Saturday -
  • 0
জাহাঙ্গীর আলম কবীর
Posted at 25/11/2020 01:25:pm

কলারোয়ায় গাড়ির বহরে হামলা পরবর্তী ঘটনা বহুল দিনগুলি: পর্ব- ১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হত্যার চেষ্টা

কলারোয়ায় গাড়ির বহরে হামলা পরবর্তী ঘটনা বহুল দিনগুলি: পর্ব- ১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হত্যার চেষ্টা

আঠারো বছর পর সাতক্ষীরার কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ির বহরে হামলা মামলা আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট এই হামলা করা হয়। হামলা চালায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নিলে আদালতে মামলা করা হয়। ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে প্রায় ৭৫ জনকে আসামী করে মামলা করেন কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন। সাক্ষী করা হয় ১৮ জনের নাম উল্লেখ সহ আরো অনেকের। 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধর্ষণের শিকার এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কলারোয়ায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিএনপির নেতাকর্মীরা সাতক্ষীরা জ-০৪-০০২৯ নম্বরের যাত্রী বিহীন একটি বাস দিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনার গাড়িসহ তার সফর সঙ্গীদের সকল গাড়ির বহর আটকে ফেলে। হাসিনা সহ সকল সফরসঙ্গীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এই সময় ঝিকরা গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমানকে মুজিব কোটের কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে গাড়ি থেকে বের করে আনে। তখন শ্রীপতিপুরের মেরিন ও আব্দুর রকিব লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করতে থাকে। পুটুনি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক আহত মুজিবুর রহমানের পকেট থেকে ১২ হাজার ৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। গদখালী গ্রামের আক্তারুল তার পাঞ্জাবি ছিড়ে দেয়।

গদখালী গ্রামের মেহেরুল্লাহ, আব্দুস সামাদ, বিপ্লব, এস এম আব্দুল গফফার, তুলসীডাঙ্গা গ্রামের রফিকুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ, পুটুনি  গ্রামের আব্দুস সামাদ, হুলহুলিয়া গ্রামের হাসান, রায়টা গ্রামের ময়না, ইয়াসিন আলি, বাটরা গ্রামের আব্দুর রব, জিকরা গ্রামের রিঙ্কু এবং কয়লা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস সাত্তার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক মারপিট করে। ঘটনার আকস্মিকতায় শেখ হাসিনা গাড়ি থেকে বের হয়ে আসলে কলারোয়া গ্রামের আব্দুল কাদের বাচ্চু এবং ঝিকরা গ্রামের রঞ্জু তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দু’রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।

লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সে যাত্রায় শেখ হাসিনা জীবনে রক্ষা পান। তার নিরাপত্তারক্ষীদের বাধার মুখে ও নেতাকর্মীদের প্রচেষ্টায় বাসটি সামান্য সরিয়ে শেখ হাসিনার গাড়িটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় রঞ্জু ও কলারোয়ার রিপন তার গাড়ি লক্ষ্য করে একাধিক বোমা নিক্ষেপ করে। বোমার আঘাতে তার সফরসঙ্গী জোবাইদুল হক রাসেল মারাত্মক আহত হন। ঢাকা মেট্রো গ- ১২-৫৩৪২ নম্বর গাড়িটির গ্লাস ভেঙে যায়। হামলাকারীদের বোমা ও ইটপাটকেলের আঘাতে গাড়িগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সময় পুটুনির আব্দুর রাজ্জাক যুব মহিলা লীগের নেতা ফতেমা জামান সাথীকে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করে। সফরসঙ্গী আব্দুল মতিন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাকে পিটিয়ে আহত করে। তার ঘড়ি ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। কয়েকজন বিএনপি কর্মী আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল গালিগালাজ করে গাড়িতে জুতা নিক্ষেপ করে। আওয়ামী লীগের দাবি, পুরো ঘটনাটি ঘটে তৎকালীন সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের পরামর্শ ও নির্দেশ।

এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে উল্লেখিত ব্যক্তিরা ছাড়াও জড়ি ছিলেন পাঁচপোতা গ্রামের আশরাফ হোসেন, তুলসীডাঙ্গা গ্রামের রোমেল, বহুড়া গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন সেন্টু, শুভঙ্করকাটি গ্রামের মাজহারুল হক এবং কেড়াগাছি গ্রামের আব্দুল মালেক। এই মামলার সাক্ষী করা হয় মোসলেম উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, জোবাইদুল হক রাসেল, ফাতেমা জামান সাথী, আব্দুল মতিন, আবু আহমেদ, সাজেদুর রহমান খান মজনু, নজরুল ইসলাম, ফিরোজ আহমেদ স্বপন, আমিনুল ইসলাম লাল্টু, শওকাত আলী, আলতাব হোসেন লাল্টু, শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক জাকির হোসেন, সাংবাদিক শাহেদ চৌধুরী, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মুনসুর আহমেদ সহ আরো অনেকের। কলারোয়া থানায় মামলা না নেয়ায় আদালতে মামলা করা হয় ঘটনার দুদিন পর।

মামলা নম্বর ১১৭১/০২, তারিখ ০২/০৯/২০০২। মামলার ধারা সমূহ বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৪৭/ ১৪৮/ ৩২৩/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৩৫৪/ ৩৭৯/ ৪২৭/ ৪৪০/ ৫০০/ ৫০৬(২)/ ১৪৯ তৎসহ অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ও (চ) এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৪ ধারা। আদালতের নির্দেশে কলারোয়া থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়। (দ্বিতীয় পর্বে পড়–ন সেদিন যা ঘটেছিল।)


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ