Feedback

জেলার খবর

ঘর তোলার সামর্থ্য না থাকায় বানরের ঘরে বসবাস

ঘর তোলার সামর্থ্য না থাকায় বানরের ঘরে বসবাস
November 22
02:34pm
2020

আই নিউজ বিডি ডেস্ক Verify Icon
Eye News BD App PlayStore

জমি কিনে ঘর তোলার সামর্থ্য নেই নাদিরার। তাই ৮ বছরের সন্তান নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন বানরের ঘরে। 

শুনতে একটু আজব হলেও ১৯৯৯ সালে ফরিদপুর বন বিভাগ ঠিকারের মাধ্যমে বানরের খাবার দেয়ার জন্য একটি ঘর তৈরি করে। সেসময় প্রচুর বানর খাবার খেতে আসত ওই ঘরে। কিন্তু এরপর বানরের জন্য সরকারিভাবে তেমন বরাদ্দ না থাকায় আস্তে আস্তে বানরগুলো বিভিন্ন এলাকায় খাবারের জন্য চলে যায়। ২০০৬-০৭ সাল থেকে আবারও খাবার দেয়া শুরু করে মাদারীপুর বন-বিভাগ। তবে সেটা অতি সামান্য হওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময় অভুক্ত থাকে বানরগুলো। অনেক অর্থবছরে বানরের জন্য কোনো বরাদ্দও ছিল না। 

এছাড়াও বানর সংরক্ষণ করে একটি পর্যটন এলাকা তৈরির জন্য ইকোপার্ক তৈরি করা হয়। কিন্তু সেটারও কার্যক্রমে তেমন কোনো অগ্রগতি না থাকায় বানরগুলো জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। 

বানরের সেই ঘরগুলো খালি পড়ে থাকায় অসহায় ঘরহীন ৭টি পরিবার বানরের ঘরে ও তার পাশের জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। 

মাদারীপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কুমার নদীর পাড়ে পৌর-কোলনীর পাশে নাদিরাসহ ৭টি পরিবার বানরের খাবার ও পানি খাওয়ার ঘরসহ পাশের জমিতে ঘর নির্মাণ করে থাকছেন। 

বানরের ঘরে বসবাস করা নাদিরা বলেন, আমি অসহায় হয়ে আজ বানরের ঘরে থাকি। আমার থাকার কোনো স্থান নেই, যদি থাকত আমি বানরের খাবার দেয়ার ঘরে থাকতাম না। 


তিনি আরও বলেন, এখন আর এখানে কোনো বানর দেখা যায় না এবং কেউ খাবারও দেয় না। খালিই পড়ে ছিল ঘরটি। তাই আমি আমার সন্তান ও স্বামী মনজুর আলমকে নিয়ে এখানে থাকি। পাশাপাশি এখানে একটি ছোট চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করি। 

মাদারীপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কমিশনার মো. খলিলুর রহমান বেপারী বলেন, বানরগুলো খাবার না পেয়ে এখন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। ১৯৯৯ সালে বিশেষ প্রজেক্টের মাধ্যমে বানরের খাবারের ঘর করে ফরিদপুর বন-বিভাগের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সেসময় দেখভাল করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় পৌরসভাকে। কিন্তু বানরের ঘরটি খালি পড়ে ছিল, তাই হয়ত একটি পরিবার সেখানে থাকে। 

তিনি বলেন, যদি বানরের খাবার দেয়া শুরু হয় তাদের সরাতে সময় লাগবে না। তাছাড়া যদি তাদের থাকার স্থান না থাকে তাহলে আমি সরকারি সহযোগিতা ছাড়াও নিজে আর্থিক সহযোগিতা করব। 

মাদারীপুর জেলা বন কর্মকর্তা তাপস কুমার সেনগুপ্ত জানান, আমি জানতাম না বানরের কোনো খাবারের ঘর আছে। এই ঘরগুলো আমাদের বন বিভাগের কিনা সেটাও আমি নিশ্চিত না। হয়ত জেলা পরিষদ করতে পারে। তবে আমরা ফরিদপুরে যোগাযোগ করে দেখব। তবে যেহেতু এগুলো বানরের জন্য তৈরি করা হয়েছে তাই ঘরগুলো অতিসত্বর খালি করা হবে। 

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, যাদের ঘর নেই তাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনায় আমরা ঘর করে দিচ্ছি। এরকম যদি কেউ থাকে তাহলে আমরা ‘বঙ্গবন্ধু পল্লী’ নামকরণ করে তাদের সেখানে আশ্রয় দেব। আর বানরের ঘরে কেন মানুষ বাস করে? কেন এটার যত্ন নেয়া হচ্ছে না? আমি জেলা বন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

All News Report

Add Rating:

0

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

নুরু মন্ডল মারা গেছেন

নুরু মন্ডল মারা গেছেন

দুপচাঁচিয়ায় পৌরসভার উদ্যোগে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন

দুপচাঁচিয়ায় পৌরসভার উদ্যোগে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়

চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় বেহাল কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় বেহাল কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতি আসলামকে বহিষ্কার

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতি আসলামকে বহিষ্কার

কুমিল্লায় বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা

কুমিল্লায় বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর আত্মহত্যা

জামালপুর শহরের যানজট নিরসনে নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

জামালপুর শহরের যানজট নিরসনে নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

ফরিদগঞ্জে তেলবাহী লরি ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

ফরিদগঞ্জে তেলবাহী লরি ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

গোয়ার সৈকতে মোনালিসার হট ফটোশুট

গোয়ার সৈকতে মোনালিসার হট ফটোশুট

অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে সিয়াম-পরীমনির "বিশ্বসুন্দরী"

অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে সিয়াম-পরীমনির "বিশ্বসুন্দরী"

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

দুপচাঁচিয়ায় ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মাত্র ৫৪ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়ার ট্রেন আসছে

মাত্র ৫৪ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়ার ট্রেন আসছে

কাশ্মীর নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর প্রথম যৌথ প্রস্তাব

কাশ্মীর নিয়ে মুসলিম দেশগুলোর প্রথম যৌথ প্রস্তাব

ওমানে নোয়াখালীর তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু

ওমানে নোয়াখালীর তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু

ভৈরবে ১৭ মাদক কারবারী আটক

ভৈরবে ১৭ মাদক কারবারী আটক

সর্বশেষ

মিয়ানমারের সাত নাগরিক আটক, দুই লাখ আশি হাজার ইয়াবাসহ

মিয়ানমারের সাত নাগরিক আটক, দুই লাখ আশি হাজার ইয়াবাসহ

করোনা নিয়ে মুখ খুলছে উহান, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কেটেছে

করোনা নিয়ে মুখ খুলছে উহান, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কেটেছে

মস্তিষ্কে পৌঁছে যাচ্ছে ভাইরাস, নাক দিয়ে

মস্তিষ্কে পৌঁছে যাচ্ছে ভাইরাস, নাক দিয়ে

বিশ্বের ১৩০ কোটি স্কুল শিক্ষার্থীর বাড়ি নেই ইন্টারনেট

বিশ্বের ১৩০ কোটি স্কুল শিক্ষার্থীর বাড়ি নেই ইন্টারনেট

পদত্যাগ করবেন না জিদান

পদত্যাগ করবেন না জিদান

মহামারীতে বিশ্বজুড়ে হতদরিদ্র বেড়েছে ৪০ শতাংশ : জাতিসংঘ

মহামারীতে বিশ্বজুড়ে হতদরিদ্র বেড়েছে ৪০ শতাংশ : জাতিসংঘ

ডিসেম্বরে শৈত্য প্রবাহের আভাস

ডিসেম্বরে শৈত্য প্রবাহের আভাস

সোনার দাম আবার কমছে

সোনার দাম আবার কমছে

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ট্রলির ধাক্কায় নিহত ১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ট্রলির ধাক্কায় নিহত ১

সুবর্ণা মোস্তফার ৬১ জন্মদিন আজ

সুবর্ণা মোস্তফার ৬১ জন্মদিন আজ

পত্নীতলায় করোনার ঝুঁকি মোকাবেলায় ত্রাণ বিতরণ

পত্নীতলায় করোনার ঝুঁকি মোকাবেলায় ত্রাণ বিতরণ

ধারাবাহিক আল কোরআন ; সূরা আল বাকারা, আয়াত ৭৭, বাংলা তরজমা ও তাফসির !

ধারাবাহিক আল কোরআন ; সূরা আল বাকারা, আয়াত ৭৭, বাংলা তরজমা ও তাফসির !

হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর জন্য আজ মাঠে নামবে ভারত

হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর জন্য আজ মাঠে নামবে ভারত

২০০০ বছর ধরে পরিত্যক্ত এই নগরী

২০০০ বছর ধরে পরিত্যক্ত এই নগরী

বিগবস তারকা পবিত্রা পুনিয়ার গোপন বিয়ের তথ্য প্রকাশ্যে এলো

বিগবস তারকা পবিত্রা পুনিয়ার গোপন বিয়ের তথ্য প্রকাশ্যে এলো