About Us
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Salman
প্রকাশ ১৯/১১/২০২০ ০৫:০২পি এম

কনসার্টের মৌসুম শুরু

কনসার্টের মৌসুম শুরু Ad Banner

বছর ঘুরে আবারও দোরগোড়ায় শীতকাল। উৎসব আয়োজনে ব্যস্ত থাকে এ সময়। এসব আয়োজনের বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে গানের কনসার্ট। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে শিল্পীরা প্রস্তুত থাকলেও বড় পরিসরে কনসার্ট আয়োজনের অনুমতি মেলেনি এখনও। অনেক শিল্পীর উপার্জনের সময়ও এই শীতকাল। কিন্তু করোনা এবার তা কেড়ে নিয়েছে।     

আবহাওয়াগত কারণে পৌষ ও মাঘ- এই দুই মাসকে শীতকাল হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে শীত স্থায়িত্ব থাকে। বৃষ্টিপাত হয় না বলে এ সময় আউটডোরে সব ধরনের আনন্দ আয়োজনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে অফিসের বার্ষিক অনুষ্ঠানগুলোও তাই এ সময়েই বেশি আয়োজিত হয়। তবে এসব আয়োজনের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে গানের অনুষ্ঠান অর্থাৎ কনসার্ট। এসব অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন শ্রোতাদের পছন্দের শিল্পীরা। 

বছরের অন্যান্য সময় নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিল্পীরা কিছুটা অলস সময় কাটালেও শীত মৌসুমে মঞ্চ মাতানো শিল্পীরা থাকেন তুমুল ব্যস্ত। তবে এবারের শীতকালটা কেমন যেন অচেনা সবার কাছে। কারণ করোনাভাইরাসের কারণে এভাবে সব কিছু বদলে যাবে, তা কারোরই অনুমানে ছিল না। গত শীত মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকেই লকডাউন ছিল সারা দেশে। তখন কয়েক মাস সব ধরনের কনসার্ট বন্ধ থাকলেও এখন ইনডোরে কিছু কিছু জায়গায় কনসার্ট হওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। 

কিন্তু সেগুলোর সংখ্যা হাতেগোনা। আউটডোরে অর্থাৎ উন্মুক্ত মঞ্চে কনসার্টের অনুমতি মেলেনি এখনও। তাই বাৎসরিক আয়ের জন্য কনসার্টের ওপর নির্ভরশীল শিল্পীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরাও এবার বেশ চিন্তিত। কবে নাগাদ শুরু হবে কনসার্ট- এমন প্রশ্ন তাদের নিত্য ভাবাচ্ছে। যে মৌসুমে তাদের গানে গানে মানুষকে মাতিয়ে রাখার কথা, ঠিক সেই মৌসুমটায় নাকি করোনাভাইরাসের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে। এমনিতেই কাজ নেই, তার ওপর উৎকণ্ঠা, সব মিলিয়ে শিল্পীদের অবস্থা অনেকটা নাজুক।   


শিল্পীদের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কাজ করা যন্ত্রশিল্পীরাও অলস সময় কাটাচ্ছেন। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে বেকায়দায় পড়েছেন সঙ্গীতাঙ্গনের পেশাদাররা। কেউ কেউ অডিওতে ব্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করলেও অনেকেই কর্মহীন। হাতেগোনা কয়েকজন শিল্পী মাঝে মধ্যে কর্পোরেট শো করলেও তার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। 

এভাবে চলতে থাকলে সঙ্গীতাঙ্গনের অনেকেই মানবিক সংকটে পড়বেন বলে ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও উন্মুক্ত মঞ্চে কনসার্ট করার বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই এখনও, তারপরও শিল্পীদের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে কেউ কেউ করোনার এ সময়ে মঞ্চে গান গাওয়ার বিপক্ষেও মতামত জানাচ্ছেন। 

মঞ্চে গান দিয়ে দর্শক মাতানো শিল্পী দিলশাদ নাহার কণা কনসার্টে অংশ নেয়ার জন্য পুরো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করছি স্টেজে গান গাওয়ার জন্য। প্রস্তুতি নিয়েই বসে আছি। অন্য বছরগুলোয় এ সময় প্রায় পুরো শীতকালের সিডিউল শেষ হয়ে যেত। কিন্তু এবার তার ছিটেফোঁটাও নেই। এভাবে যদি গানের অনুষ্ঠান বন্ধ থাকে তাহলে যারা এ গানকেন্দ্রিক উপার্জনকারী, তারা অনেক সমস্যায় পড়বেন।’ 

এদিকে মঞ্চ কাঁপানো আরেক গায়িকা আঁখি আলমগীর সীমিত পরিসরে ইনডোরে গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শুরু করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে কয়েকটি কর্পোরেট শোতে গান করেছি। তবে সংখ্যায় খুব কম। আগের বছরের তুলনায় শোয়ের প্রস্তাবও কম পাচ্ছি। করোনার প্রভাব নাকি শীতে আরও বৃদ্ধি পাবে। যদি তাই হয়, তাহলে তো আবারও লকডাউনের সম্ভাবনাও থাকতে পারে। তবে নিয়ম মেনে স্টেজ কনসার্টের সুযোগ দিয়ে দেখা দরকার।’   

শহর থেকে শুরু করে গ্রামে-গঞ্জে তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়েই স্টেজ কনসার্টে গান করেন মৌসুমী আক্তার সালমা। করোনার কারণে স্টেজ অনুষ্ঠান থেকে বিরত ছিলেন এ শিল্পী। কিন্তু অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছেন শিগগির। ২০ নভেম্বর থেকে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে গান গাইবেন তিনি। স্টেজে ফেরা প্রসঙ্গে সালমা বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করছি স্টেজে গাওয়ার জন্য। যদিও করোনার কারণে প্রস্তাবও কম পাচ্ছি। অডিও গান দিয়ে সংসার চলে না। আমাদের উপার্জনের বেশিরভাগই আসে স্টেজ কনসার্ট থেকে। কিন্তু সেগুলো বন্ধ থাকার কারণে আমার সঙ্গে যন্ত্রশিল্পীরাও দারুণ আর্থিক টানাপোড়েনে আছেন। এ অনুষ্ঠানটিতে গান করে বুঝতে চাই, পরিবেশ কেমন আছে এখন।’ 


তরুণ শ্রোতাদের পছন্দের শিল্পী হৃদয় খানও প্রস্তুত হয়ে আছেন স্টেজে ফেরার জন্য। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকদিন অপেক্ষা করলাম। এবার স্টেজে ফিরতে চাই। যদিও অডিও গান নিয়ে সারা বছরই ব্যস্ত থাকি আমি। তবে স্টেজে ফেরার জন্য মন আনচান করছে। আমার ভক্তরাও অপেক্ষায় আছেন। সব মিলিয়ে আমি স্টেজে ব্যস্ত হতে চাই।’ 

এ সময়ের জনপ্রিয় আরেক শিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি স্টেজে গান করছেন গত দু’মাস ধরেই। তবে এগুলো ইনডোর অনুষ্ঠান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি গানে একদমই অনিয়মিত ছিলাম না। করোনার মধ্যে অনেকেই যখন ঘরবন্দি, আমি তখন নতুন গানে কণ্ঠ দেয়ায় ব্যস্ত থেকেছি। মাঝে মধ্যেই ইনডোর অনুষ্ঠানে গান গাইতাম। কিন্তু উন্মুক্ত মঞ্চে গান গাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’ 

এসব শিল্পী ছাড়া আরও অনেক শিল্পীই এখন কনসার্টে গান গাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কনসার্ট আয়োজিত হোক, এটিই তাদের চাওয়া।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ