About Us
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Osman Goni
প্রকাশ ১৮/১১/২০২০ ০১:৫৫এ এম

কিশোর ‘গ্যাং’ লক্ষ্মীপুরে ওরা কারা !

কিশোর ‘গ্যাং’ লক্ষ্মীপুরে ওরা কারা ! Ad Banner

লক্ষ্মীপুরের প্রান্তিক জনপদ রায়পুরে সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকার রাজপথে মোটরসাইকেল স্টান্ট, বখাটেপনা, যত্রতত্র বিপজ্জনক ঘোরাঘুরি, এমনকি ছিনতাইয়ে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে উঠতি বয়সী এসব তরুণ ও যুবকরা। সম্প্রতি এদেরই একটি গ্রুপ কর্তৃক একজন যুবককে পিটিয়ে জখম ও মেয়েদের উত্তক্তের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও সচেতন মহল। বিভিন্ন এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী পরিবারের বখে যাওয়া কিশোর ও তরুণদের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়ে আসছে এসব গ্যাংয়ের অপতৎপরতা। গুরুত্বপুর্ণ স্থানে রাতের বেলায় এদের বিচরন দেখা যায়। এদের দমনে পুলিশ তৎপর হলেও সংশ্লিষ্টদের পরিবার রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় অনেক সময় এদের দমনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হয় না।     

সরজমিন অনুসন্ধানে রায়পুর উপজেলায় এরকম বেশ ক’টি কিশোর গ্যাংয়ের খোঁজ পাওয়া যায়। শহরসহ ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন এলাকায় তৎপর রয়েছে ওরা।     

রায়পুর শহরে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার নির্দশনায় পৃথক গ্যাং, দক্ষিন চরবংশী ইউপির মোল্লারহাটে তিন নেতার তত্বাবধানে, আখনবাজারে একটি গ্রুপ, উত্তর চরবংশী ইউপির খাসেরহাট বাজার, ভেরিবাধের উপর,উত্তর চরআবাবিল ইউপির উদমারা এলাকা, মিতালী বাজার, হায়দরগঞ্জ বাজারের কয়েকটি স্থানে, ক্যাম্পেরহাট বাজার, ঝাউডুগি এলাকা,চরমোহনা ইউপির ষ্টিলব্রিজ এলাকা, সোনাপুর ইউপির রাখালিয়া বাজারের কয়েকটি স্থান, বাসাবাড়ী বাজার এলাকা, বামনী ইউপির বাংলাবাজার ও কাফিলাতুলি বাজার, চরপাতা ইউপির বোয়াডার বাজার, গাজিনগর এলাকা, কেরোয়া ইউপির মীরগঞ্জ বাজার, পানপাড়া বাজারে, জোড়পুল এলাকা, সুনামগঞ্জ বাজার, ওয়াইজ্জার পুল, রায়পুর ইউপির সোলাখালী ব্রিজ এলাকা ও চালতাতুলি এলাকায় ১৫-২০ জনের গ্রুপ বিপথগামী কিশোর গ্যাংয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে।     

উপজেলাব্যাপী দাপিয়ে বেড়ানো এসব কিশোর গ্যাংয়ের সংগ্রহে রয়েছে বেশকিছু মোটরসাইকেল। এছাড়া ধারালো দেশীয় অস্ত্র, লেজার নিয়ন্ত্রিত ইন্ডিয়ান চাকু ব্যবহার করে বলে অভিযোগে প্রকাশ। ক্ষুদ্রাকৃতির এসব মরণাস্ত্র দিয়ে এরা ছিনতাইসহ মারামারি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে থাকে। যত্রতত্র রাজপথে দাপিয়ে বেড়ানো, মহড়া দিয়ে ভয় দেখানো, সিনিয়র সিটিজেনদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ, মাদক গ্রহণ, মদ্যপ অবস্থায় মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, এসব অপতৎপরতার কারণে অনেক এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।     

এছাড়া করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলো বন্ধ থাকায় এসব কিশোর ও যুবকরা এ ধরনের বিপথে পা বাড়িয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করেন। বেশিরভাগ কিশোর রাতের বেলায় তাদের তৎপড়তা দেখা যায়।   

সম্প্রতি বামনী ইউপির বাংলাবাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে তরুণ ব্যবসায়ী জাকারিয়া (২৫) নির্মমভাবে জখম হয়। এ ঘটনার কয়েকমাস আগে সাগর্দি গ্রামে এক স্কুল ছাত্রীকে উত্তক্তের ঘটনায় হামলা ও মামলাও হয়। তারপর থেকে নড়েচড়ে বসে থানা পুলিশ। মূলত এ ঘটনার পর থেকেই প্রকাশ্যে আলোচিত কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা।     এ ব্যাপারে রায়পুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু বলেন, মাদক ও ইভটিজিংসহ এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড রোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি আবশ্যক, পাশাপাশি প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক প্রশ্রয় বন্ধ করা প্রয়োজন।     

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিন চৌধুরী বলেন, প্রশাসন অপরাধীদের দমন করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এসব অপকর্ম রোধে সর্বাগ্রে পরিবার তথা অভিভাবকদের মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। যে পরিবারে শুদ্ধাচারের অনুশীলন রয়েছে সেখানকার কেউই বখাটে হতে পারে না। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও এসব প্রতিরোধে সহায়ক।   

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, অভিভাবকদেরকেই তাদের সন্তানদের বিষয়ে মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে। সন্ধার পর তার সন্তানরা কোথায় আছেন, তা খোঁজ রাখতে হবে। সকল সন্তানদের এক সাথে করে রাতের খাবার খেতে হতে পারে। সন্ত্রাস, মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রতিটি সভা, সমাবেশে ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সাথে তাদের সন্তানদের সচেতন করা হচ্ছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ