথে টিকিয়ে রাখাটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমি বেশ কয়েকবার প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছি। এই প্রকল্পটি হাবিপ্রবির জন্য সম্মানের এবং গর্বের বিষয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে হয়তো বড় পরিসরে সহায়তা করা সম্ভব হবে না তবে আমরা চেষ্টা করবো সাজ্জাদ হোসেনকে তার প্রকল্পকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যথাসাধ্য সহায়তা করা।"   

পক্ষান্তরে অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য যারা কাজ করেছে তাদের সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, "আমাদের পরিশ্রম সার্থক। এখন প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার। আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা মাঠ পর্য়ায়ে সেবাসমূহ পৌঁছে দিতে পারবো। এছাড়া মোবাইল ড্রায়ারের কাজ আগামী মাসের মধ্যেই শেষ হলে সেটি আরো বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করবে বলে আশা করছি "।     

টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ার তৈরিতে প্রায় ৪০-৪৫ লাখ টাকা খরচ পরে। এছাড়া সিংগেল স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ার তৈরিতে ২০-২৫ লাখ টাকা এবং মোবাইল ড্রায়ার তৈরিতে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকা প্রয়োজন পরবে বলে জানা যায়।       

টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ারের মাধ্যমে প্রতি কেজি ভুট্টা কিংবা ধান শুকাতে ৪০ থেকে ৬০ পয়সা খরচ হবে। পাশাপাশি উক্ত মেশিনে ড্রায়িং করলে রং ও পুষ্টি গুনাগুণ ভাল থাকবে। এতে কৃষকরাও বাজারে বেশি মূল্য পাবে। এছাড়া আবহাওয়া খারাপ থাকলে এই পদ্ধতিতে ফসল শুকিয়ে ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে বলে সাজ্জাদ হোসেন জানান। ফলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রতিবছর যে পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়, সেটি আর হবে না।     

কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) অর্থায়নে টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ার প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়।   

উল্লেখ্য যে, এই প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর হিসেবে ছিলেন প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাত হোসেন সরকার, কো-ইনভেস্টিগেটর হিসেবে প্রফেসর ড. মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. আব্দুল মোমিন শেখ। রিসার্চ ফেলো হিসেবে ছিলেন মোঃ এজাদুল ইসলাম, আক্তারুজ্জামান ও হাসান তারেক।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ