About Us
Md. Nayeem Uddin Khan
প্রকাশ ২০/১১/২০২০ ০২:১১এ এম

২৫০০ বছরের পুরনো মমি সোনায় মোড়ানো কফিনে আজও অক্ষত রয়েছে

২৫০০ বছরের পুরনো মমি সোনায় মোড়ানো কফিনে আজও অক্ষত রয়েছে Ad Banner

মিশরের রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। মিশরীদের ফারাও থেকে শুরু করে রানি, পিরামিড আর মমি তো সারা বিশ্বের মাথা ব্যথার কারণ। তবে সেই রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেন নি বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে হাজার হাজার বছর আগে নদীপাড়ের এই মানুষগুলো কীভাবে এই ব্যাপারগুলো আবিষ্কার করেছেন তাই এখনো বের করা সম্ভব হয়নি।  

বিভিন্ন সময় খনন কিংবা অন্যান্য গবেষণার কাজ করতে গয়ে মিশরের বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া গেছে মমি। সেই সংখ্যাও নেহাত কম হয়। হাজার খানিক তো হবেই। এর মধ্যে রাজা, রাজকুমার থেকে শুরু করে রয়েছে বিভিন্ন পশু পাখির মমি করা মৃতদেহ। কুকুর, বিড়াল, কাক, শকুন, কুমির কিছুই বাদ যায়নি এই তালিকা থেকে। এমনকি মমিদের সঙ্গে দিয়ে দেয়া ফসলও দিয়ে দেয়া হয়েছে বিশেষ পদ্ধতিতে। হাজার হাজার বছর কেটে গেলেও একদম ভালো রয়েছে সেসব।

অনেক সময় মমির কফিন খুলে বিপদেও পড়েছেন অনেক গবেষক। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেগুলো নিয়ে তাদের গবেষণা করতে হয়েছে। কফিনের গায়ে লেখা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই গবেষকদের এই ঝুঁকি নিতে হয়েছে। পিরামিডের ভেতরে থাকা মমির কফিন এরইমধ্যে আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে মিশরের রাজধানী কায়রোর দক্ষিণে অবস্থিত প্রসিদ্ধ সাক্কারা নেক্রোপলিসে রয়েছে একটি কবরস্থান। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ১০০টি কফিন। সেগুলো আড়াই হাজার বছর পুরনো বলে ধারণা প্রত্নতাত্ত্বিকদের।  

৫৯টি কফিনের গঠন দুই হাজার ৬০০ বছর পরও মজবুত রয়েছে। কফিনগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে অক্ষত মমিও পাওয়া গেছে যা ভালোভাবে কাপড় দিয়ে মোড়ানো। অন্তত ৪০টি কফিনে স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া। গবেষণার জন্য কফিন ও মমিগুলো এক্স-রে ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রী খালেদ এল-আনানী বলেন, প্রাপ্ত কফিনগুলো পলিমেইক শাসনামলের। তারা ৩২০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে ৩০ খ্রিষ্টপূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বছর শাসন করেছে। উদ্ধারকৃত মমি ও কফিন আমরা কায়রোর ৩টি জাদুঘরে প্রদর্শন করবো। মিশরের বিখ্যাত গ্র্যান্ড জাদুঘর এর মধ্যে একটি।

ধারণা করা হচ্ছে ফারাও ফেরাউনের সময়কার এই মমিগুলো। সাক্কারা মরুভূমি এবং এর আশেপাশের বেশ কিছু জায়গায় এমন অনেক মমির সন্ধান পাওয়া গেছে। যেগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে কায়রোর জাদুঘরে। তবে এই মমিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে। সাক্কারা নেক্রোপলিসের কবরস্থানে আরো একটি আবিষ্কার হয়েছে। বছরের শেষ দিকে সেটা হয়তো সবাইকে জানানো হতে পারে।

সাক্কারা মালভূমিতে অন্তত ১১টি পিরামিড রয়েছে, এগুলোতে রয়েছে কয়েকশো প্রাচীন কবর। এখানে এখনও অসংখ্য কফিন রয়েছে যেগুলো এখনও উদ্ধার করা হয়নি। তবে গত মাসে উদ্ধার হওয়া প্রথম ১৩টি কফিনের কথা জনসমক্ষে আনেন। ওই একই কুয়ো থেকে প্রায় ৪০ ফুটের বেশি গভীর থেকে পাওয়া যায় এই কাফিনগুলো।

মিশরের প্রাচীন রাজধানী মেমফিসের গোরস্থানের একটি অংশ। এখানেই রয়েছে গিজার জগৎ বিখ্যাত পিরামিড। ফারাও জোসের ছিলেন এই রাজবংশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রাজা। তার আমলেই সাক্কারায় সুবিখ্যাত স্টেপ পিরামিড সহ একাধিক প্রস্তরনির্মিত সৌধ নির্মিত হয়। মানবেতিহাসে এইধরনের সৌধের প্রথম নির্মাতা হিসেবে তার নাম উল্লেখ্য। এটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক আকর্ষণের জায়গা।

এই রাজবংশের আমল প্রাচীন মিশরের প্রস্তরনির্মিত সৌধসমূহের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাল হিসেবেই চিহ্নিত। এইধরনের সুবিশাল নির্মাণকার্য পরিচালনার জন্য প্রয়োজন একটি সুসংগঠিত এবং সচল প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এই আমলের একজন প্রসিদ্ধ আমলা ছিলেন ইমহোটেপ; তিনি ছিলেন ফারাও'এর পরামর্শদাতা ও অন্যতম প্রধান নির্মাতা।

তার খ্যাতি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে পরবর্তীকালে তিনি এমনকী দেবতা হিসেবেও পূজিত হতে শুরু করেন। ফারাও জোসেরের আমল থেকে পিরামিড ও অন্যান্য সৌধের গায়ে অলঙ্করণ ও প্রতিলিপি নির্মাণের ক্ষেত্রে যে ধরনের সূক্ষতা চোখে পড়ে, তা স্বাভাবিকভাবেই এই আমলকে পূর্ববর্তী আমলের থেকে পৃথক রূপে চিহ্নিত করে থাকে।

নীল নদের তীরে গড়ে ওঠা এই সভ্যতাকে বিশ্বের আধুনিক সভ্যতার গোঁড়া বলে থাকেন অনেকে। মিশরীয়দের খাবার, পোশাক, সৌন্দর্য জীবনকাল নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। আর এভাবেই গবেষকদের গবেষণায় উঠে আসছে একের পর এক রহস্য। মিশরীয়দের রহস্যাবৃত জীবনযাপন বিশ্বের মানুষের কাছে উম্মোচিত হচ্ছে। 

এগুলো থেকে বোঝা সম্ভব হচ্ছে, প্রাচীন মিশর কতটা সমৃদ্ধ আর এগিয়ে ছিল অন্যদের থেকে। তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জীবন ব্যবস্থা সবই ছিল সময় অনুযায়ী অনেক এগিয়ে। মিশর গবেষকরা তাদের গবেষণা চালিয়েই যাচ্ছেন চমকপ্রদ কিছুর আশাতেই। 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ