About Us
Masud Rana
প্রকাশ ১৯/১১/২০২০ ০৫:৪৫পি এম

রায়ের পূর্বে মজনুর কাঠগড়ায় সিনক্রেয়েট, পুলিশকে মারধর

রায়ের পূর্বে মজনুর কাঠগড়ায় সিনক্রেয়েট, পুলিশকে মারধর Ad Banner

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের মামলায় আসামী মো. মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুনাহার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং আনাদায়ে তার আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

অন্যদিকে এ মামলায় রায় ঘোষণার আগে কাঠগড়ায় আসামি মজনু ব্যাপক সিনক্রিয়েট ও পুলিশকে মারধর করেছেন।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ বলেন, আইনের সর্বোচ্চ শান্তি ট্রাইব্যুনাল আসামিকে প্রদান করায় তারা সন্তোষ্ট।

বাদী পক্ষের আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী আব্দুর রশিদ বলেন, ভিকটিমের যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হবার নয়, তবে আইনের সর্বোচ্চ শান্তি হয়েছে। সে হিসাবে আমরা খুশি। বাদীপক্ষকেও আমরা মোবাইল ফোনে রায়ের আদেশ জানিয়েছি। তারাও একইভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে রায়ে অস্তোঘ প্রকাশ করে আসামি পক্ষের লিগ্যাল এইড নিয়ুক্ত আইনজীবী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমার মনে হয়েছে আসামি ন্যায় বিচার পায়নি। তাই আসামি ইচ্ছা করলে উচ্চ আদালতে যেতে পারেন।

এদিকে এ মামলায় মজনু ছাড়াও ভিকটিমের শরীরে একাধিক ব্যাক্তির ডিএনএ এর উপস্থিতির বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, আমরা মনে করি একধিক ডিএনএ উপস্থিতি বলতে আমরা ভিকটিম এবং মজনুকে বুঝিয়েছি।

এর আগে রায় ঘোষণার জন্য আসামি মজনুকে বেলা আড়াইটার দিকে হাজতখানা থেকে আদালতের কাঠগড়ায় ওঠানো হয়।

কাঠগড়ায় ওঠানোর পরই সে বলতে থাকেন, ‘পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ভাই আমারে ছাইড়া দ্যান, আমি এতিম, অসহায়। আমার কুনো দোষ নাই। আমি কিছু করি নাই। আমি বাড়ী চইলা যামু, আর ঢাহা আমু না।

মজনু বলেন, আমার শরীল দুর্বল। শরীলে রক্ত নাই। আগে আমি দুইবার এ্যাক্সিডেন্ট করছি। আমি চট্টগ্রাম রিকশা চালাইতাম। সিলেটে বিয়ে করি। বউকে নিয়ে ঢাকায় আসি। লোকজন আমার বউকে ধর্ষণ করছে। পরে ধাক্কা দিয়ে আমাদের দুইজনকে গাড়ীর নিচে ফেলে দিছে। আমার দাঁত ভেঙে যায়। আমি বেঁচে গেলেও আমার বউ মারা যায়। অনেক জায়গায় গেছি বিচারের জন্য। কিন্তু বিচার পাইনি। সাভার ক্যান্টনমেন্টের এক বুড়া মহিলা যাকে আমি মা ডাকছিলাম সে আমাকে ফাঁসায় দিছে। আমি একাজ করিনি। মেয়ে বলছে, আসামির সামনের দুইটা দাঁত ভাঙা। আমার তো সাতটার মত দাঁত ভাঙা। ছেইড়া না দিন না হলে বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়ে মরে যাবো। আমার নাম মজনু, মজনু পাগল।

মজনু আরও বলেন, আমি কিছু করি নাই। ধর্ষন করছে মিলন, দুলাল, ইয়াছিন, আলামিন। পুলিশ টাকা খেয়ে ওদের না ধরে, আমাকে ধরছে। আমি কি ক্ষতি করছি। আল্লাহর কাছে বিচার চাই। হ্যান্ডকাপ খুলে দিন। আমি টুকাই, ভিক্ষা করে খাই।

ওই সময় পুলিশ তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে সে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশের পেছন থেকে কলার ধরে আঘাত করেন।  এরপর সে মুখের মাক্স, গেঞ্জি খুলে ফেলে। অশ্লীল ভাষায় পুলিশ, আইনজীবীদের গালাগাল করে। এরপর পুলিশ আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের করে দেন। ফলে পুরো মামলা ক্যামেরা ট্রায়ালে ন্যায় রায়ও ক্যামেরা ট্রায়ের ন্যায় সাংবাদিকদের অনুপস্থিতে বিচারক ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, সাংবাদিকদের বের করে দেওয়ার পর পুলিশ মজনুকে আজই (বৃহস্পতিবার) তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে শান্ত করেন। এরপর বিচারক এজলাসে উঠে রায় ঘোষণা করেন। রায় শোনার পর তার কোন প্রতিক্রিয়া ছিল না।

রায় ঘোষণা শেষে মজনুকে যখন এজলাস থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন কিছুটা সময় সে নীরব ছিল। একটু পথ যেতে না যেতেই বেঁকে যায় মজনু। সে পুলিশের হতা থেকে ছুটে আদালত থেকে লাফ দেয়ার চেষ্টা করে। তাকে নিচে নামাতে বেগ পেতে হয় প্রায় ২০ জনের মত পুলিশ সদস্যকে। ৬ তলা ভবন থেকে নীচে নামানো হলো কারাগারে যেতেই চাইছিলো না মজনু। সে মাটিতে বসে পড়ে। নিজের হাতে নিজে কামড় দেয়।

এর আগে একই ট্রাইব্যুনালের বিচারক গত ১২ নভেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৯ নভেম্বর দিন ঠিক করেন।

এর আগে এ মামলায় ট্রাইব্যুনাল ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ভিকটিমের বাবা, ভিকটিমসহ ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালী চার্জগঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। সেখানে সে নিজেকে নির্দোষ দারী করেন। মামলাটিতে গত ১৬ মার্চ চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর চলতি বছর ৯ জানুয়ারি আসামি মজনুর ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ওই রিমান্ড শেষে গত ১৬ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর থেকে সে কারাগারেই আছেন।

চার্জশিটে বলা হয়, গত ৫ জানুয়ারি  ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন কুর্মিটোলা বাস স্ট্যান্ড থেকে ফুটপাত দিয়ে ৪০/৫০ গজ সামনে আর্মি গলফ ক্লাব মাঠ সংলগ্ন স্থানে ভিকটিম (২১) পৌঁছালে আসামি মজনু পিছন থেকে গলা ধরে ফুটপাতে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরে। ভিকটিম চিৎকার করতে গেলে আসামি তাকে কিল-ঘুষি মেরে ভয়ভীতি দেখালে ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন মজনু ভিকটিমকে অচেতন অবস্থায়ই ধর্ষণ করেন। সে একজন অভ্যাসগতভাবে ধর্ষণকারী। সে প্রতিবন্ধী, পাগল,  ভ্রাম্যমাণ মহিলার সম্মতি ব্যতীত এই অনৈতিক কাজ করে আসছে। ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় থাকে। তার স্থায়ী কোন বসবাসের জায়গা নেই। এর আগে র‌্যাব-১, উত্তরা এর সিপিসি-১ এর চৌকশ দল গত ৮ জানুয়ারি মজনুকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন শেওড়া বাস স্ট্যান্ডের পূর্ব পাশের পাকা রাস্তার উপর হতে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তি মতে ভিকটিমের ব্যাগ, মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি জ্যাকেট উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।  ঘটনার দিন আসামি ভিকটিমকে একা পেয়ে জোর করে ধরে ফুটপাতের পাশে বন-জঙ্গলের ভেতরে ফেলে ধর্ষণ করে।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি মজনু গ্রেপ্তার হয়। এরও আগে গত ৬ জানুয়ারি ভিকটিমের অধ্যক্ষ বাবা বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ