Feedback

সাহিত্য

আগামীর বঙ্গবন্ধু পর্ব- 2

আগামীর বঙ্গবন্ধু  পর্ব- 2
November 01
01:03am
2020
Abul Hasan Tuhen
Jashore shadre, Jashore -7400:
Eye News BD App PlayStore

দৃশ্য/১১/দিন/উন্মুক্ত স্থান  চরিত্রঃ সাদমান, শিশু কর্মকর্তা, ও কয়েক জন 

ফুটেজ সংযুক্ত :  সাদমানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ৭ মার্চ ভাষণ পরিবেশন করা ফুটেজ সংযুক্ত করতে হবে। অথবা সাদমান ৭ মার্চ ভাষণটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবে। 

কর্মকর্তাঃ উপস্থিত সুধিবৃন্দ বঙ্গবন্ধু ৭মার্চ ভাসন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করার কারণেই আজকে আমাদের এই ভাষণ প্রতিযোোিতার  আয়োজন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চ ভাষণ দেবেন জুনিয়র বঙ্গবন্ধু খ্যাত সাদমান আসছে জুনিয়র বঙ্গবন্ধু সাদমান। 

"আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি আজ ঢাকা চট্টগ্রাম রংপুর ও যশোরের রাজপথ আমার ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়। তারা অধিকার পেতে চায়। নির্বাচনে আপনারা সম্পূর্ণভাবেে আমাকে এবং আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন শাসনতন্ত্র রচনার জন্য। আশা ছিল জাতীয়় পরিষদ বসবে। আমারা  শাসনতন্ত্র তৈরি করব এবং এই শ্বসনতন্ত্রে মানুষ তাদের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তিলাভ করবে। কিন্তুুু ২৩ বছরের ইতিহাস বাংলার মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। হাজার ১৯৫২ সালে আমরা রক্ত দিয়েছি।১৯৫৪ নির্বাচনে জয়লাভ করেও ক্ষমতায় বসতে পারিনি।১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক আইন জারি করে আইয়ুব খান আমাদের ১০ বছর গোলাম করে রাখলো।১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেওয়া হলো এবং এরপর এই অপরাধে আমার বহু ভাইকে হত্যাা করা হলো।১৯৬৯ গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব খানের পতনের পর ইয়াহিয়া খান এলেন। তিনি বললেন , তিনি জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবেন। শাসনতন্ত্র দেবেন আমরা মেনে নিলাম পরের ঘটনাা সকলেই জানেন। ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনা হলোআমরা তাকে ১৫ ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকার অনুরোধ করলাম। কিন্তু মেজরিটি' পার্টির নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি আমাাার কথা শুনলে না। তিনি শুনলেন সংখ্যালঘু দলের ভুট্টো সাহেবের কথা। আমিি শুধু বাংলার মেজরিটি পার্টির নেতা নই সমগ্র পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা। ভুট্টো সাহেব বললেন মার্চের প্রথম সপ্তাহে  অধিবেশন ডাকতে, তিনি মার্চের ৩ তারিখে অধিবেেশন ডাকলেন। আমি বললাম তবুও আমরা জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের যাব এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়া সত্বে কেউ যদি ন্যায্য কথা বলে আমরা তা মেনে নেব, এমনকি তিনি যদি একজনও হন। ইয়ারা ভুট্টো ঢাকায় এসেছিলেন তার সঙ্গে আলোচনা হলো ভুট্টো সাহেব বলে গেছেন আলোচনার দরজা বন্ধ নয় আরো আলোচনা হবে। পশ্চিম পাকিস্তানী অন্যান্য পার্লামেন্টারি নেতারা এলেন। তাদের সঙ্গেে আলোচনা হলো, উদ্দেশ্য ছিল আলাপ-আলোচনা করে শাসনতন্ত্র রচনা করবো। তবে তাদের আমিি জানিয়ে দিয়েছি ৬ দফা পরিবর্তনের কোন অধিকার আমার নেই এটা জনগণের সম্পদ। কিন্তু  ভুট্টো হুমকি দিলেন তিনি বললেন, তিনি বললেন এখানে এসে ডবল জিম্মী' হতে পারবেন না।

পরিষদ কসাইখানা পরিণত হবে তিনি পশ্চিম  পাকিস্তানী সদস্যদের প্রতি হুমকি দিলেন যে, পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলে রক্তপাত করা হবে। তাদের মাথা ভেঙে দেওয়া হবে। হত্যা করাা হবে আন্দোলন শুরু হবে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত। একটি দোকানও খুলতে দেয়াা হবে না। তা সত্বেও ৩৫ জন পশ্চিম  পাকিস্তাানী সদস্য এলেন। কিন্তু পয়লা মার্চ ইয়াহিয়া খান পরিষদের অধিবেশন বন্ধ করে দিলেন। দোষ দেয়া হলো বাংলার মানুষকে দোষ দেয়া হলো আমাকে। বলা হলো আমার অনমনীয় মনোভাব জন্য কিছুই হয়নি। এরপর বাংলার মানুষ প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠলো আমি শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য হরতাল ডাকলাম। জনগণ আপন ইচ্ছায় পথে নেমে এলো। কিন্তু কি পেলাম আমরা? বাংলার নিরস্ত্র জনগণের উপর অস্ত্র ব্যবহার করা হলো। কিন্তু আমরা পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনে দিয়েছি বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য আজ সে অস্ত্র ব্যবহার করা হলো আমার নিরীহ  মানুষকে হত্যা করার জন্য। আমার দুঃখী মানুষজনতার উপর চলছে গুলী আমরা বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যখনই দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে চেয়েছি তখনই ষড়যন্ত্র চলেছে-আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ইয়াহিয়া খান বলেছেন, আমরা নাকি ১০ ই মার্চ গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করতে চেয়েছি। তার সাথে টেলিফোনে আলাপ হয়েছে।আমি তাকে বলেছি আপনি দেশের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসো আমার গরীব সাধারন কে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে আমি আগেই বলে দিয়েছি কোন গোলটেবিল বৈঠক হবে না কিসের গোলটেবিল? যারা আমার মা বোনের কোল শূন্য করেছে তাদের সাথে বসবো আমি গোলটেবিল বৈঠকে দেশের তারিখের পরে আমি অসহযোগের আহবান জানলাম। বললাম অফিস-আদালতে খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করুন আপনারা মেনে নিলেন। ইয়াহিয়া খান অধিবেশন ডেকেছেন। কিন্তু আমার দাবী সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে হত্যার তদন্ত করতে হবে তারপর বিচার করে দেখব পরিষদে বসবো কি বসনো না এ দাবী মানার আগে পরিষদে বসার কোন প্রশ্নই ওঠে না জনগণ আমাকে সে অধিকার দেয়নি। রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি।শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে ২৫ তারিখে পরিষদে যোগ দিতে যাব না ভাইয়েরা আমার উপর বিশ্বাস আছে আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না মানুষের অধিকার চাই।আজ থেকে কোর্ট-কাচারী হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্ট অফিস-আদালত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। কোন কর্মচারী অফিস যাবেন না। এ আমার নির্দেশ। গরিবদের যেন কষ্ট না হয় সেই জন্য রিক্সা চলবে। ট্রেন চলবে। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট জজকোর্ট সহ সরকারী আধা-সরকারী এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো বন্ধ থাকবে শুধু পূর্ব বাংলার আদান-প্রদানের ব্যাঙ্কগুলো দু-ঘন্টার জন্য খোলা থাকবে পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে টাকা যেতে পারবে না টেলিগ্রাফ টেলিফোন বাংলাদেশের মধ্যে চালু থাকবে তবে সাংবাদিকরা বহির্বিশ্বে সংবাদ পাঠাতে পারবে আপনার নির্ধারিত সময়ে বেতন নিয়ে আসবেন যদি একটিও গুলী চলে তাহলে বাংলার ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তুলবেন যারা যার যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে রাস্তা ঘাট বন্ধ করে দিতে হবে আমরা তাদের ভাতে মারবো। পানি দেওয়ার জন্য আমি যদি না থাকি আমার সহকর্মীরা যদি না থাকেন আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তোমরা আমার ভাই তোমরা ব্যারাকে থাকো কেউ কিছু বলবেনা সাত কোটি মানুষকে আর দাবীয়ে রাখতে পারবা না। তোমরা আমার ভাই তোমরা ব্যারাকে থাকো কেউ কিছু বলবেনা সাত কোটি মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবা না। বাঙ্গালী মরতেশিখেছে তাদের কেউ দাবাতে পারবে না। শহীদদের ও আহতদের পরিবারের জন্য আওয়ামী লীগ সাহায্যে কমিটি করেছে।

আমরা সাহায্যের চেষ্টা করবো। আপনারা যে যা পারেন দিয়ে যাবেন। প্রত্যেক গ্রামে মহল্লায় ইউনিয়নেআওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গড়ে তুলুন। হাতে যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেবো, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।" ( সবাই একসাথে বলবে" জয় বাংলা "মঞ্চ শিশু কর্মকর্তা এসে বলবে)

শিশু কর্মকর্তাঃ আমরা এতক্ষন বন্ধুর সাতই মার্চ ভাষণ শুনলাম এর আগে যারা ভাষণ দিয়েছে সব মিলে বিচারকদের মূল্যায়নে সাদমানকে বিজয়ী ঘোষনা করছি। আজকের বিজয়ী সাদমানের হাতে সনদপত্র এবং  ক্রেস্ট তুলে দেেওয়া হচ্ছে। এসো সাদমান। (সাদমান পুরস্কার গ্রহণ করবে সকলে তালি দেবে লাইট অফ সকলে  প্রস্থান) 

দৃশ্য\ ১২\  দিন\  বাড়ির ছাদ চরিত্র: সাদমান , স্বপন,  দেখা যাবে স্বপন সাদমানের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্ততর দিচ্ছে 

সাদমানঃ আচ্ছা আপা এবং বন্ধুর সাথে মাছ ভাষণ কত মিনিটের

স্বপনঃ এটা ১৮ মিনিটের। সাদমান যে জায়গাটায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দিয়েছিলেন সে জায়গাটার নাম কি?

স্বপনঃ বঙ্গবন্ধুুুু যখন ভাষণ দিয়েছি তখন ওই জায়গাটার নাম ছিল রেসকোর্স ময়দান। বর্তমান নাম সরোয়ারর্দী  উদ্যান।

সাদমানঃ আব্বা বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণে প্রথমেই তো দেখেছি "আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি আজ ঢাকা চট্টগ্রাম রংপুর ও যশোরের রাজপথ আমার ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে।"যশোরে ৭ই মার্চ ভাসণের আগে কি  হয়েছিল বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বলেছেন। 

স্বপনঃ পাকিস্থানীদের অন্যায় অত্যাচার জুলুমের বিরুদ্ধে সারাদেশের মতো যশোরে সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ।সেদিন ছিল ৩ মার্চ পাকবাহিনী অতর্কিত গুলি চালায় সেই গুলিতে নিহত হন চারুবালা। লাশ নিয়ে সমস্ত শহরে মানুষ বিক্ষোভ এবং মিছিল বের করে। তিনি হলেন সারা বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম শহীদ।

সাদমানঃ এইজন্য বঙ্গবন্ধুুুু ভাষণে যশোরের নাম বলেছেন।

স্বপনঃ একদম ঠিক।

সাদমানঃ রাস্তায় বেরোলে এখন সবাই আমাকে ঘিরে ধরে। সবাই আমাকে ভালোবাসে। পার্কে বেড়াতে গেলে বাদামওয়ালা চকলেট ওয়ালা আমাকে জোর করে চকলেট বাদাম বাদাম দেয়। কিন্তু তুমি ওদেরকে দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে দেবে কারণ ওরা গরিব মানুষ। ওদের তো সংসার চালাতে হয়়় তাই না।

স্বপনঃ ঠিক আছে কেউ এমন কিছু দিলে  আমি টাকা দিয়ে দেব।

সাদমানঃ দড়াটানা মোড়ে বেনিফেজ নামে একটা  শীতবৃক্ষ তৈরি করেছে আমি দেখেছি সেখানে সব শীতের কাপড় ঝুলিয়ে রাখা হয় ওখান থেকে সব গরিব মানুষেরা শীতের কাপড় নিয়ে যায় আমাদের বাড়িতে যত পুরাতন শীতের কাপড় আছে আজকে বিকালে আমরা নিয়ে ওখানে ঝুলিয়ে দেবো।

স্বপনঃ এত চিন্তা তোমার মাথার ভিতরে আসে কিভাবে?

সাদমানঃ বঙ্গবন্ধুধু যে কাজগুলো করত সে কাজগুলো তো আমাকেই করতে হবে। আব্বা তুমি  বলেছিলে বঙ্গবন্ধুর ছোটবেলার  গল্প শোনাবে। একটা গল্প শোনাও না প্লিজ।

স্বপনঃ ছোটবেলায় বঙ্গবন্ধুর মা বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাস করছেন আরে খোকা তোর আব্বা সেদিন তোকে নতুন বই কিনে দিল সে বইগুলো কোথায়?  তাছাড়া তোর গায়ের চাদর তো দেখছি না।

সাদমানঃ তখন বঙ্গবন্ধু  বললেন?

স্বপনঃ বঙ্গবন্ধু বললেন মা আমার একটা বন্ধু আছে প্রতিদিন শিক্ষক কাকে মারে কারণ তার বই নেই সে পড়া পারেনা এজন্য আমার বইগুলো কিনে দিয়েছি কারণ আব্বা পরে আমাকে নিতে পারবে আমি তো গরিব মানুষ বই কিনতে পারছে না আর সেদিন পথে আসছি দেখলাম যে একটা বৃদ্ধ চাচা শীতে কাঁপছে তাই আমার গায়ে চাদরটা কে খুলে দিয়েছি কি ভালো করিনি।

সাদমানঃ তখন বঙ্গবন্ধুর মা বঙ্গবন্ধুকে বকা দেয় নি। স্বপনঃ না তিন ছেলের এই মানবদরদী দেখে খুশি হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন খুব ভালো করেছো কিন্তু  আমরাও তো গরিব মানুষ।আজ বঙ্গবন্ধুর গল্প এপর্যন্তই থাক সময় পেলে আবার শোনাবো।

সাদমানঃ বঙ্গবন্ধুর মতো হতে গেলে আমাকেও তো এই ধরনের কাজ করতে হবে তাই না আব্বা। তাহলে চলো ঘরে গিয়ে শীতের কাপড় গুলো গুছিয়ে বেনিফেজের  শীত বৃক্ষে দিয়েে আসি। (দুজনে ধীরে ধীরে মঞ্চ থেকে বের হয়ে যাবে) 

দৃশ্য\ ১৩\  দিন\  বাড়ির ছাদ চরিত্র: সাদমান , স্বপন, সাংবাদিক, রনি  দেখা যাবে সাংবাদিক সাদমানের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবে, রনি সেগুলো ক্যামেরায়়় ধারন করবে। 

সাংবাদিক: আচ্ছা আপনি তো সাদমানের চাচা। আমরা শুনেছি আপনার অনুপ্রেরণায় সাদমান বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি সুন্দরভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে  উপস্থাপন করছে। স্বপন : ধন্যবাদ আপনার ঠিকই শুনেছেন আসলে ও একদিন টেলিভিশন চ্যানেল ঘুরাতে ঘুরাতে বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণ একটি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে ওখানে এসে স্থির হয়ে যায়। ভাষণটি ও মনোযোগ সহকারে দেখে এবং শোনে ভাষণ শেষে আমার কাছে এ বিষয়ে জানতে চায় আমি ওর সমস্ত প্রশ্নগুলো উত্তর দিই, তখন বঙ্গবন্ধুর প্রতি একটা ভালোবাসার জন্ম নেয় এবং সে নিজেকে জুনিয়র বঙ্গবন্ধু ভাবতে শেখে ও বলে যে আমি বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি পাঠ করবো। এভাবে ওর পথ চলা শুরু।

সাংবাদিক: সাদমান আমি শুনেছি তুমি নিজেকে জুনিয়র বঙ্গবন্ধু বলতে গর্ববোধ করো  তোমাকে সবাই  জুনিয়র লিডার বলেও ডাকে।

সাদমান :  আমিতো জুনিয়র বঙ্গবন্ধু। 

সাংবাদিক : মৃদুু হেসে ঠিকই তো তুমি জুনিয়র বঙ্গবন্ধু তবে তোমাকে দেখে খুব ভালো লাগলো আচ্ছা তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

সাদমান: আমি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হব। তার আগে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানার সামনে আমি ৭ই মার্চের ভাষণটি দিতে চাই।

সাংবাদিক:  ও আচ্ছা ঠিক আছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলে তুমি বাংলাদেশের মানুষের জন্য কি কি করতে চাও।

সাদমান: আমি দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের দরিদ্র শিশুদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেব। যারা বঙ্গবন্ধুর ছোট্ট ছেলে রাসেল কে হত্যা করেছে তাদের বিচার করবো যাতে করে রাসেলের মতো কোনো শিশুকে আর জীবন দিতে না হয়।

সাংবাদিক:  ছোট্ট ছেলে সাদমান বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা এবং তার অফুরন্ত প্রাণশক্তি দেখে আমরা মুগ্ধ, আমরা আশা করছি আমাদের আগামীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে এই সাদমানরা এই আমাদের প্রত্যাশা। (প্রস্থান)       

দৃশ্য \ ১৪\  দিন \ সাদমানের স্কুল চরিত্র: সাদমান, স্বপন ,শিক্ষকা, সাংবাদিক  দেখা যায় সাংবাদিক প্রধান শিক্ষকের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছে   

সাংবাদিকঃ ম্যাডাম আমরা জেনেছি সাদমান বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে এবং সে ভবিষ্যতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ব্যক্ত করেছে, এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

শিক্ষকা :  সাদমানের এই সাহসিকতায় আমরা মুগ্ধ, আগামীতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চায় এজন্য আমি তাকে দোয়া করি এবং আমার পক্ষ থেকে তার লেখাপড়া এবং তাকে পরিপক্ক করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা আমি করব এবং আমারা স্কুলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি পরিবেশনের সুযোগ করে দিয়েছি। ছাত্রছাত্রীরা তাকে দেখে আরও উজ্জীবিত হচ্ছে। এটা দেখে তাদের মধ্যে দেশত্ববোধ জাগ্রত হবে, সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠা হবে এবং এটা অব্যাহত থাকবে।

সাংবাদিকঃ ধন্যবাদ স্যার, সাদমানের আশা পূরণ হোক আমরা এই কামনা করি।  একই সাথে নিবেদন করছি, সাদমানকে বঙ্গবন্ধুর মহান আদর্শে গড়ে তোলার জন্য সার্বিক সহযোগিতা এবং তার প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ দেয়া হোক। সাদমানের মতো শিশুরাই আগামী বাংলাদেশের কর্ণধার তাদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে আমাদের আগামীর বংগবন্ধু । জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধুর শক্তি এখন অনেক বেশি। আমরা তাঁর আদর্শকে সমুন্নত রাখি আমাদের আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলি। স্যালুট আগামীর বঙ্গবন্ধুদের। (গানের মাধ্যমে কোরিওগ্রাফি  হবে)  "গান"           ওরে শুনে যা শুনে যা কান খুলে,                                             
লজ্জা হয়েছে তোদের সেইনা পাপের ভুলে,                                 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছে ঘরে ঘরে,                                   
কি লাভ পেলি খুনি শয়তানেরা তাঁকে হত্যা করে।।   
দূর ওপারের বঙ্গবন্ধুর শক্তি অনেক বেশি,                                 
পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠ  আসনে তিনিই তো বাংলাদেশি,                   

তাঁর আহবান রক্ত কণায় এখনও হৃদয় ভরে।।                 

দূর উপারের বঙ্গবন্ধু বাংলার রবি শশী,                                 

প্রেমের আলোয় ভরে দিয়েছেন দেখ একটু বসি,                               

সোনার বাংলা সাজানো যে তাঁর আছেন দূরে সরে।।                                                   

।।  সমাপ্ত ।। রচনা কাল ২৫-১০-২০১৯ শুক্রবার

All News Report

Add Rating:

0

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

নুরু মন্ডল মারা গেছেন

নুরু মন্ডল মারা গেছেন

ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বালা

ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বালা

সরিষাবাড়ীতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

সরিষাবাড়ীতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

অত্যাধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা থাকছে হাবিপ্রবির নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবনে

অত্যাধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা থাকছে হাবিপ্রবির নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবনে

ব্যাডমিন্টন খেলায় বিদ্যুতিক লাইন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ সরকার কর্তৃক অনুমোদনের দাবি

ব্যাডমিন্টন খেলায় বিদ্যুতিক লাইন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ সরকার কর্তৃক অনুমোদনের দাবি

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জে মহিলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জে মহিলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ

ফেইসবুকে ফেইক আইডি খুলে স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত আটক ১

ফেইসবুকে ফেইক আইডি খুলে স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত আটক ১

স্টুডিও ভক্স এর রেজিষ্ট্রেশন শুরু ১৫ই ডিসেম্বর থেকে

স্টুডিও ভক্স এর রেজিষ্ট্রেশন শুরু ১৫ই ডিসেম্বর থেকে

হিন্দি বলতে না পারায় সিনেমা থেকে বাদ দেন জন, তারই নায়িকা হয়ে বদলা নেন ক্যাটরিনা

হিন্দি বলতে না পারায় সিনেমা থেকে বাদ দেন জন, তারই নায়িকা হয়ে বদলা নেন ক্যাটরিনা

সগিরা মোর্শেদ হত্যা: ৩০ বছর পর আবারো হত্যা মামলার বিচারকার্য কাজ শুরু

সগিরা মোর্শেদ হত্যা: ৩০ বছর পর আবারো হত্যা মামলার বিচারকার্য কাজ শুরু

জেনে নিন কী কী গুণ রয়েছে গোলমরিচে

জেনে নিন কী কী গুণ রয়েছে গোলমরিচে

করোনা নিয়ে মুখ খুলছে উহান, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কেটেছে

করোনা নিয়ে মুখ খুলছে উহান, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কেটেছে

কঙ্গনাকে বয়কটের ডাক

কঙ্গনাকে বয়কটের ডাক

পৃথিবীর সব মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে: আ ক ম মোজাম্মেল হক

পৃথিবীর সব মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে: আ ক ম মোজাম্মেল হক

নভেম্বরে ৪৪৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৬ নিহত ৭৪১ আহত : যাত্রী কল্যাণ সমিতি

নভেম্বরে ৪৪৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৬ নিহত ৭৪১ আহত : যাত্রী কল্যাণ সমিতি

সর্বশেষ

প্রতি ১০ মিনিটে একটি শিশু মারা যাচ্ছে ইয়েমেনে

প্রতি ১০ মিনিটে একটি শিশু মারা যাচ্ছে ইয়েমেনে

জামালপুরের ভ্যান চালক শম্পার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জামালপুরের ভ্যান চালক শম্পার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

আসছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ

আসছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ

ধুনট,বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধিতার প্রতিবাদে যুবলীগের বিক্ষোভ।

ধুনট,বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধিতার প্রতিবাদে যুবলীগের বিক্ষোভ।

শিবগঞ্জে আ‘লীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু‘গ্রুপের সংঘর্ষ: আহত ১০ জন

শিবগঞ্জে আ‘লীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু‘গ্রুপের সংঘর্ষ: আহত ১০ জন

কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মোটর সাইকেল আরোহী

কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মোটর সাইকেল আরোহী

বেতন বৈষম্য নিসরনের দাবিতে সিলেটে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি

বেতন বৈষম্য নিসরনের দাবিতে সিলেটে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি

১৬ জানুয়ারি ভোট হবে যে ৬১ পৌরসভায়

১৬ জানুয়ারি ভোট হবে যে ৬১ পৌরসভায়

সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারীর সম্মাননা পেল সিলেটের ১০ প্রতিষ্ঠান

সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারীর সম্মাননা পেল সিলেটের ১০ প্রতিষ্ঠান

র‌্যাবের অভিযানে সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে মদ-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৮

র‌্যাবের অভিযানে সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে মদ-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৮

এমসি কলজে ধর্ষণ মামলায় চার্জশিট আগামীকাল দেবে পুলিশ

এমসি কলজে ধর্ষণ মামলায় চার্জশিট আগামীকাল দেবে পুলিশ

৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও পাক-হানাদার মুক্ত দিবস

৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও পাক-হানাদার মুক্ত দিবস

শ্যামনগর আটুলিয়ায় চক্ষু চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প

শ্যামনগর আটুলিয়ায় চক্ষু চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প

পূণরায় নিস্ক্রিয়রা স্থান পেয়েছে রংপুর মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন

পূণরায় নিস্ক্রিয়রা স্থান পেয়েছে রংপুর মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন

সড়ক দুর্ঘটনা

সড়ক দুর্ঘটনা