About Us
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
TahsinTowhid
প্রকাশ ২০/১১/২০২০ ০১:১৪পি এম

সালাতে অলসতা করা মুনাফেকির বৈশিষ্ট্য : তাহসীন তাওহীদ

সালাতে অলসতা করা মুনাফেকির বৈশিষ্ট্য : তাহসীন তাওহীদ Ad Banner

সালাতে অলসতা করা মুনাফেকির বৈশিষ্ট্য। নামাজ পড়ার ব্যাপারে মনের মধ্যে খুব অলসতা অনুভব করা। নামাজ পড়া হয় ঠিকই কিন্তু শুধু মনে হয় সবে তো আযান হল, কিছু সময় পরে পড়ব। আবার একটু পরে মনে হয় এখন আর পড়ব না কাজা নামাজ আদায় করে নিব।

অথচ ইমানের পরে সালাতের মত এত গুরুত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ  ইবাদত আর কিছু নেই। এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ইবাদত। সালাত পরিত্যাগ করা কুফুরি পর্যায়ের গুনাহ। এ ব্যাপারে কুরআন-হাদিসে এত বেশি আলোচনা ও তাগিদ এসে যে, অন্য কোনো বিষয়ে এতটা আসে নি। 

কিন্তু বাস্তব কথা হল, একমাত্র আল্লাহ ভীরুদের জন্য ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা খুবই কঠিন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ 

"ধৈর্য্যের সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু আল্লাহ ভীরু লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।"(সূরা বাকারা: ৪৫)

পক্ষান্তরে সালাতে অলসতা ও অবহেলা প্রদর্শনের কঠিন পরিণতির কথা বলা হয়েছে ।

সালাতে অলসতা ও অবহেলা প্রদর্শনকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এ ব্যাপারে রাব্বে কারীম  বলেন, 

فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ، الَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلاَتِهِمْ ساَهُوْنَ

"ঐ সকল নামাযীদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি (অথবা জাহান্নামের মধ্যে ওয়ায়েল নামক একটি আগুনের উপত্যকা) যারা সালাত থেকে উদাসীন।"(সূরা মাঊন ৪-৫) 

নামাযে অলসতা করা মুনাফিকীর বৈশিষ্ট্য।রাব্বে কারীম বলেন,

إنَّ الْمُناَفِقِيْن يُخاَدِعُوْنَ اللهَ وَهُوَ خاَدِعُهُمْ، وإذاَ قاَمُوْا إلَى الصَََلاَةِ قاَمُوْا كُسَالَى  يُراَؤُونَ الناَّسَ وَلاَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ إلاَّ قَلِيْلاً 

"অবশ্যই মুনাফেকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে। বস্তুত, তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন একান্ত অলস ভঙ্গিতে লোক দেখানোর জন্য দাঁড়ায়। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।"(সূরা নিসা: ১৪২)

 আবু হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

 لَيْسَ صَلاَةٌ أثْقَلَ عَلىَ الْمُناَفِقِيْنَ مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ وَالعِشاَءِ وَلَوْ يَعْلَمُوْنَ ماَ فِيْهِماَ لأَتَوْهُماَ وَلَوْ حَبْواً 

"মুনাফিকদের উপর ইশা ও ফজর সালাতের চাইতে এমন কষ্টকর কোনো সালাত নেই। তারা যদি জানতো যে, এ দু সালাতে কি প্রতিদান রয়েছে তবে হামাগুড়ি দিয়ে ( বা নিতম্বের উপর ভর করে) হলেও তাতে উপস্থিত হত।" (বুখারী, মুসলিম)

ইচ্ছাকৃত ভাবে দেরী করে সালাত আদায়কারীকেও হাদিসে মুনাফিক বলা হয়েছে।

আনাস বিন মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

"ঐটা মুনাফেকদের সালাত, ঐটা মুনাফেকদের সালাত, ঐটা মুনাফেকদের সালাত। যে কিনা ইচ্ছাকৃত ভাবে বসে থাকে। সূর্য (অস্ত যাওয়ার পূর্বে) যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং শয়তানের দু‘শিংয়ের মাঝে অবস্থান করে তখন সে চারটি ঠোকর মারে আর তাড়াহুড়ার কারণে তাতে খুব অল্পই আল্লাহকে স্মরণ করে থাকে।"(মুসনাদে আহমাদ, আবু দাঊদ)

 সময়মত সালাত আদায় করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

أَىُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ ‏"‏ الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا ‏"‏‏.‏ قَالَ ثُمَّ أَىُّ قَالَ ‏"‏ ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ ‏"‏‏.‏ قَالَ ثُمَّ أَىّ قَالَ ‏"‏ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ 

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশী পছন্দনীয়? 

তিনি বলেন, সময় মত সালাত আদায় করা। 

আবদুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, তারপর কোনটি? 

তিনি বললেন, পিতা মাতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা। 

আবদুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, তারপর কোনটি? 

তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। 

আবদুল্লাহ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো সম্পর্কে আমাকে বলেছেন। আমি যদি তাকে আরও বেশী প্রশ্ন করতাম, তিনি আমাকে অধিক জানাতেন।

রাব্বে কারীম আমাদের সকলকে সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়ার তৌফিক দান করুন। 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ