Saturday -
  • 0
Verified MD. MIRAZUL-AL- MISHKAT
Posted at 25/11/2020 07:01:pm

দুই বছরেও শেষ হয়নি হাবিপ্রবির গ্রন্থাগার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার অটোমেশনের কাজ

দুই বছরেও শেষ হয়নি হাবিপ্রবির গ্রন্থাগার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার অটোমেশনের কাজ

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম ২০১৮ সালে ঘোষণা করেন হাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখা আধুনিকায়ন করা হবে। কিন্তু সময়ের চাকা দুই বছর অতিক্রম করলেও অটোমেশন কাজ এখনো চলমান আছে বলে সংশ্লিষ্ট শাখা দুইটি নিশ্চিত করে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-গ্রান্থাগারিক( ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান ) মোঃ আব্দুর রউফ বিন আবেদিনের কাছে গ্রন্থাগারের অটোমেশন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ আমাদের কাছের অগ্রগতি বেশ ভালো। আশা করি আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ সকল কাজ শেষ হবে। অটোমেশন প্রক্রিয়া চালু হলে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে যেকোনো বই লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত আছে কিনা দেখতে পারবে। এছাড়া পছন্দের বইটি কার কাছে আছে তাও জানতে পারবে।পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে কেউ বই গ্রন্থাগারে জমা না দিলে তার জরিমানার বিষয়টিও অটোমেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জানা যাবে। অনলাইনের মধ্যমে বিভিন্ন জার্নাল ও অনলাইন ই-বুক পড়তে পারবে শিক্ষার্থীরা। লাইব্রেরি বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বই জমা দিতে পারবে "।


 এ মুহূর্তে হাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রায় ৩৫০০০ বইয়ের পাশাপাশি অনুমানিক ১২০০০ এর মতো অনলাইন জার্নাল রয়েছে। তাই সবকিছু প্রক্রিয়াকরণ করতে সময় লাগছে বলে উপ-গ্রান্থাগারিক জানান। 


গ্রন্থাগার অটোমেশনের আওতায় অনতে গতবছর হাবিপ্রবি থেকে একটি পরিদর্শক দল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করে । পরিদর্শক দল ঢাবি, শেকৃবি, কুয়েট ও ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে এসে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। 


অন্যদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ মিজানুর রহমানের কাছে তাঁর শাখার আধুনিকায়নের কাজের অগ্রগতি সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ আগামী ৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ২ টি করে অনুষদে যারা রেজাল্টের কাজ করেন তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার ব্যবস্থা করা হয়েছে । এর পরপরেই হাবিপ্রবির ১৯ ব্যাচ থেকে নিচের সকল ব্যাচ অটোমেশন প্রক্রিয়ার আওতায় চলে আসবে। এতে করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার রেজাল্ট প্রক্রিয়াকরণ করা সহজ হবে। পূর্বের ম্যানুয়াল সিস্টেম অনুসরণ করতে গিয়ে অনেক ভুল হয়ে যেতো সেটা অটোমেশন প্রক্রিয়ায় কমানো সম্ভব হবে "।


পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখাকে অটোমেশন প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে ব্যায় হচ্ছে প্রায় দুই লাখ দশহাজার টাকা। চার দফায় এ টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে বলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার পরিচালক জানান। 



প্রকল্প দুইটির সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম বলেন, " করোনা মহামারী আমাদের স্বাভাবিক অনেক কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। তবুও আমি চাচ্ছিলাম যাতে অটোমেশনের কাজ দুইটি যাতে আগামী বিজয় দিবসের আগেই শেষ হয়। তবে গ্রন্থাগারের কাজটি হয়তো শেষ হবে না তবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার কাজ বিজয় দিবসের আগেই শেষ হবে বলে জানতে পেরেছি। অটোমেশনের কাজ দুইটি বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে ঠিক তেমনি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে "।


উল্লেখ্য, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ আধুনিকায়ন হওয়ার পর হাবিপ্রবির এই গুরুত্বপূর্ণ দুইটি শাখা আধুনিকায়ন হতে চলেছে। বিলম্ব হলেও ডিসেম্বরের মাঝেই যাতে উক্ত প্রকল্প গুলোর কাজ শেষ হয় সেই প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন হাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।




শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ